উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট

উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট
ছবি সংগৃহীত।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের দিংতে পাড়ায় স্থাপন করা হয়েছিল সৌরচালিত ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন প্লান্ট ও সরবরাহ ব্যবস্থা। প্রকল্পের আওতায় ঝিরি থেকে জিএফএস পানির লাইন, ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার সুপেয় পানির ব্যবস্থা, খাবার পানির জন্য দুটি সংগ্রহ পয়েন্ট, গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য চারটি পয়েন্ট, শক্তিশালী সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি পাকা ঘর এবং একটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়।

কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি পরিশোধন ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রায় নয় মাস ধরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩৩টি পরিবারের ২০৫ জন মানুষ আবারও সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের বারবার জানানো সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে পাড়াবাসীদের মধ্যে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (LoGIC) প্রকল্পের জলবায়ু সহনশীল স্কিমের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের নাম— “জিএফএস-ভিত্তিক সৌরচালিত ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন প্লান্ট স্থাপন ও সরবরাহ ব্যবস্থা।”

প্রকল্পের মোট বাজেট ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা। এর মধ্যে লজিক প্রকল্পের পিবিসিআরজি বরাদ্দ ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা এবং কমিউনিটি কন্ট্রিবিউশন (জনগণের অংশগ্রহণ) ৭ লাখ টাকা। পিবিসিআরজি-এর বরাদ্দকাল ছিল ২০২৩-২৪ এবং বাস্তবায়নকাল ২০২৫-২৬ অর্থবছর। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর প্রকল্পটির শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

এত বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প কেন চালুর মাত্র তিন মাসের মধ্যে অচল হয়ে গেল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সুপেয় পানির সংকট দূর করাই যেখানে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল, সেখানে এত অল্প সময়ে প্লান্টটি অচল হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণমান, যন্ত্রপাতির গুণগত মান, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন-পরবর্তী দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট কিছুটা দূর হয়েছিল। কিন্তু মাত্র তিন মাস পর প্লান্টটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আবার আগের মতো দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

দিংতে পাড়ার বাসিন্দা পারাও ম্রো বলেন, “প্রকল্প চালু হওয়ার সময় মনে হয়েছিল আমাদের পানির কষ্ট শেষ হয়েছে। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতেই প্লান্ট বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, তাঁরা মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পাড়ার আরেক বাসিন্দা লংঙান ম্রো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত টাকা খরচ করে প্রকল্প করা হলো, অথচ কয়েক মাসও টিকল না। আমরা যদি আবারও পাহাড়ি ঝিরি বা দূরের উৎস থেকেই পানি সংগ্রহ করি, তাহলে এত টাকা ব্যয়ে প্রকল্প করার প্রয়োজন কী ছিল?”

লজিক প্রকল্পের উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকেন্দু ত্রিপুরা বলেন, “প্রকল্পটি অচল থাকার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। মূলত ইনভার্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পানি ফিল্টার করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। দ্রুত প্লান্টটি সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকল্পের উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন উল্লেখ করে লজিক প্রকল্পের প্রকৌশলী করুণাময় চাকমা বলেন, “আমি এখন রাঙামাটিতে আছি, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। পানি নিয়ে সমস্যা হয়ে থাকলে তার সমাধান করা হবে।” তবে উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এমন ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণ এবং নির্মাণ ও যন্ত্রপাতির মান যথাযথ ছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—‘চেষ্টা চলছে’ বা ‘দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—এ ধরনের আশ্বাস আর কতদিন শুনবেন তাঁরা? প্রকল্পটি সত্যি মানুষের পানি সংকট নিরসনের জন্য হয়ে থাকলে দীর্ঘদিন অচল থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এত বিলম্ব কেন?

এ বিষয়ে থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। প্রকল্পটি কেন অচল হয়েছে এবং বর্তমানে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর রয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের সুপেয় পানির মতো মৌলিক চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য শুধু উদ্বোধন বা অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা কত বছর কার্যকর থাকছে এবং উপকারভোগীরা কতদিন সেবা পাচ্ছেন—তার ওপরই প্রকল্পের মূল সফলতা নির্ভর করে।

তাই ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি কেন মাত্র তিন মাসেই অচল হলো, কার গাফিলতিতে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ রয়েছে, প্লান্টের যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজের মান কেমন ছিল এবং প্রকল্পটির স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কে রয়েছে—এসব বিষয় দ্রুত তদন্ত করে দেখা জরুরি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্লান্টটি মেরামত করে সচল করার পাশাপাশি অচল হওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জলবায়ু সহনশীলতার নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও পাহাড়ি মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর হবে না, বরং তা অচল অবকাঠামো তৈরি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্তে পরিণত হবে।




ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণসমাবেশ ও মানববন্ধন

ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণসমাবেশ ও মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে সদরের ভারুয়াখালীকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ব্যাপক গণসমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী ও ভারুয়াখালীর কৃতি সন্তান মোহাম্মদ নেজামুল হক।

তিনি বলেন, ভারুয়াখালীকে প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তি আমাদের ন্যায্য দাবি। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদেরকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে সিটি কর্পোরেশনের জুরিডিকশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত, উদ্বেলিত ছিলাম। কিন্তু ভারুয়াখালীকে বাদ দেওয়ার সংবাদে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, রামু উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকাকে সিটি কর্পোরেশনভুক্ত করা হলেও নানা সম্ভাবনাময়ী ভারুয়াখালী কেন আবহেলার শিকার? অথচ কক্সবাজার শহরসহ পুরো জেলার বিভিন্ন স্তরে এই এলাকাবাসীর অবদান রয়েছে।

এড. মোহাম্মদ নেজামুল হক বলেন, সিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মাননীয় এমপি লুৎফুর রহমান কাজল আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি। আশা করি ভারুয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে তিনি আন্তরিক ভূমিকা পালন করবেন।

মাওলানা মোঃ সায়েমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর নাজিমউদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল আলম, মাওলানা আব্দুল হাকিম সিদ্দিকী, এডভোকেট শওকত ওসমান, জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হোসাইন, দলিল লেখক মাহমুদুর রহমান, আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান সিকদার, মো. ফজলুল হক মেম্বার, মাস্টার শেফা উদ্দিন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা সৈয়দ নূর, বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল, এডভোকেট রেবেকা সুলতানা, এডভোকেট আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক জহিরুল হক, ব্যাংকের মোহাম্মদ নূর, এনজিওকর্মী মোঃ আব্দুল্লাহ, এডভোকেট শাফায়েত, ইঞ্জিনিয়ার রমিজুর রহমান, হাফেজ আব্দুস শুকুর, শাহীন চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার সদরের সমৃদ্ধ জনপদের মধ্যে অন্যতম এলাকা ভারুয়াখালী। লবণ, মৎস্যশিল্পসহ নয়নাভিরাম একটি গ্রামীণ জনপদ। প্রায় অর্ধ লক্ষ জনগণের বসতিপূর্ণ এই এলাকাকে সরকারের মহাপরিকল্পনার স্রোতে মেলাতে পারলে পাল্টে যাবে উন্নয়নের চিত্র।

সোমবার দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণ মিছিল শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সমৃদ্ধ ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করে এলাকার স্বতঃস্ফূর্ত জনতা।

তারা জানায়, প্রাকৃতিক সম্পদের ভরপুর প্রাচীন গ্রামীণ জনপদ ভারুয়াখালী প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হলে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে সরকার।

ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তরের দাবিটি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে সরকারি সিদ্ধান্তেই সমৃদ্ধির সোপানে পৌঁছবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপদ প্রতিনিধিদের ভূমিকায় স্বপ্ন পূরণ হবে এলাকাবাসীর।
 




লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি

লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মিরপুর থেকে ছয় সদস্যের একটি পর্যটক দল থানচি উপজেলার বাঘের লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে যায়। ভ্রমণের একপর্যায়ে দলের সদস্য নাফিস মাশরুর ইসলাম (নজরুল ইসলাম), ঠিকানা পূর্ব সেনপাড়া পর্বতা দক্ষিণ, মিরপুর, ঢাকা—হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপ্রায় এলাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির সহায়তা চাওয়া হয়।

পরিবারের অনুরোধের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিকের নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্প থেকে একটি বিশেষ টহল দল দুটি নৌকাযোগে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় পৌঁছে অসুস্থ পর্যটকসহ তার সঙ্গীদের উদ্ধার করে। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলেই অসুস্থ পর্যটককে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা দেন।

পরবর্তীতে অসুস্থ পর্যটকসহ দলের অন্য সদস্যদের নৌকাযোগে নিরাপদে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপদগ্রস্ত পর্যটকের জীবন রক্ষায় দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় বিজিবির মানবিক ও জনসেবামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জরুরি প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে তারা। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ ব্যবসায়ীকে পার্বত্য জেলা পরিষদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান

বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ ব্যবসায়ীকে পার্বত্য জেলা পরিষদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বলিবাজার ভেজিটেবল শেড প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মাউসেটুন তঞ্চঙ্গ্যা, চনুমং মারমা, মো. জসিম উদ্দিন তুষার, লুসাইমং মারমা প্রমুখ।

এ সময় অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জন এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৪ জনসহ মোট ১৪ জন ব্যবসায়ীর মাঝে এই ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সহযোগিতা করা জরুরি। এ ধরনের সহায়তা ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বলিপাড়া বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হলো।