অভিযোগ তদন্তে গিয়ে যুবককে ‘মেরে’ হাসপাতালে পাঠালো পুলিশ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূজপুরে এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এসআই খালেদ নামে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে পশ্চিম ভূজপুরের বারইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম আব্দুর রহমান (২৮)। সে ওই এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন আক্তার থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তে ভুজপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খালেদ ওই এলাকায় যান। এ সময় আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আব্দুর রহমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে তা জানতে চাইলে এসআই খালেদ হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই এবং এরপর কী ঘটেছে, তা আর মনে নেই।
স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে আমি থানায় অভিযোগ করেছিলাম। তবে অভিযোগের তদন্তের নামে আমার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে তা আমি প্রত্যাশা করিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই খালেদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুর রহমানকে ডেকে আনা হয়েছিল, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল আলম বলেন, আব্দুর রহমান নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আমরা তাঁকে চিকিৎসা দিয়েছি।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, বিষয়টি জেনেছি, তবে আমি বর্তমানে থানার বাইরে আছি। থানায় ফিরে বিস্তারিত ঘটনা যাচাই করে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের বিরুদ্ধে আঘাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনা কারণে কাউকে আঘাত করার কোনো সুযোগ নেই এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








