চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নগরজুড়ে উৎসবের আবহ
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নগরজুড়ে উৎসবের আবহ

চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নগরজুড়ে উৎসবের আবহ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ, কোথাও ধোয়া-মোছা ও আলোকসজ্জা। অন্যদিকে, নগরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে চলছে সংস্কার, কার্পেটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সড়কের বিভাজকে নতুন করে রং করা হচ্ছে, অপসারণ করা হচ্ছে পোস্টার। ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানও সরানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে বন্দরনগরীতে চলছে প্রস্তুতি।

এই প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তার। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধানের চট্টগ্রামে এসে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের ঘটনা এবারই প্রথম বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পূজার আয়োজনে যুক্ত হয়েছে বাড়তি উৎসাহ। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতাও বেড়েছে। সফরকে ঘিরে নেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তাব্যবস্থা, চলছে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক বৈঠক।

সোমবার নগরের কাজীর দেউড়ি, জামালখান ও আন্দরকিল্লা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে। সড়কের বিভাজকে নতুন করে রং দেওয়া হয়েছে। সরানো হচ্ছে পোস্টার ও ব্যানার। ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা ও অতিথিদের বরণ করার প্রস্তুতি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নগরের এই পরিবর্তন শুধু সড়ক ও স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনে সীমাবদ্ধ নেই; দুর্গোৎসবের আয়োজনে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বাড়তি গুরুত্ব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সফরের অংশ হিসেবে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পূজামণ্ডপে শুভেচ্ছা বিনিময়, পরে সাংগঠনিক সভা

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, মহানগর বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে তার। প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থানের পর তিনি নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু-তে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। পরে রাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সাংগঠনিক সভায় বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ইউনিটের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতা, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি না থাকায় সেখানকার জ্যেষ্ঠ নেতারা সভায় অংশ নেবেন।


বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। সভায় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারাও থাকবেন।

দলের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের সভা তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারেও ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। গত শনিবার সকালে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।

একই দিন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ও এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। দুপুরে সেখানে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

এর আগে ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে বিএনপি, মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়। ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রেস্ট হাউসেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন রাতে পানি সম্পদমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নেতৃত্বে প্রশাসন ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে সভা হয়। একই রাতে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারাও বৈঠক করেন।

চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হল প্রাঙ্গণ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিবছর এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে পূজার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সময় প্রাঙ্গণটি সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, বন্দরনগরীর পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী আসছেন, এ খবরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তার চট্টগ্রাম আগমন আনন্দের বিষয়। সফর সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তার আগমন ঘিরে নগরে উৎসাহ ও আন্তরিকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


নিরাপত্তায় চার স্তরের ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এসএসএফের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র‍্যাব, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন, মোবাইল টহল ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে আগেভাগেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে এসআরবির যোগাযোগ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় রয়েছে।

এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উপহার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির মাধ্যমে এসব উপহার দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ৯ অক্টোবর জে এম সেন হলের মাঠে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পূজার উপহার বিতরণ করেন। এ ছাড়া নগর ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রামে এখন একদিকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা তৎপরতা, অন্যদিকে দুর্গোৎসবের আয়োজন। পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যের বার্তা আরও জোরালো হবে।




প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন
ছবি সংগৃহীত।

রাজধানীর গেন্ডরিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার দুই দিন পর সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের এ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এসময় তিনি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখ শপথ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, গত ২ দিন একটি বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। সেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে আজকের সংবাদ সম্মেলন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের দিন হতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। তিনি সেই সুযোগ দিয়েছেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। আমার কারণে যেন আপনার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়।

আজ সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুরের সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এর আগে গতকাল রাতে ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর জেরে রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।




জুলাইকে ধারণ না করায় বিরোধীদল আমন্ত্রণ পেয়েও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি: প্রধানমন্ত্রী

জুলাইকে ধারণ না করায় বিরোধীদল আমন্ত্রণ পেয়েও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি: প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ না নেওয়ায় বিরোধীদলের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ না করায় আমন্ত্রণ পেয়েও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন সকাল ১০টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন এবং উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরে আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিরোধীদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি জুলাইয়ের আত্মত্যাগকারী মানুষদেরকে নিয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা তাদেরকে যেমন দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলের নেতাসহ বিরোধীদলের যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদেরকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।  

বিরোধীদল যদি জুলাইকে ধারণ করত তাহলে অনুষ্ঠানে অংশ নিত বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আপনারা যদি সত্যিকারভাবে জুলাইকে ধারণ করতেন তাহলে এখানে এসে জুলাই শহীদদের মানুষগুলোর সঙ্গেও তো বসতে পারতেন। কোথায়? আমরা তো আজকে আপনাদেরকে দেখছি না। সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব আছে, থাকুক দূরত্ব। কোনো সমস্যা নেই। যদি দূরত্ব আপনারা রাখতে চান কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যেই মানুষগুলোর জন্য আজকে আপনারা বিরোধীদলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যেই মানুষগুলো জীবন উৎসর্গের কারণে, যেই মানুষগুলো আহত হওয়ার কারণে, যে মানুষগুলো চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন, বিরোধীদলের সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন। সেই মানুষগুলোর মাঝেও তো আমরা আপনাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না।

বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে অনুষ্ঠানটি আমরা করছি কাদেরকে নিয়ে? জুলাইতে যারা শহীদ হয়েছেন সেই শহীদদেরকে ঘিরে। হ্যাঁ, সরকার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে শহীদদেরকে নিয়ে। বিএনপি সবসময় বলে, বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে। বিএনপি যেভাবে ৭১-কে ধারণ করে, ঠিক একইভাবে জুলাইকেও ধারণ করে। সেজন্যই আপনারা দেখেছেন সরকার গঠন করার পর থেকে বিএনপি চেষ্টা করেছে জুলাইয়ে যেসব যোদ্ধা আহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের মানুষগুলোকে, স্বজনদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বিএনপি সরকার করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ দেখছে, বিরোধীদল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করে যাচ্ছে। ঠিক আছে, বিরোধিতা আপনারা করেন। কিন্তু আজকে বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তাহলে অবশ্যই সেটি দেশের জন্য কোনো ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করা হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতায় জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পত্রপত্রিকা খুললেই আমরা এখন দেখছি ডেঙ্গুর বিষয়টি। ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং একইসঙ্গে নিশ্চয়ই আপনারা খেয়াল করেছেন গত প্রায় দেড় মাস ধরে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বহু মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু রেখেছি; যাতে করে এই ডেঙ্গুকে আমরা প্রতিরোধ করতে পারি।

এডিস মশা সরকারি দলও চেনে না বিরোধীদলও চেনে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পরে প্রথম প্রথম কয়েকদিন খুব দেখলাম ফজরের নামাজের পরে কারা যেন গিয়ে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছে, এখন আর আমরা সেটি দেখতে পাই না। 
 




বিরোধিতা করে স্বৈরাচার ফেরার পথ খুললে গাদ্দারি হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিরোধিতা করে স্বৈরাচার ফেরার পথ খুললে গাদ্দারি হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে তা জুলাইয়ের শহীদ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, যাদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতারা আজ বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে তাদের থাকা উচিত ছিল।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধী দল অবশ্যই বিরোধিতা করবে, তবে সেই বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে থেকে গেলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন এবং আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জুলাই শহীদদের অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ
তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিরোধী দলের নেতারা অনুষ্ঠানে না এলেও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এসে বসতে পারতেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব আছে, থাকুক দূরত্ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যাদের জীবন উৎসর্গের কারণে, যাদের আহত হওয়ার কারণে, যাদের চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, সেই মানুষগুলোর মাঝেও তো আমরা আপনাদের দেখতে পাচ্ছি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল যদি জুলাইকে ধারণ করে, তাহলে জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের উপস্থিতি থাকা উচিত ছিল। দেশের মানুষও দেখছে, বিরোধী দল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করে যাচ্ছে। তবে বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা দেশের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না।


জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের লক্ষ্য এক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন এবং ১৯৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, উভয়ের লক্ষ্য ছিল এক।

তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা, কথা বলার স্বাধীনতা, সুশিক্ষা, চিকিৎসাসুবিধা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।


তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছে। জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং অন্য যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাদের বিরোধী দলের দায়িত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে প্রায় ৮১৩ জন শহীদ জুলাই যোদ্ধার নাম সংরক্ষিত রয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভ সব সময় মনে করিয়ে দেবে, যারা বেঁচে আছেন, দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সব সময় জুলাইকে ধারণ করে। বিএনপি যেভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, একইভাবে জুলাইকে ধারণ করে। সরকার গঠনের পর থেকে জুলাইয়ে আহত যোদ্ধাদের পর্যায়ক্রমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহীদ পরিবারের স্বজনদের সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে করা হচ্ছে।


দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে বিরোধী দল সংসদে বসেছে আর জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বিএনপি। বিরোধী দল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু সরকারি দল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না-বিষয়টি এমন নয়। সরকারি দলও মানুষের স্বার্থে কাজ করছে। তাই দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে দেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। বিএনপির নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা আবার শুরু করেছিলেন। ‌‘যেখানেই গণতন্ত্র, সেখানেই বিএনপি আছে। যেখানেই বিএনপি আছে, সেখানেই গণতন্ত্র আছে,’ বলেন তিনি।


তারেক রহমান বলেন, সব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একমত হওয়া সম্ভব নয়। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক। তবে দেশের স্বার্থ, মানুষের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থার মতো মৌলিক বিষয়ে একমত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সংবিধানের সংশোধন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই জনগণ তাদের সংসদে পাঠিয়েছে। সংসদে আলোচনা, যুক্তি-তর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ চায় না, সড়ক অবরোধ বা বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হোক। জনগণ স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং দেশের অগ্রগতি চায়। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্রের চর্চা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, ভোটের অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উন্নতি দেখতে চায়।

প্রকৃতি রক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণের আহ্বান
ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যানটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি সংস্কার করা হয়েছে এবং জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে উদ্যানের আধুনিকায়ন করতে গিয়ে অনেক পুরোনো বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্থাপত্য নির্মাণের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব প্রকৃতির ক্ষতি কমিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষের ও দেশের প্রয়োজনে স্থাপনা নির্মাণ করতে হলেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। দিন শেষে তা মানুষেরই উপকারে আসবে।

তিনি বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, লাইব্রেরি ও বাগানসহ পুরো স্থাপনাটি জনগণের ও রাষ্ট্রের সম্পদ। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকেরও এটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখার দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে পরিবেশ নষ্ট করা এবং ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতাল ও সরকারি আবাসস্থলের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দিন আগে ঢাকা শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা তুলনামূলকভাবে ভালো পেলেও সরকারি হাসপাতাল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থলের অবস্থা খারাপ দেখেছেন।

তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার সঙ্গে অত্যন্ত শিক্ষিত ব্যক্তিরা যুক্ত। একইভাবে সরকারি আবাসস্থলে বসবাসকারীদের অনেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারের নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা নিজেরা পরিবেশের বিষয়ে সচেতন না হলে সাধারণ মানুষকে কীভাবে সচেতন করবেন?

বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসকদের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসার প্রথম শর্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোগীরা হাসপাতালে এসে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পান এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থলও পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুন্দর পরিবেশ মানুষের মন ভালো রাখে এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবহুল বাংলাদেশে পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ যত বেশি দূষিত ও অপরিচ্ছন্ন হবে, মানুষের অসুখ-বিসুখ ও রোগবালাই তত বাড়বে। তাই সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ শুরু করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত প্রায় দেড় মাস ধরে সরকার বিএনসিসি, স্কাউট, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সিটি করপোরেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা এবং এর প্রকোপ কমিয়ে আনা, যাতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কম থাকে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এডিস মশা সরকারি দল, বিরোধী দল কিংবা নিরপেক্ষ মানুষ-কাউকেই আলাদাভাবে চেনে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম দিকে ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ু দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেলেও এখন আর তা তেমন দেখা যাচ্ছে না। এডিস মশা সবাইকে আক্রান্ত করতে পারে। তাই দেশের স্বার্থে এবং দেশের মানুষের স্বার্থে প্রত্যেককে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জুলাইয়ে আহত যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা।