যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, সেই সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে তিনজন ছিনতাইকারী একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করেছে। ছিনতাইয়ের সময় তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। কিন্তু ধরা পড়ার পর দেখা গেল, তারা বিএনপির লোক।

তিনি বলেন, এরা গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিতে হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দল এবং আমরা সবাই বলেছিলাম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিএনপিও এ কথা বলেছে, আমরাও বলেছি। ছয় মাস চলে গেল, বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে?

তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে ভেবেছিল, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। মানুষ আদালতে গেলে আর শোষণ-বঞ্চনার শিকার হবে না, ন্যায়বিচার পাবে। সন্তানরা ভালো শিক্ষা পাবে, হাতে ভালো কাজ পাবে এবং তারা দেশ গড়বে। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে। কিন্তু তার একটাও হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, তারা তখন বলেছিল, অনির্বাচিত সরকার যত দ্রুত বিদায় নেবে, দেশের তত মঙ্গল হবে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, অনির্বাচিত সরকার আমাদের জান্নাতে পাঠায়নি, এটা ঠিক। কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের সময় আপনারা যেমন ছিলেন, এখন কি সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন?

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের বিল আসছে। গ্যাস দেবে না, কিন্তু গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে। তেল পাই না, জ্বালানি পাই না। চারদিকে হাহাকার।

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ও হানাহানি চলছে। দলীয় আনুকূল্য ও প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা সন্ত্রাস ও চুরি-ছিনতাইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

লংমার্চের কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, তখন বিভিন্ন জায়গায় চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু প্রতিক্রিয়া আপনারা শুনতে পেয়েছেন। আমরা পরিষ্কার একটা কথা বলি– আমাদের এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন।

‘আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার জন্য আন্দোলন শুরু করিনি। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার মতো আমল করতে থাকে, তাহলে আমরা কি তাদের ইয়াসিন সূরা পড়ে পানি পড়া খাওয়াব? সেই পথেই সরকার হাঁটছে। আগের সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকারও একই রাস্তা ধরে হাঁটছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটি বাস্তব প্রমাণ।’

জামায়াতের আমির বলেন, এখানে একজন মেয়র আছেন। উনার মেয়াদ কি এখনো আছে? উনাকে কি আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ বলব না? এখন শুনে যাবেন, উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। বলেন, এর নাম সুশাসন, না এর নাম ফ্যাসিবাদ? আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন– আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।

চট্টগ্রামবাসী, এই তো একটা তাজা উদাহরণ দিলাম বাংলাদেশকে। এটা কি বৈষম্য নয়? তারা জাতির সামনে নির্বাচনী ইশতেহারে এবং তাদের সংস্কারের ৩১ দফায় ওয়াদা করেছিলেন যে, সমাজের সব স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনা করবেন। এখন জায়গায় জায়গায় তারা যে প্রশাসক বসালেন, তারা কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি?

তিনি বলেন, আমাদের আজকের এই লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরের লংমার্চ এমন হবে না। এতগুলো মানুষ মারা গেল, তাদের দলের প্রচুর লোক মারা গেছে, গুম হয়েছে, আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে। এই মানুষগুলোর রক্ত ও জীবনের প্রতি আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? আফসোস, ক্ষমতায় বসেছেন ছয় মাস। বলেন, আমাদের সরকারটা শিশু সরকার। জনগণ কোন শিশুকে ভোট দিয়েছে? ২৫ বছরের আগে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারে না। উনারা কি ২৫ বছরের শিশু, নাকি প্রাপ্তবয়স্ক? জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে। আপনারা ওয়াদা করেছেন, কথা দিয়েছেন। এখন সেই সবকিছু আপনারা লঙ্ঘন করছেন।

তিনি বলেন, আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে– এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল আমাদের সোজা। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে, ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা তো এই দাবি নিয়ে রাজপথে আসতে চাইনি। আমরা তো চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভেতরেই তার ফয়সালা হবে। আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা তাদের সঙ্গে দেওয়া কথার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন, প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে না, ইনশাআল্লাহ। আমাদের বহু টোপ দেওয়া হয়েছে, লোক দেওয়া হয়েছে– এটা করব, ওটা করব। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, কোনো লোভের প্রতি আমরা চোখ খুলেও তাকাব না। জনগণের ৭০ ভাগ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আমরা তা আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এর আগে আমরা বিরতি দেব না, আমরা থামব না। এই লড়াই চলবে এবং বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ, বদলাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলানোর জন্য আপনারা কি তৈরি আছেন? তাহলে প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক, ইনশাআল্লাহ, আসবে। তবে এর সঙ্গে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ডাক আসবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা কনফিডেন্ট, আমরা আস্থাশীল– এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে, অপরাধীরা হেরে যাবে, চাঁদাবাজরা হেরে যাবে, দুর্নীতিবাজরা হেরে যাবে, লুটেরা-লুটপাটকারীরা হেরে যাবে। যারা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তারা হেরে যাবে।
শফিকুর রহমান বলেন, আমি শুধু জানতে চাই- আপনারা ১৫ বছরের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান? ১৫ বছর যত হত্যাকাণ্ড, যত গুম হয়েছে, সবগুলোর বিচার চান? আপনারা ’২৪-এর আন্দোলনের বীর শহীদদের হত্যার বিচার চান? যারা তাদের গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে, সেই খুনিদের বিচার চান? বিডিআরের পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে যারা হত্যা করেছে, সেই খুনিদের বিচার চান? যারা আয়নাঘর তৈরি করেছিল, তাদের বিচার চান? জল্লাদদের বিচার চান?।আমরা কথা দিচ্ছি, সেই বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব। আর এই সরকার যদি এই বিচার না করে, তাহলে জনগণের সরকার কায়েমের মাধ্যমে সেই বিচার আমরা তুলে আনব, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন– বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ কে এম হামিদুর রহমান আজাদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন– এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন আহমদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির মুখপাত্র মাওলানা নাজমুল ইসলাম তালুকদার, গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে এ সমাবেশ চলে।

জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে– অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।




জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে এবং তা প্রমাণিত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক রয়েছে— এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ একটি অপপ্রচারকারী দল, তাদের সঙ্গে আরেকটি গুপ্ত দল যুক্ত হয়েছে। এই দুই দলের আচরণ একই।’

তিনি বলেন, ‘অপপ্রচারে এই দুই দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কেউ টিকবে না।’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি বিচ্যুত হয়নি বলেও এ সময় দাবি করেন রিজভী।

দুর্গাপূজা উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কারণে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার সফলভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব সম্পন্ন করতে পেরেছে।’

চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কোনও মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যান, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক এ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিনা পয়সায় ডেঙ্গু টেস্ট করতে সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘কেউ যেন বিনা পরীক্ষায় হাসপাতাল থেকে ফেরত না যায়, তা এখন নিশ্চিত করতে হবে।’ 




সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
ছবি সংগৃহীত।

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, জানতে চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই প্রশ্ন তুলেছেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌঁড়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’ 




ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী

ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পরলে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে খাতায় না লিখলেও বাধ্যতামূলক পাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’ আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণে শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষার স্থান ছিল না।’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছিল। তখন গুণগত শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে শুধু পাসের হার (৯০-৯৫ শতাংশ) দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এমনকি খাতায় না লিখলেও পাস করিয়ে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর ওপর মহল থেকে ধমক দিয়ে বাধ্য করা হতো।’

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্বও শিক্ষক সমাজকেই নিতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি উদাহরণ দেন যে, দাবি আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাটাও অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  বলেন, ‘বিএনপি সবসময় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের অসাধারণ সমন্বয় করে এসেছে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে দল সচেতন। আমাদের দলের যে ভিশন ও পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে শিক্ষক সমাজ কখনও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ প্রমুখ।