চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীর পোশাক ও ব্যাগে মিলল দেড় কেজি সোনা
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীর পোশাক ও ব্যাগে মিলল দেড় কেজি সোনা

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীর পোশাক ও ব্যাগে মিলল দেড় কেজি সোনা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা এক যাত্রীর হাতব্যাগ ও পরিহিত পোশাক থেকে ১ হাজার ৪৮২ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে আসা ওই যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করেন বিমানবন্দরের গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমসের সদস্যরা।

আটক যাত্রীর নাম মো. শরীফ। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। তিনি মানিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস হজ কাফেলার সদস্য।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার বিমানবন্দরের আগমনী হলের ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় ওই যাত্রীর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে ডিজিএফআই, এনএসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবন্দর কাস্টমসের তত্ত্বাবধানে তাঁর হাতব্যাগ ও পরিহিত পোশাক থেকে স্বর্ণের চুড়িগুলো উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, উদ্ধার করা স্বর্ণ থেকে প্রাপ্য রাজস্বের পরিমাণ ২ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারণের পর তা বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




আদালতের রায়ে মেয়র, এবার চসিকের প্রশাসক হলেন শাহাদাত

আদালতের রায়ে মেয়র, এবার চসিকের প্রশাসক হলেন শাহাদাত
ছবি সংগৃহীত।

আদালতের রায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডা. শাহাদাত হোসেনকে এবার পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন, ২০২৬-এর ৪ ধারা অনুযায়ী তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন উপসচিব জুয়েল রানা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডা. শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। আইনের ৪ ধারার ৩ উপধারা অনুযায়ী তিনি সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতাও পাবেন তিনি।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত তাকে মেয়র নির্বাচিত ঘোষণা করে রায় দেন।




চট্টগ্রামে প্রবারণা পূর্ণিমায় ভক্তদের ঢল, অপেক্ষা ফানুস ওড়ানোর

চট্টগ্রামে প্রবারণা পূর্ণিমায় ভক্তদের ঢল, অপেক্ষা ফানুস ওড়ানোর
ছবি সংগৃহীত।

কারও হাতে পদ্মফুল, কারও হাতে ফলমূল আর পূজার নানা উপকরণ। কেউ পরম শ্রদ্ধায় বুদ্ধমূর্তির সামনে ফুল নিবেদন করছেন, আবার কেউবা নিভৃত প্রার্থনায় জ্বালিয়ে দিচ্ছেন প্রদীপের শিখা। আজ সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের বৌদ্ধবিহারগুলোতে ছিল নানা বয়সি পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

দিনভর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় রঙিন ফানুস ওড়ানোর অপেক্ষায় থাকবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। ফানুসের আলোয় রাতের আকাশ আলোকিত করার পাশাপাশি বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন আয়োজকেরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। এ উপলক্ষ্যে নগরের শতবর্ষী নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারসহ বিভিন্ন বিহারে ভোর থেকেই উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। চট্টগ্রাম নগর ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সি মানুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন।

সকালে নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই নতুন পোশাকে বিহার প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন পুণ্যার্থীরা। তাদের হাতে ছিল প্রদীপের থালা, গাদা ও পদ্মফুল এবং হরেক রকমের ফলমূল। বুদ্ধমূর্তি ও বোধিবৃক্ষের চরণতলে ফুল নিবেদন ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পরে ভিক্ষুদের কাছ থেকে পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন ভক্তরা। দিনব্যাপী বিহারের বিভিন্ন কক্ষে চলবে বিশেষ ধর্মপোদেশ বা দেশনা এবং বিশ্বশান্তি কামনায় যৌথ প্রার্থনা ।

বিহারে আসা পুণ্যার্থী তৃপ্তি বড়ুয়া নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা আমাদের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, আত্মশুদ্ধি ও নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ারও দিন। প্রতিবছর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিহারে আসি। প্রার্থনা করি, পৃথিবী থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক, সবার জীবন শান্তিময় হোক।’

আরেক ভক্ত দেবাশীষ বড়ুয়া ফানুস উৎসবের স্মৃতি টেনে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই প্রবারণা পূর্ণিমার ফানুস ওড়ানো দেখে আসছি। সত্যি বলতে, পুরো একটি বছর আমরা এই বিশেষ দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। সন্ধ্যায় যখন একসঙ্গে অনেক ফানুস আকাশে ওড়ে, তখন অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ।’

দিনভর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পর সন্ধ্যার নামার সঙ্গেই শুরু হতে যাচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসব। আনন্দমুখর এই পরিবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী নন্দনকানন বৌদ্ধবিহার ও এর আশেপাশের এলাকায় এখন ফানুস ওড়ানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

প্রথাগত ফানুসের বাইরেও হাতি, ময়ূর, মাছ, বালিশ কিংবা মটকা আকৃতির নানা কারুকার্যময় ফানুস তৈরি করেছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও তরুণ সংগঠনের সদস্যরা। এসব ফানুসের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বুদ্ধের অহিংস বাণী, ছবি এবং মানবকল্যাণের চিরন্তন বার্তা।

আয়োজকেরা জানান, একটি দিনের এই আয়োজনের প্রস্তুতি চলে কয়েক মাস ধরে। ফানুস তৈরি, বাঁশের কাঠামো বানানো, কাগজ লাগানো, রং করা ও মোম প্রস্তুত—প্রতিটি কাজেই যুক্ত থাকেন সংগঠনের সদস্যরা। এবার ৩০টির বেশি ফানুস তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন আকৃতির আরও ফানুস ওড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০টি সংগঠনের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকদের কেউ কেউ।

আয়োজকদের একজন বলেন, ‘আমরা শুধু ফানুস ওড়াই না, এর মাধ্যমে সবার কল্যাণ কামনা করি। প্রতিটি ফানুসের মধ্য দিয়ে বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মিলে এ উৎসব উদ্‌যাপন করি।’

মূলত তিন মাসের বর্ষাবাস (উপাসনা) পালন শেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আত্মশুদ্ধি, সংযম ও পারস্পরিক ক্ষমা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করেন। অতীতের সব ভুল স্বীকার করে অন্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করাই এর মূল দর্শন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রবারণার সন্ধ্যায় ওড়ানো ফানুস গগনে থাকা বুদ্ধের 'কেশধাতু চেতিয়' বা স্মারক চিহ্নের উদ্দেশ্যে ভক্তদের শ্রদ্ধা হিসেবে পৌঁছে যায়।

বৌদ্ধবিহার সূত্রে জানা যায়, প্রবারণা উপলক্ষ্যে পুণ্যার্থীরা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তারা জীবহত্যা, চুরি, মিথ্যাচারসহ অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার শপথ নেন। পাশাপাশি সংঘদান, বুদ্ধপূজা ও পিণ্ডদানের মতো ধর্মীয় আয়োজনও থাকে। হিংসা, বিদ্বেষ ও সংঘাতমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তির প্রত্যাশাও এ উৎসবের অন্যতম বার্তা।

নন্দনকানন ছাড়াও নগরের ঐতিহাসিক কাতালগঞ্জ নবপণ্ডিত বিহার, পাথরঘাটা জেতবন শান্তিকুঞ্জ বিহার, চান্দগাঁও সার্বজনীন বৌদ্ধবিহার ও মোগলটুলী শাক্যমুণি বৌদ্ধবিহারে যথারীতি পালিত হচ্ছে প্রবারণার উৎসব। প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে চেরাগী পাহাড় ও মোমিন রোড এলাকায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম সামলাতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাদাপোশাকের পুলিশসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির  বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ফানুস উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এ কারণে নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হয়নি। সাদাপোশাকের পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব সময় সতর্ক রয়েছে। তাই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা দেখছি না।’




পরিবারসহ বান্দারবন যাওয়ার পথে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মা-মেয়ের

পরিবারসহ বান্দারবন যাওয়ার পথে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মা-মেয়ের
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস উল্টে ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আনোয়ারা জুট মিলস এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- জয়পুরহাট পৌরসভার বাদশা গ্রামের মৃত নজিবুর রহমানের স্ত্রী রোজী আক্তার (৬০) এবং তার মেয়ে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী নাজমা খাতুন (৪২)।

অন্যদিকে আহতরা হলেন- মো. আসলাম হোসেন (৪৬), মো. জয়ান আসলাম (১১), মো. জুনায়েত আসলাম (১৪), মো. জাওয়াত আসলাম (১৮)। তারা সবাই মাইক্রোবাসে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বান্দরবানে যাচ্ছিলেন।


‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বান্দরবান যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের সাংকেতিক চিহ্নের সাইনবোর্ডের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা দেয়। পরে স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মা ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মন্ডল বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস বাড়বকুন্ড আনোয়ারা গেট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের সংকেতিক চিহ্নের সাইনবোর্ডের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে দুজন নিহত হন। আহত হন চারজন। তারা পরিবারের লোকজন ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে বান্দরবান যাচ্ছিলেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‎সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার ইফরাদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই তারা মারা গেছেন। আহতদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।