এক অফিসে প্রায় ৩ বছর, বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খালেদা বেগম

একই কর্মস্থলে দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে কর্মরত থেকে নানা অনিয়ম ও বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং নিজের পদবিকে ‘কর্মকুত্তা’ বলে ব্যঙ্গ করার কারণে ইতিপূর্বে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব। একের পর এক এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ জনগণ।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত তহশিলদার খালেদা বেগমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি, কাজের দীর্ঘসূত্রতা এবং নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নামজারি, খাজনা প্রদান, ভূমি উন্নয়ন কর ও খতিয়ানসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার পরও কখনো কাগজপত্রের ঘাটতি, আবার কখনো নানা অজুহাতে সেবাপ্রার্থীদের দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানোর অভিযোগ রয়েছে।
নুরুল করিম নামের এক ভুক্তভোগীর দাবি, সাধারণ মানুষ সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সেবা নিতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চাপ তৈরি করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এই ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা দ্রুত করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু কার্যক্রমে ওই চক্রের প্রকাশ্য প্রভাব রয়েছে। ভূমি অফিসে সেবার প্রতিটি ধাপ, সরকারি ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে দিলে এ ধরনের হয়রানি অনেকাংশে কমবে।
চিরিংগা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত তহশিলদার) খালেদা বেগম বলেন, “এসব অভিযোগ সত্য নয়, বরং এগুলো আমার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভূমি অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।











