কমলো সোনা ও রুপার দাম
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

কমলো সোনা ও রুপার দাম

কমলো সোনা ও রুপার দাম
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

​শ‌নিবার ( ২৬ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বাজুস জানায়, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

​সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা।




জুলাইয়ের দুর্বলতার পর আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে

জুলাইয়ের দুর্বলতার পর আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে
ছবি সংগৃহীত।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে কমলেও আগস্টে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট-এই দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৮৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার।

গত অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের গড় মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসে ভাগ করলে মাসিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের গড় রপ্তানি আয় বেশি।

তবে প্রথম দুই মাসের এই প্রবৃদ্ধি সমানভাবে আসেনি। জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছিল। পরের মাস আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে।

এ বিষয় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত প্রথম দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিকে ইতিবাচক রেখেছে। তবে বছরের শুরুতে দুই মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থবছরের প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না; পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার যুক্তরাজ্য। দেশটির বাজারে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বছরের বাকি সময়ে অর্ডারের প্রবাহ, বৈশ্বিক পোশাকের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর রপ্তানির ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে ৪৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক (ওভেন ও নিট পণ্য) রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে যা ছিল ৪৬ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ গত বছরের জুৱাইয়ের তুলনায় এবারের জুলাইয়ে এই বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে আগস্ট মাসে গত বছরের একই মাসের ৪২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের চেয়ে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৪৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলারে উন্নতি হয়েছে।




বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে বিক্রি

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে বিক্রি
ছবি সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও এর বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। উল্টো সেখানে এই দুই ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত তিন মাসে বিশ্ববাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে। অথচ একই সময়ে খাতুনগঞ্জে সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি অন্তত ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিংক শিট’-এর আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুন-আগস্ট—এই তিন মাসে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম এপ্রিল-জুনের গড়ের তুলনায় কমেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার। জুনে ছিল ১ হাজার ১০৪ ডলার এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার। ফলে জুন-আগস্ট তিন মাসে গড় দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এর আগে এপ্রিল-জুনে এই গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ দুই সময়ের গড় তুলনায় পাম তেলের দাম কমেছে প্রায় ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল, মে ও জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার। ওই তিন মাসের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। অন্যদিকে জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। ফলে জুন-আগস্টের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ আগের তিন মাসের তুলনায় সয়াবিন তেলের দাম কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী গড়ের বিপরীতে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে সয়াবিন তেল প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সুপার পাম তেলের দর চলছে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকা মণ। বাজারসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দেড় মাস আগেও খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের দর ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এ সময়ে মণপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পাম তেলের দরও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, ‘বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।’

এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২ তোলে, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচসহ বিভিন্ন বিষয় স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আগের উচ্চ দামে আমদানি করা তেল বাজারে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পাইকারি দামে তার প্রভাব নাও পড়তে পারে। আবার আমদানির পরিমাণ কমে গেলে বা সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও দাম বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। গত ২৯ এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৯৫৫ থেকে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকা করা হয়। এরপর ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলাউদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে হলে শুধু টনপ্রতি মূল্য দেখলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিতে হবে। সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও বর্তমান বাজারদরে প্রভাব ফেলছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে মোট ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ। আর সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ৬১ টন, যা মোটের প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, ওই সময়ে সয়াবিন তেলের তুলনায় পাম তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে প্রায় ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং সয়াবিন তেল প্রায় ২৩ শতাংশ। কাস্টমস মূলত আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে, তবে বাজারদরের বিষয়টি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নানা উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সামনে রমজান। এখন থেকেই দাম বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটি নজরদারিতে রাখা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণও নজরদারির আওতায় আনা উচিত।’




বৈশ্বিক বাজারে কমেছে তেলের দাম, ১১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন

বৈশ্বিক বাজারে কমেছে তেলের দাম, ১১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গত ১১ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআিই)— উভয়ের দাম কমেছে।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ১৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআই প্রতি লিটারে ২ দশমিক ১৫ ডলার কমেছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে এবং প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হচ্ছে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বররের পর এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।  

জ্বালনি পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে এই সপ্তাহে হয়তো কোনো কূটনৈতিক পথ বেরিয়ে আসবে—এমন আশার কারণে তেলের দাম থেকে কিছুটা ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা ঝুঁকিজনিত বাড়তি মূল্য সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।"

“সেই আশা কতখানি যৌক্তিক, তা অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন। সময়ই তা বলে দেবে।”

চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী; উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পেজেশকিয়ানের এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে আসার কথা রয়েছে।

শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ফের আলোচনায় বসতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্তাবলী তুলে ধরেছে ইরান।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তারা শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উত্তোলন ও বিপনন কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। স্থাপনাটি লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত এবং তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে, যা তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় এতদিন ইয়ানাবু থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করত সৌদি; কিন্তু কয়েক দিন আগে আরামকোর পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হুথিদের হামলার কারণে ইয়ানাবু থেকে তেলের চালান পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ এবং তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করছে।

সূত্র : রয়টার্স