এলইডি স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফুটবল: পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিদিনই হাজারো দর্শকের মিলনমেলা

পটিয়ায় বড় পর্দার এলইডি স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পরিণত হচ্ছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। করতালি, উল্লাস, ঢোল, বাঁশি ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শব্দে মুখর হয়ে উঠছে পুরো মাঠ।
বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ উপভোগ করতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা মাঠে ছুটে আসছেন। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
ক্রীড়ামোদীদের জন্য বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও শিল্পপতি হাজী মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি-এর সৌজন্যে মাঠে বড় পর্দার আধুনিক এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এতে ঘরের বাইরে খোলা পরিবেশে একসঙ্গে বসে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো দর্শক।
দর্শকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন, পটিয়া থানা পুলিশ এবং একাধিক স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। মাঠে আগত দর্শকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছেন।
হাজী মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি বলেন, "পটিয়ার সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্তভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগের সুযোগ করে দিতেই এই এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি আমাদের আনন্দিত করছে। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে খেলা ঘিরে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, "পটিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে। এটি ইতিবাচক দিক। তবে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে জনশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।"
মাঠে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই জানান, বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখার অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রিয় দলের খেলার প্রতিটি মুহূর্ত হাজারো মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আনন্দই আলাদা। এমন আয়োজনের জন্য তারা আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এই আয়োজন শুধু ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দই বাড়াচ্ছে না, বরং পটিয়ার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করছে।








