নানুপুর-খিরাম সড়ক প্রশস্তকরণে গাছ উজাড়: ‘এত কিছু দেখলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে’ — উপজেলা প্রকৌশলী

ফটিকছড়ির নানুপুর-খিরাম ইউনিয়ন পরিষদ সড়কে চলছে প্রশস্তকরণ কাজ। প্রায় ৮ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে এখন স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। কারণ, সড়কের দুই পাশে থাকা কয়েক শ গাছ ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোম ও মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে উন্নয়নকাজের পাশাপাশি চলছে গাছ কাটার দৃশ্য। কোথাও পড়ে আছে কাটা গাছের গোড়া, কোথাও ছড়িয়ে রয়েছে ডালপালা। দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা সারিবদ্ধ গাছগুলোর অধিকাংশই আর নেই। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হয়েছে।
কেটে নেওয়া গাছগুলো স্থানীয় আলমগীর কনট্রাক্টর নামে এক সমিল মালিকের কারখানায় টুকরো করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সমিলে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়ক প্রশস্তকরণ প্রয়োজনীয় হলেও এভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। গরমের সময় এসব গাছ পথচারীদের ছায়া ও স্বস্তি দিত বলেও জানান তাঁরা।
অভিযোগ উঠেছে, সড়কের পাশের গাছ কাটতে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি অফিস। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, "সরকারি সড়কের একটি গাছ কাটতেও অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এসব বিষয় নিয়ে এত কিছু দেখতে গেলে সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা গাছের স্ব-স্ব মালিকপক্ষকে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি।"
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স ডেল্টা করপোরেশন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ ছফা ভুট্টু বলেন, "সড়কের পাশের গাছ কাটতে দেখেছি। আমরা জেনেছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, "সরকারি সড়কের পাশে যে কেউ গাছ লাগাতে পারেন, কিন্তু ইচ্ছামতো গাছ কর্তন করতে পারেন না। কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে নিলামে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।"








