চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আদালত চালু
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আদালত চালু

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আদালত চালু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজীকরণে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসেই মামলা সম্পর্কিত সব তথ্য জানতে পারবেন, আবেদন করতে পারবেন, এমনকি সাক্ষ্যও দিতে পারবেন। এতে সময়, ভোগান্তি ও খরচ—সবই কমবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ই-পারিবারিক আদালত বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমানোর একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। মামলার আবেদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কার্যক্রম সবই অনলাইনে সম্পন্ন হবে। এতে কাগজপত্রের ব্যবহার কমবে, নথি হারানোর ঝুঁকি থাকবে না এবং মামলা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।”

তিনি জানান, মামলা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য এসএমএসের মাধ্যমেও পেয়ে যাবেন বিচারপ্রার্থীরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।

আদালত সূত্র জানায়, ই-পারিবারিক আদালতে পাঁচ ধরনের বিষয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে— বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত।

আদালতের নিজস্ব ওয়েবসাইটে থাকবে মামলার রেজিস্ট্রেশন, আইনজীবী নির্বাচন, নথি আপলোড, অনলাইন হাজিরা ও অগ্রগতি দেখার সুবিধা। ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হবে।

এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব : আইনমন্ত্রী

মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব : আইনমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

মানুষের পাহাড় সমান প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যারা ১৭ বছর ধরে জীবন দিয়েছেন, তাদের কথা স্মরণে রেখেই কাজ করব। চ্যালেঞ্জ আছে। মানুষের পাহাড় সমান যে প্রত্যাশা, তা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যাঁরা গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে জীবন দিয়েছেন, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে যারা জীবন দিয়েছেন এবং দেশ গড়ার জন্য ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের চেতনাকে ধারণ করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। একই সঙ্গে আইনের যদি কোনো অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে সেটি আমরা দেখব।

সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যে শপথ নিইনি এবং কেন নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমাদের দলের মুখপাত্র ব্যাখ্যা দিয়েছেন। নতুন করে এখানে আমার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। 




রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত
ছবি সংগৃহীত।

পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।

এর আগে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

তার আগে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।




পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত।

রো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।