টেকনাফে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জেলের পা বিচ্ছিন্ন, শিশুর সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন

টেকনাফে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জেলের পা বিচ্ছিন্ন, শিশুর সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ

টেকনাফে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জেলের পা বিচ্ছিন্ন, শিশুর সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

 মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি জেলের পা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আরাকান আর্মির গুলিতে এক শিশু আহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুরে হোয়াইক্যংয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তের নাফ নদীর একটি দ্বীপে মাছ ধরতে গিয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের শিকার হন মো. হানিফ (২৭) নামের এক জেলে। লম্বাবিল গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে হানিফ বিস্ফোরণে তার বাম পা হারিয়েছেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি সীমান্তে এসব মাইন পুঁতে রাখছে।

এর আগে গতকাল রবিবার সকালে হোয়াইক্যং সীমান্তের তেচ্ছীব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে নয় বছর বয়সী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান গুরুতর আহত হয়। বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ ওপারের গুলি এসে তার শরীরে বিদ্ধ হয়। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুরে হোয়াইক্যং সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করেন। সভায় বক্তারা আহত শিশু আফনান ও জেলে হানিফের উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। পরে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুনাইদ আলী চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে দাবি আদায়ের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ৬৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিনায়কের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সরেজমিনে সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, রবিবার মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ৫০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে বিজিবি।




কক্সবাজারে শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

কক্সবাজারে শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারে শিশু সুরক্ষা জোরদার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার শহরের হোটেল সি উত্তরা-য় আমাল ফাউন্ডেশনের চাইল্ড সেফটি নেট প্রকল্পের (সিএমপিএল) উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিশু সুরক্ষা জোরদারকরণ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আমাল ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের প্রকল্পের কার্যক্রম এবং শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে না এলে এর কারণ খুঁজে দেখা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো প্রয়োজন। শিক্ষার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, বাল্যবিবাহের সঙ্গে দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক অসচেতনতার মতো বিষয় জড়িত। তাই শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও পরিবারকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার আওতায় আনতে হবে।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিশোরীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন করতে হবে। কোনো পরিবারে বিয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আগেই বিষয়টি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী মো. আরিফ উল্লাহ বলেন, শিশু সুরক্ষায় তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের ঝুঁকি শনাক্ত করতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের কারণ ও স্থানীয় বাস্তবতা নিয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের মনিটরিং অফিসার বেঞ্জিন শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মসূচির অগ্রগতি ও ঘাটতি চিহ্নিত করতে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের আগেই শনাক্ত করে শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

সভায় শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও পরিবারের তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট সানজিদা আলম, স্টুডেন্ট নিউজের উপজেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন, কোস্টাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের সদস্যসচিব জিয়াউল কবির, প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।




চকরিয়ায় প্রসূতিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যক্যাম্প অনুষ্ঠিত

চকরিয়ায় প্রসূতিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারায় গর্ভবতী নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে এক স্বাস্থ্যক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কাকারা সীরাতুল মোস্তাকিম মডেল বালিকা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘পল্লী চিকিৎসক সমিতি, কাকারা সুরাজপুর-মানিকপুর’-এর আয়োজনে এবং চকরিয়া এভারগ্রীন হাসপাতালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্ব ও উদ্বোধনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কাকারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী কফিল উদ্দিন আজাদ। কর্মসূচি পরিচালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কান্তি রুদ্র।

স্বাস্থ্যক্যাম্পে প্রসূতি ও অন্যান্য নারী রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক ডা. সিরাজুম মনিরা ও ডা. সুমাইয়া শারমীন প্রমা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে দরিদ্র ও প্রসূতি নারীদের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এলাকার প্রসূতি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে এ ধরনের বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে এলাকার বিপুলসংখ্যক নারী উপস্থিত হয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।




পূর্ব বড় ভেওলা ইউপিতে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ কলিম উল্লাহ

পূর্ব বড় ভেওলা ইউপিতে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ কলিম উল্লাহ
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট সমাজসেবক হাফেজ মো. কলিম উল্লাহর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জুমাবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে চরপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন নূরানী মাদ্রাসার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই জমায়েতে এলাকার সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, মাতামুহুরী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ফরিদুল আলম, দক্ষিণ জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মোজাম্মেল হক এবং উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুব বিভাগের সভাপতি ওমর আলী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি জাফর আলম, বিএমচর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ইসমত উল্লাহ, শাহারবিলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আলেমে দ্বীন মাওলানা শিব্বির আহমদ ওসমানী এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ আলম।

পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জিয়াউল করিম আজমের সঞ্চালনায় সভাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।