টেকনাফে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জেলের পা বিচ্ছিন্ন, শিশুর সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি জেলের পা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আরাকান আর্মির গুলিতে এক শিশু আহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুরে হোয়াইক্যংয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তের নাফ নদীর একটি দ্বীপে মাছ ধরতে গিয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের শিকার হন মো. হানিফ (২৭) নামের এক জেলে। লম্বাবিল গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে হানিফ বিস্ফোরণে তার বাম পা হারিয়েছেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি সীমান্তে এসব মাইন পুঁতে রাখছে।
এর আগে গতকাল রবিবার সকালে হোয়াইক্যং সীমান্তের তেচ্ছীব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে নয় বছর বয়সী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান গুরুতর আহত হয়। বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ ওপারের গুলি এসে তার শরীরে বিদ্ধ হয়। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুরে হোয়াইক্যং সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করেন। সভায় বক্তারা আহত শিশু আফনান ও জেলে হানিফের উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। পরে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুনাইদ আলী চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে দাবি আদায়ের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ৬৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিনায়কের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সরেজমিনে সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, রবিবার মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ৫০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে বিজিবি।







