এইচএসসির রুটিন নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, সতর্ক করলো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

এইচএসসির রুটিন নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, সতর্ক করলো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

এইচএসসির রুটিন নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, সতর্ক করলো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
ছবি সংগৃহীত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নামে ছড়িয়েপড়া বিজ্ঞপ্তিকে সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির নামে একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আগামী ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ দাবির কোনো সত্যতা নেই।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, প্রচারিত ওই বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষা-সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা বা বিজ্ঞপ্তি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। পাশাপাশি গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।




এসএসসির ফল ২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না, সম্ভাব্য সময় জানালো বোর্ড

এসএসসির ফল ২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না, সম্ভাব্য সময় জানালো বোর্ড
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের কথা ছিল। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা বোর্ডগুলো ফল প্রকাশের প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। তবে প্রশাসনিক ব্যস্ততায় তা কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। নতুন দিনক্ষণ জানা না গেলেও চলতি মাসে এ ফল প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে তিনি  বলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা বোর্ডগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন। বোর্ডও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন জরুরি প্রশাসনিক কাজে অংশীজনরা ব্যস্ত থাকায় ফল প্রস্তুতের কাজ প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য ফল প্রকাশে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে খুব বেশি দেরি হবে না।
চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ সম্ভব কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘আশা করছি, সেটা আমরা পারবো। এ মাসের মধ্যেই আমাদের কাজ গুছিয়ে ফল প্রকাশ করতে পারবো।’

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।




আন্দোলনের মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা, অনুপস্থিত ২০ হাজারের বেশি

আন্দোলনের মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা, অনুপস্থিত ২০ হাজারের বেশি
ছবি সংগৃহীত।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই দেশের ৫৯ জেলায় (চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ জেলা বাদে) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) এইচএসসির তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর সবগুলো বিষয়ের দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা ছিল।

এদিন সাধারণ আটটি শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২০ হাজার ৫২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় একই বিষয়গুলোর প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাতে অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৫৯২ জন। সেই হিসাবে প্রথমপত্রের চেয়ে দ্বিতীয়পত্রে অনুপস্থিতি বেড়েছে প্রায় পাঁচশ জন।

অন্যদিকে প্রথমপত্র পরীক্ষায় এইচএসসিতে বহিষ্কার হয়েছিল ২৯ জন। আর আজ দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা বহিষ্কার হয়েছেন ১৫ জন। সেই হিসাবে বহিষ্কার কমেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সাধারণ আটটি শিক্ষা বোর্ডে এদিন পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৯ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭৩৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১২ হাজার ১০১ জন। আর বহিষ্কার হয়েছেন ১০ জন। গড় অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিমে এদিন আরবি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৮ হাজার ৬০ জন। তার মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৮৫৫ জন। গড় অনুপস্থিতির হার ৭ দশমিক শূন্য ৯। আর বহিষ্কার হয়েছেন পাঁচজন।

অন্যদিকে কারিগরি বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৯৬ জন। এদিন কারিগরিতে কেউ বহিষ্কার হননি। গড় অনুপস্থিতির হার ৩ দশকি ৮৬ শতাংশ।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকাসহ দেশের অন্তত ৩০ জেলায় রাজপথে নামেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের বেশ কিছু দাবি পূরণ হলেও আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, পরীক্ষা শেষে বেলা ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি ‍শুরু করেন। তারা প্রথমে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হন। সেখান শিক্ষাভবন ও সচিবালয়ের দিকে রওনা দিয়েছেন। এখন তাদের একটাই দাবি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।




অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষার সুযোগ পাবে : শিক্ষামন্ত্রী

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষার সুযোগ পাবে : শিক্ষামন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বৈরী আবহাওয়াসহ বিভিন্ন অনিবার্য কারণে যেসব পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব পরীক্ষার্থী চট্টগ্রামে স্থগিত হওয়া বিষয়ের পরীক্ষার সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এদিকে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন প্রণয়নের দায়ে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ওই ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। তবে সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচটি জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে কিছু বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ প্রতিকূলতার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে পারবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে ও সময়ে এই বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ছয় নম্বর এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল ছিল, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।