ছেলের জালিয়াতি: বৃদ্ধ পিতাকে ভিটেমাটিছাড়া করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে প্রতারণামূলক টিপসই নেওয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে হেবা দলিল বানিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে নিজ ছেলে আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৯৩ বছর বয়সী অসহায় পিতা আহমদ কবির। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে দখলকৃত সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ছেলের শাস্তির দাবিতে গতকাল ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার কেরানীহাটের একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাতকানিয়ায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অসুস্থতার সুযোগে জালিয়াতি
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার বাকমুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা, ৯৩ বছর বয়সী আহমদ কবির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
"বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আমি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। আমার এই শারীরিক অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় আমারই সন্তান আব্দুর রশিদ। সে আমাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে জ্ঞানহীন করে ফেলে। এরপর আমার অজান্তে বুড়ো আঙুলের টিপসই নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে 'হেবা দলিল' সম্পাদন করে আমার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেয়।"
নিজের ঘরেই আজ পরবাসী, রান্নাঘরে কাটে দিন
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ওষুধের প্রভাব কেটে জ্ঞান ফিরলে তিনি বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। ততক্ষণে জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে সব সম্পত্তি নিজের নামে নামজারি করে নেয় ছেলে আব্দুর রশিদ।
সম্পত্তি আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড ছেলে; পিতা ও বয়োজ্যেষ্ঠ সৎমাকে নিজ বসতঘর থেকে একপ্রকার বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বৃদ্ধ বয়সে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ ঘরের পাশে থাকা রান্নাঘরের ভেতরে অত্যন্ত অমানবিক ও কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও আইনি ব্যবস্থার দাবি
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে আহাজারি করে বৃদ্ধ আহমদ কবির বলেন, "যাকে পরম স্নেহে বড় করেছি, আজ সেই সন্তানই আমায় আর তার মাকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে। আইন ও প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন—আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমার সম্পত্তি অতি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং এই প্রতারক ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"









