নবী ও সাহাবিদের বিষয়ে ওলামায়ে দেওবন্দ তথা হেফাজতের আকিদা-বিশ্বাসই আমাদের আকিদা-বিশ্বাস: আমিরে হেফাজতের সাক্ষাৎ শেষে মাওল...
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

নবী ও সাহাবিদের বিষয়ে ওলামায়ে দেওবন্দ তথা হেফাজতের আকিদা-বিশ্বাসই আমাদের আকিদা-বিশ্বাস: আমিরে হেফাজতের সাক্ষাৎ শেষে মাওলানা মামুনুল হক

নবী ও সাহাবিদের বিষয়ে ওলামায়ে দেওবন্দ তথা হেফাজতের আকিদা-বিশ্বাসই আমাদের আকিদা-বিশ্বাস: আমিরে হেফাজতের সাক্ষাৎ শেষে মাওলানা মামুনুল হক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সংগঠনের ঐক্য ও আকিদাগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ মে) সকালে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, “হেফাজতে ইসলামে কোনো প্লাস-মাইনাস নেই। এসব কথা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। আকিদার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য একটি মহল অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি রাজনৈতিক দল, আর হেফাজতে ইসলাম আকিদাভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠন। রাজনৈতিক ঐক্যের জন্য আমরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ১১-দলীয় জোট করি। সেটা রাজনৈতিক ঐক্যমত। কিন্তু আকিদার জায়গায় হেফাজত এক ও অভিন্ন।”

তিনি ইতিহাস স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আমাদের পূর্বসূরিরা বিভিন্ন সময় দেশ, জাতি ও বৃহত্তর স্বার্থে অমুসলিমদের সাথেও জোটবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।

এ সময় আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভেদের গুঞ্জন নাকচ করে বলেন, “হেফাজতে কোনো বিভেদ নেই। ইসলাম রক্ষার প্রশ্নে আমরা সবাই এক।”

এর আগে সকাল ৯টা থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে সংগঠনের ঐক্য রক্ষা ও চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি আল্লামা জসীম উদ্দিন, মাওলানা মাহফুজুল হক, আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা বশিরুল্লাহ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠককে ঘিরে বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বৈঠক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে।

কিছুদিন পূর্বে হেফাজতে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত দলগুলো নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে জামায়াতের সঙ্গে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়। দুই দিন পূর্বে ওই কমিটির ৭ সদস্যসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ঢাকায় বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে একাধিকবার বলেছি, আজকে আবার বলছি, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদাই আমাদের আকিদা। ওলামায়ে দেওবন্দ তথা আমিরে হেফাজতের যে কথা, সেটাই আমাদের কথা। মুরুব্বিদের কথার বাইরে আমরা নই। মুরুব্বিদের কথার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে।”

তিনি আরও বলেন, “হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ও ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি। এখনো সফল হবে না।”




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।