অস্থির সোনার বাজারে ফের দরপতন, ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯০ টাকা
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

অস্থির সোনার বাজারে ফের দরপতন, ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

অস্থির সোনার বাজারে ফের দরপতন, ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯০ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

সোনার বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন নেমে এসেছে ২ লাখ ৫১ হাজার টাকায়।

আজ (সোমবার) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম ওই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমানো হয়েছে।

সকাল-বিকেল দাম কমার কারণ প্রসঙ্গে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন বন্ধ থাকলেও দেশের বাজার খোলা ছিল। চাহিদা কম থাকায় গতকাল রাত্রে দাম কমানো হয়েছে। এরপর আজ আন্তর্জাতিক বাজার চালুর সঙ্গে সঙ্গে প্রতি আউন্সে ২০০ ডলারের মতো দরপতন হয়েছে। পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি ও সামগ্রিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বৈঠক করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের লেনদেন বন্ধ ছিল। সোমবার বাজার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় দর পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়,  আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৫১ ডলারে নেমে এসেছে। শনিবার লেনদেন শেষে ছিল ৪ হাজার ৮৯৩ ডলার। তার আগে শুক্রবার ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং বৃহস্পতিবার ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।

সোমবার সকালে দেশের বাজারে বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে এর দাম। বৃহস্পতিবার সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এতে করে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে একধাপে সোনার দাম আর কখনোই এতটা বাড়ানো হয়নি।

২৪ ঘণ্টা না যেতেই শুক্রবার সকালে দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ভরিতে কমায় ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে ভালো মানের সোনার দাম কমে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায় নেমে আসে। ওই দাম শুক্রবার ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছিল।




গভর্নর পদে পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া : অর্থমন্ত্রী

গভর্নর পদে পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া : অর্থমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে ড. আহসান এইচ মনসুর সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অনেক কিছুরই পরিবর্তন হবে। এখানেও পরিবর্তন হয়েছে। এটা নতুন কিছু না। আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে। এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া৷ 
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‘গভর্নর পদে এত দ্রুত পরিবর্তন? বিশেষ কোনো কারণ আছে কিনা?’ সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।




সরানোর খবরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

সরানোর খবরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর
ছবি সংগৃহীত।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিয়েই তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয় ত্যাগ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চলে যাওয়ার সময় নতুন গভর্নর নিয়োগ ও তার পদত্যাগের বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি তবে খবরের শুনেছি।’ এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি।

সূত্র জানায়, সকালে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কার্যালয়ে উপস্থিত হলেও হঠাৎ করেই তার অপসারণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ার ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নতুন গভর্নরের হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


এরপর তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা না বলেই অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে ব্যাংকের অভ্যন্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমর সদস্য ও হিরা সোয়েটারের মালিক।

তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে গভর্নরের পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এদিকে গভর্নরের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা।




চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ‘সরকারের পরিকল্পনা’ জানালেন অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ‘সরকারের পরিকল্পনা’ জানালেন অর্থমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন বাণিজ্যিক রাজধানীর কাজ শুরু হবে। এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। পোর্টের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেগুলো এক কথায় বলা সম্ভব নয়। তিনি কর্মসংস্থানকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন তিনি। পরে জুমার নামাজ আদায় করবেন কদমতলী মাদারবাড়ী জামে মসজিদে।

বেলা আড়াইটা থেকে ৩টা পর্যন্ত নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন। এরপর একই স্থানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্দরসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। রাত ৮টা ২৫ মিনিটে একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।

অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম সফরের অনুভূতি জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, ভালো লাগছে। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছি। একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নেও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।