তথ্য সংগ্রহে হাটহাজারীতে সাংবাদিক হেনস্তা, বন কর্মকর্তার ঔদ্ধত্য
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

তথ্য সংগ্রহে হাটহাজারীতে সাংবাদিক হেনস্তা, বন কর্মকর্তার ঔদ্ধত্য

তথ্য সংগ্রহে হাটহাজারীতে সাংবাদিক হেনস্তা, বন কর্মকর্তার ঔদ্ধত্য
ছবি সংগৃহীত।
  • আপনারা কোন লিস্টে আছেন
  • এখানে অনেকেই মাসোহারা নেন।
  • আপনারা কোন দলে আছেন?

হাটহাজারীতে সরকারি দপ্তরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তা ও অপদস্থের শিকার হয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। বন বিভাগের এক কর্মকর্তার ‘মাসোহারা’ ও ‘লিস্ট’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে হাটহাজারী ফরেস্ট বিট কাম চেক স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন স্টেশন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, জব্দকৃত কাঠের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের জন্য কয়েকজন সংবাদকর্মী বন বিভাগের ওই দপ্তরে যান। শুরুতে কর্মকর্তা লুৎফর রহমান অফিসে উপস্থিত না থাকলেও পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সেখানে আসেন। তবে তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পেশাগত পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, আপনারা কোন লিস্টে আছেন? এখানে অনেকেই মাসোহারা নেন। আপনারা কোন দলে আছেন?

এ সময় বন বিভাগের সীমানায় প্রবেশ ও ছবি তোলা নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন। ছবি তোলাকে ‘আইনত নিষিদ্ধ’ দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের ধমক দেন বলেও অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমার অনেক বন্ধু বড় বড় পত্রিকায় কাজ করেন। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলে তারপর আপনাদের জানাব।

একজন সরকারি কর্মকর্তার মুখে ‘মাসোহারা’ ও ‘লিস্ট’ নিয়ে এমন মন্তব্যে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনিয়মের ইঙ্গিতই ফুটে উঠেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তথ্য ও বক্তব্যের জন্য সাংবাদিকরা যেকোনো সরকারি দপ্তরে যেতে পারেন। কোনো দপ্তরে প্রবেশে বিশেষ অনুমতি লাগে-এমন কোনো নিয়ম নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করা মোটেও সমীচীন হয়নি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। সংবাদ লেখা পর্যন্ত বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি চলছিল।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।