জামিনের শর্ত ভঙ্গ: পলাতক দুই আসামির বন্ডের টাকা আদায় করলেন চট্টগ্রাম আদালত
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

জামিনের শর্ত ভঙ্গ: পলাতক দুই আসামির বন্ডের টাকা আদায় করলেন চট্টগ্রাম আদালত

জামিনের শর্ত ভঙ্গ: পলাতক দুই আসামির বন্ডের টাকা আদায় করলেন চট্টগ্রাম আদালত
ছবি সংগৃহীত।

 চট্টগ্রামে জামিন নিয়ে পলাতক থাকা দুই আসামির কাছ থেকে বন্ডের অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নজিরবিহীন আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দেউলিয়া বিষয়ক আদালত, চট্টগ্রামের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আহমেদ সাইদ এই আদেশ কার্যকর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মামলার দুই আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে পলাতক হন। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৯ ও ৫১৪ অনুযায়ী বন্ড ভঙ্গের শামিল। পরবর্তীতে আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে পুনরায় আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের পূর্ববর্তী জামিন বন্ডের অর্থ জরিমানাস্বরূপ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার দুই আসামির পক্ষে তাদের নিযুক্ত আইনজীবীরা মোট ৩০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। এর মধ্যে এক আসামির পক্ষে ২০ হাজার এবং অন্যজনের পক্ষে ১০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, "জামিন আদালতের দেওয়া একটি আস্থা। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৪ ধারা অনুযায়ী কেউ এই আস্থার অপব্যবহার করলে বন্ডের টাকা আদায় করা রাষ্ট্রের আইনগত দায়িত্ব। এই আদেশের মাধ্যমে বিচারিক শৃঙ্খলা ও আদালতের মর্যাদা সুসংহত হয়েছে।"

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ রাজু বলেন, "জামিন মানে দায়মুক্তি নয়, এটি শর্তসাপেক্ষ স্বাধীনতা। আদালতের এই সিদ্ধান্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।" আইনজ্ঞরা মনে করছেন, চট্টগ্রামে জামিনের অপব্যবহার রোধে এই কঠোর অবস্থান একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব : আইনমন্ত্রী

মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব : আইনমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

মানুষের পাহাড় সমান প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যারা ১৭ বছর ধরে জীবন দিয়েছেন, তাদের কথা স্মরণে রেখেই কাজ করব। চ্যালেঞ্জ আছে। মানুষের পাহাড় সমান যে প্রত্যাশা, তা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যাঁরা গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে জীবন দিয়েছেন, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে যারা জীবন দিয়েছেন এবং দেশ গড়ার জন্য ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের চেতনাকে ধারণ করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। একই সঙ্গে আইনের যদি কোনো অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে সেটি আমরা দেখব।

সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যে শপথ নিইনি এবং কেন নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমাদের দলের মুখপাত্র ব্যাখ্যা দিয়েছেন। নতুন করে এখানে আমার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। 




রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত
ছবি সংগৃহীত।

পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।

এর আগে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

তার আগে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।




পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত।

রো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।