আনোয়ারায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ছিনতাইয়ের মামলা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইলিয়াস কাঞ্চন রুবেলের (৩৫) বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় ওমর ফারুক (৩৮) নামের এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আনোয়ারা থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গত রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশের খবরটি বুধবার (৫ আগস্ট) জানাজানি হয়।
মামলায় ইউপি সদস্য ইলিয়াস কাঞ্চন রুবেল ছাড়াও তাঁর দুই সহযোগী সাজ্জাদ হাসান (২৭) ও ওমর কাদের সুজাতকে (২৫) আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বৈরাগ ইউনিয়নের মধ্যম গুয়াপঞ্চক এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের নির্মাণাধীন ভবনের নালায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, ইউপি সদস্য ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে ওই নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৪ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
ভুক্তভোগী ওমর ফারুক জানান, গত ২৮ জুলাই পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে টাকা ধার করে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে ইউপি সদস্য ও তাঁর সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর গতিরোধ করেন। দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাঁর সঙ্গে থাকা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য ইলিয়াস কাঞ্চন রুবেল বলেন, "আমি এলাকায় মাদকমুক্তির সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি করেছেন।"
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, "এখনও পর্যন্ত আদালত থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। কাগজ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন বলেন, "বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিধিমোতাবেক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"











