নেতৃবৃন্দের মানহানি ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে হেফাজতে ইসলাম থেকে বহিষ্কার

গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলূম খিলগাঁওয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।
বৈঠকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী কর্তৃক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এবং মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা করে এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, অনলাইনে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অপবাদ প্রদান এবং মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে আমিরে হেফাজতের নির্দেশে হেফাজতে ইসলাম ভোলা জেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক পদ ও সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও বিকৃত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মানহানি, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং সংগঠনের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি সত্য ও ন্যায়ের পরিপন্থী এবং মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরের গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বমুহূর্তে মামলার বাদী মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার জন্য দেশি-বিদেশি একটি চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
দেশবাসী ও সর্বস্তরের তাওহিদি জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো গুজব, অপপ্রচার বা যাচাইবিহীন তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য, সচেতনতা ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে। ইসলামবিদ্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ যেন কেউ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। ভবিষ্যতে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রম, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কিংবা হেফাজতের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংগঠনের মহাসচিবের নিকট লিখিতভাবে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— হেফাজতের নায়েবে আমির মুফতি জসিম উদ্দিন, আল্লামা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী, অর্থ সম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, সহকারী অর্থ সম্পাদক মুফতি সালাহউদ্দীন, মুফতি কামাল উদ্দীন, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুফতি শরিফুল্লাহ, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মাওলানা যোবায়ের আহমাদ, মাওলানা শাব্বির আহমাদ, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা আল-আমিন ফয়জী, মুফতি আল-আমিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।








