ছেলের জালিয়াতি: বৃদ্ধ পিতাকে ভিটেমাটিছাড়া করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন

ছেলের জালিয়াতি: বৃদ্ধ পিতাকে ভিটেমাটিছাড়া করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

ছেলের জালিয়াতি: বৃদ্ধ পিতাকে ভিটেমাটিছাড়া করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে প্রতারণামূলক টিপসই নেওয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে হেবা দলিল বানিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে নিজ ছেলে আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৯৩ বছর বয়সী অসহায় পিতা আহমদ কবির। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে দখলকৃত সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ছেলের শাস্তির দাবিতে গতকাল ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার কেরানীহাটের একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাতকানিয়ায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অসুস্থতার সুযোগে জালিয়াতি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার বাকমুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা, ৯৩ বছর বয়সী আহমদ কবির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—

"বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আমি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। আমার এই শারীরিক অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় আমারই সন্তান আব্দুর রশিদ। সে আমাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে জ্ঞানহীন করে ফেলে। এরপর আমার অজান্তে বুড়ো আঙুলের টিপসই নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে 'হেবা দলিল' সম্পাদন করে আমার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেয়।"

নিজের ঘরেই আজ পরবাসী, রান্নাঘরে কাটে দিন

ভুক্তভোগী বৃদ্ধ সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ওষুধের প্রভাব কেটে জ্ঞান ফিরলে তিনি বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। ততক্ষণে জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে সব সম্পত্তি নিজের নামে নামজারি করে নেয় ছেলে আব্দুর রশিদ।

সম্পত্তি আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড ছেলে; পিতা ও বয়োজ্যেষ্ঠ সৎমাকে নিজ বসতঘর থেকে একপ্রকার বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বৃদ্ধ বয়সে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ ঘরের পাশে থাকা রান্নাঘরের ভেতরে অত্যন্ত অমানবিক ও কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও আইনি ব্যবস্থার দাবি

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে আহাজারি করে বৃদ্ধ আহমদ কবির বলেন, "যাকে পরম স্নেহে বড় করেছি, আজ সেই সন্তানই আমায় আর তার মাকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে। আইন ও প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন—আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমার সম্পত্তি অতি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং এই প্রতারক ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"




পটিয়ায় মিনিবাস খাদে পড়ে ১০ যাত্রী আহত

পটিয়ায় মিনিবাস খাদে পড়ে ১০ যাত্রী আহত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান সড়কের পটিয়া উপজেলার বাদামতল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে মনসা বাদামতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে মিনিবাসটি মনসা বাদামতল এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে চিৎকার করতে থাকেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতদের মধ্যে পটিয়ার সুচক্রদণ্ডী এলাকার খোরশেদ আলম (৫০), আনোয়ারা উপজেলার মোকাররম হোসেন (১৭) ও মো. হারুনুর রশিদকে (৫৫) পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বোয়ালখালীর বেঙ্গুরা এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৬) নামের এক নারীসহ একই পরিবারের তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যান্য আহত ব্যক্তি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

পটিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট ওমর ফারুক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে উল্টে গেলেও ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ চলছে।"

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান সড়কে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়দের ভিড় দেখা যায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




মিথ্যা অভিযোগে যুবদল নেতাকে হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

মিথ্যা অভিযোগে যুবদল নেতাকে হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
ছবি সংগৃহীত।

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মিথ্যা অভিযোগে আনোয়ারা উপজেলার কারানির্যাতিত যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী হোসেনকে হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন উপজেলা যুবদলের নেতা-কর্মীরা। বুধবার রাতে উপজেলার বন্দর কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিলটি কাফকো সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেন্টার এলাকায় এসে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্ম ঢাকতে কারানির্যাতিত যুবদল নেতার ওপর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ চাপিয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্দোষ কারানির্যাতিত যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যা চরম অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহার।

বক্তারা অবিলম্বে এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে হয়রানি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও তীব্র গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. মহিন উদ্দিন, মোহাম্মদ সোহেল, আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের সদস্য শাহ জাহান, আবদুর রহিম, আনোয়ারা উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক দলের সভাপতি মো. তারেক, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, হামিদুল ইসলাম, নিশান, শিহাব প্রমুখ।




প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের

প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের
ছবি সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতকানিয়া উপজেলার ৮ নম্বর ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের। বন্যার শুরু থেকেই রাত-দিন প্লাবিত ও গৃহহীন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে ত্রাণসহায়তা প্রদান—সব ক্ষেত্রেই তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ ও নিরলস কর্মতৎপরতায় ঢেমশার সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢেমশা ইউনিয়নে বন্যায় যখন বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে, তখন থেকেই মাঠে নামেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের। তিনি নিজে পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারগুলোকে উদ্ধার করে বিভিন্ন নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থাকার সুব্যবস্থা করেন। শুধু আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বন্যাকবলিত এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে চাল ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খোলসামার পাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল বলেন, "দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা আমাদের এলাকায় এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল চেয়ারম্যান আর দেখিনি। বিপদের দিনে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আগামী ইউপি নির্বাচনে তাঁর মতো একজন যোগ্য ও মানবিক প্রার্থীকে পেলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঠিক প্রতিফলন ঘটবে।"

ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিনি ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ১২ টন চাল বিতরণ করেছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তিনি আরও কয়েক ধাপে ত্রাণ ও খাদ্যসহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে আবু তাহেরের এমন সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকে ঢেমশা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বেও তাঁকে অগ্রভাগে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।