অগ্ন্যুৎপাত : ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দরে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

অগ্ন্যুৎপাত : ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দরে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা

অগ্ন্যুৎপাত : ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দরে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা
ছবি সংগৃহীত।

ইন্দোনেশিয়ার দুই প্রধান দ্বীপ জাভা ও সুমাত্রাকে পৃথক করা সুন্দা প্রণালির একটি দ্বীপে অবস্থিত আগ্নেয় পর্বত আনাক ক্রাকাতাউয়ের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং বিপুর পরিমাণে লাভা, গ্যাস এবং ছাইয়ের উদ্গীরণের জেরে রাজধানী জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাট্টাসহ ৮টি বিমানবন্দরে উড্ডয়ন-অবতরণসহ যাবতীয় অপারেশন স্থগিত রেখেছে ইন্দোনেশিয়া।

এতে দেশটির আটটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী। আজ সোমবারও বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিপর্যয়কর পরিস্থিতির কারণে ১ হাজার ৫৫৮ টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন-অবতরণের শিডিউল পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে আনাক ক্রাকাতাউ পর্বত। এর জেরে ইন্দোনেশিয়ার বিশাল অংশজুড়ে শুরু হয় ‍নিম্নমত্রার ভূকম্পন এবং পর্বতের জ্বালামুখ দিয়ে শুরু হয় অগ্ন্যুৎপাত, গ্যাস ও লাভার উদ্গীরণ। গতকাল রোববার দু’দফা উদ্গীরণ হয়েছে আনাক ক্রাকাতাউ পর্বতে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়া যাত্রীদের অধিকাংশই সিঙ্গাপুর, দোহা, সিডনি এবং কুয়ালালামপুর রুটের যাত্রী।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগনাদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পশ্চিম জাভা দ্বীপেও অগ্নুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ছে— এই তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট অপারেশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যেসব যাত্রী আটকা পড়েছেন, তারা চাইলে টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। সেই সঙ্গে, ফ্লাইট অপারেশন ফের চালু হওয়ার পর যেন সঙ্গে সঙ্গে তা যাত্রীদের জানানো হয়— সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোকে।

সূত্র : বিবিসি




সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ছবি সংগৃহীত।

সাত বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিল্লিতে শনিবার (১২ সেপ্টম্বর) ও রোববার অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।

তার দিল্লি সফর হবে, সে বিষয়টি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতে গিয়েছিলেন শি জিনপিং। সে সময় তিনি চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

তার এই আসন্ন সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চলমান প্রচেষ্টার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি ব্রিকসে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি এরই মধ্যে জটিল ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর তার প্রভাব পড়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে উষ্ণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে এবং শি জিনপিংয়ের এই সফর সেক্ষেত্রে আরও বেশি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর সম্পর্কে ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর, মোদীর দিকে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করছে। তবে রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি হবে এমনটা আশা করলে খুব হয়তো খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এখনো নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এর নেপথ্যে কঠোর বিধিনিষেধের ফলে বিনিয়োগ স্থগিত হওয়া, ভিসা পাওয়ায় বিলম্ব এবং শিল্প সরঞ্জামের উপর বিধিনিষেধ আরোপের মতো কারণ রয়েছে।

গালওয়ানের পর সম্পর্কে উত্তেজনা কমবে?

২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে গালওয়ানে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে। সংঘর্ষে তাদের মাত্র চারজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল বলে চীন দাবি করেছিল।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। গত বছর নরেন্দ্র মোদী সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে চীনে তিয়ানজিন সফর করেন। সেই সময় শিরোনামে উঠে এসেছিল রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়।

সেই সময় আরও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল এবং তা হলো, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটা বড় ধাক্কার চেয়ে কম ছিল না।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দিল্লি-ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ ভি পান্থের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভরসার যোগ্য নয়’ এমন নীতি দুই দেশকে একটা জায়গা দিয়েছে যেখানে তাদের নিজেদের মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে দেশের মানুষের স্বার্থের জন্য আলোচনার টেবিলে বসতে পারে।

পান্থ বিবিসি নিউজ হিন্দিকে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশেরই একে অন্যকে প্রয়োজন ও সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই নরম মনোভাব দেখিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন চলতি সপ্তাহের ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম সিনিয়র মিলিটারি কমান্ডার পর্যায়ের ফ্ল্যাগ মিটিং ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচাতে অনুষ্ঠিত হয় ও ৭ সেপ্টেম্বর সীমান্তে চীনের দিকে থাকা দামাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় বৈঠক।

গত বছর, ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও পেশাদারদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও শিথিল করা হয়েছিল।

২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শি জিনপিং প্রায় পাঁচ বছর পরে বৈঠক করেছিলেন। সেসময় তারা লাইন অব কন্ট্রোল বা এলএসি থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ২০২০ সালে যে বিবাদ শুরু হয়েছিল তা সমাধানের জন্য চুক্তিকে স্বাগত জানান।

একই সঙ্গে ধারণা করা হয়েছিল, দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। তবে হর্ষ ভি পান্থ মনে করেন সীমান্ত বিরোধ এত তাড়াতাড়ি শেষ হবে না ও এটা এমন কোনো বিষয়ও না যাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তার কথায়, এখন দুই পক্ষের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সমস্যা আর না বাড়ে। ২০২০ সালের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে ও সীমান্ত সম্পর্কের ওপর আস্থা তৈরি হয়। এজন্য ওয়াং ই ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে বৈঠকও হয়েছিল। এরপর কমান্ডারদের মধ্যেও বৈঠক হয়।

ভারত ও চীনের মধ্যে দুটি বড় ইস্যু

পান্থ ব্যাখ্যা করেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আস্থার ঘাটতি ও বাণিজ্য ঘাটতি দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

তার মতে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং এই সফরে ৪০০ জন প্রতিনিধির একটা বড় প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে আসছেন, যাদের বেশিরভাগই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত।

এর অন্যতম কারণ হলো গালওয়ানের ঘটনার পর ভারত খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে সীমান্তে যে কোনো রকম সমস্যা সামগ্রিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্য অংশীদারিত্বের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

দেখা গিয়েছে যে, একদিকে যেমন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তেমনই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে ভারত। গালওয়ানে সংঘর্ষের পর এইসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস ও সোলার সেল সেক্টর ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ক্যাপিটাল গুডস বা মূলধনী পণ্য বলতে ভৌত, মানবসৃষ্ট সম্পদকে বোঝায় যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে বিক্রি না করে অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করে।

কয়েকটা নির্দিষ্ট শিল্পের ক্ষেত্রে ভারত দুই দেশের সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগের দ্রুত অনুমোদনেরও অপেক্ষা করছে।

সম্প্রতি, নয়াদিল্লি স্মার্টফোন উৎপাদনের জন্য ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিস ও চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ভিভো মোবাইলের মধ্যে যৌথ উদ্যোগসহ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন জানিয়েছে। তবে কিছু বড় বিনিয়োগ ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে এখনো কিছু বাধা রয়ে গিয়েছে।

ভারত সরকারের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিওয়াইডি ও গ্রেট ওয়াল মোটরের মতো বড় চীনা সংস্থাগুলোর জন্য এই শিথিলতা যথেষ্ট নয়। এই গাড়ি নির্মাতারা দিল্লির পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর ভারতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত রাখে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, সম্প্রতি কিরগিস্তানে আয়োজিত সম্মেলনের সময় শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদী একটা সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন এবং সে সময় তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশ ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার ও তারা একে অন্যের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ’।

আসলে দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের অস্থিতিশীল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে লড়ছে।

হর্ষ ভি পান্থ ব্যাখ্যা করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়েছে। এমনকি, ইউরোপও চীনের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেছে। চীনের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিভিত্তিক ও তাদের বাজার প্রয়োজন। ভারত তাদের কাছে একটা বড় বাজার হয়ে উঠতে পারে।

তার মতে, ভারতের দিক থেকে একটা বড় সমস্যা হলো বাণিজ্য ঘাটতি, যা ১০০ বিলিয়ন (দশ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের পণ্যের জন্য চীনে কোনো বাজার নেই। ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে (উৎপাদন ক্ষেত্রে) ভারত কৌশলগত ক্ষেত্র ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে বাড়াতে চায়, তবে প্রযুক্তি হস্তান্তর হওয়া দরকার, যাতে ভারত ভ্যালু চেইনের (মূল্য শৃঙ্খলে) নিরিখে এগিয়ে যেতে পারে।

পান্থের মতে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরের সময় দু'পক্ষের মধ্যে এই নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

চীন কী চায়?

সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং রয়টার্সকে বলেছেন, চীন অবশ্যই সম্পর্কের উন্নতি করতে চায়, কিন্তু আমরা দেখতে চাই ভারত সত্যিই কতটা আগ্রহী। তবে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, পান্থের কথায়, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে ও একটা নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা তা (অর্থনৈতিক শক্তি) ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে, এমন এক সময় যখন দুই দেশই মার্কিন বাণিজ্য নীতি দ্বারা প্রভাবিত।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ইস্যুতে মনোনিবেশ করা দুই দেশের স্বার্থের পক্ষে, তবে বিষয়টা তেমন সহজ নয়। বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াও বাজার প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিধিনিষেধের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। দুই পক্ষই এই সমস্যাগুলো কতটুকু সমাধান করতে পারে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমস ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির বিষয়ে আশাবাদী।

গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫১.১ বিলিয়ন (১৫ হাজার ১১০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে, যা চীনকে আরও একবার ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার করে তুলেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্থান-পতন সত্ত্বেও, এই উৎসাহব্যঞ্জক পরিসংখ্যান দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতি এবং দুই দেশের অর্থনীতির ক্রমাগত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।

‘তারা একসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আরো সম্প্রসারণ ও উন্নতির জন্য একটা শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।’

যেসব বাণিজ্যিক বাধার সমাধান দরকার

সম্পর্কের উষ্ণতা আনা ও উন্নতি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অচলাবস্থা রয়ে গেছে। গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান আলিপের দেওয়া এক প্রস্তাব অনুমোদন করতে রাজি হয়নি দিল্লি। এই প্রস্তাবে ভারতের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ছিল।

অনুমোদন না দেওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল ভারত।

রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার চীনের মোবাইল ফোন নির্মাতা শাওমির বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করার কথা বিবেচনা করছে। এই তদন্তের ভার ছিল সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসের ওপর। ভারতে ওই কোম্পানির কার্যক্রম সংক্রান্ত কথিত অনিয়ম ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শাওমি বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা আইন মেনেই কাজ করেছে।

অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা তাদের সংস্থাগুলোকে বন্দরের সরঞ্জাম, সৌর প্যানেল ও মোবাইল উৎপাদন সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত পণ্য ভারতের কাছে না বিক্রি করার কথা বলেছে।

রয়টার্স এও দাবি করেছে যে, সৌরশক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ চীনা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আটকে রাখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, সুড়ঙ্গ নির্মাণের কয়েকটা মেশিন এইভাবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

হর্ষ ভি পান্থ বলছিলেন, দুইপক্ষের পক্ষ থেকেই কিছু বিধিনিষেধ কমানো যেতে পারে। তবে রাতারাতি দৃশ্য বদলে যাবে বলে মনে হয় না। চীনের অর্থনৈতিক শক্তি থেকে লাভবান হতে চায় ভারত। কীভাবে চীনা বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা যায় তা নিয়েও ভারতে বিতর্ক রয়েছে।

‘আর চীনকে দেখাতে হবে যে তারা ভারতের প্রতি অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে সিরিয়াস ও এর একটা উদাহরণ হতে পারে ভারতকে তাদের (চীনা) বাজারে প্রবেশাধিকার দেওয়া।’

গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে ভারতের কৃষিপণ্য, খনিজ সম্পদ ও বিশেষত ভোগ্যপণ্য প্রবেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষেত্র উপকৃত হবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা




হরমুজে ফের মার্কিন নৌযানে হামলা ইরানের আইআরজিসির

হরমুজে ফের মার্কিন নৌযানে হামলা ইরানের আইআরজিসির
ছবি সংগৃহীত।

হরমুজে ফের দুই মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গত ৭ দিনে এই নিয়ে ৩ বার হরমুজ প্রৃণালিতে মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করল আইআরজিসি।

গত কাল বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে দু’টি চালকবিহীন মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করা হয়েছে। নৌযান দু’টি মার্কিন বাহিনীর সামুদ্রিক ড্রোন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম অপারেশন সেন্টার (ইউএকএমটিও) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ১০ মিনিট) হরমুজে দু’টি মার্কিন নৌযানে অন্তত ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে একটি নৌযানে আগুন ধরে গিয়েছে। অপরটির কী অবস্থা, তা এখনও জানা যায়নি।

ইউকেএমটিও’র বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির যে এলাকায় হামলা হয়েছে, সেখান থেকে ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের রাজধানী আল খাসাবের উপকূলের দূরত্ব ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ভৌগলিকভাবে এই প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ জারির পর থেকে থেকে হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর হরমুজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন নৌবাহিনীর দু’টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ অচল করে দিয়েছিল আইআরজিসি। ৯ ডিসেম্বর ফের দু’টি যুদ্ধ জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা। তার পর গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় হামলা চালাল ইরান।

সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি




বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত ডিআর কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, নিহত অন্তত ২৯ শিশু

বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত ডিআর কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, নিহত অন্তত ২৯ শিশু
ছবি সংগৃহীত।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীও রয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফোর্সেস/এএফসি-এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে।

বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের দুটি স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। পূর্ব ডিআর কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভু শহরটি বর্তমানে এএফসি/এম২৩-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে (জিএমটি সকাল ৬টা) উজামা প্রাইমারি স্কুল, ফুরাহা সেকেন্ডারি স্কুল এবং কাছের একটি বসতিতে আগুন লাগে। এতে অন্তত ২৯ শিশু নিহত হয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, আগুনে দুইটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘর পুড়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আগুনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেকে একে অন্যের ওপর পড়ে ও পদদলিত হয়, আবার কেউ কেউ বের হওয়ার জন্য বিপজ্জনক পথ বেছে নেয়। এতে অনেকেই জ্ঞান হারান এবং কয়েকজন পদদলিত হয়ে মারা যান।

কানিউকা জানান, আহত ২৯ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজন বুকাভু প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে এএফপিকে বলেন, তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। অধিকাংশেরই শ্বাসরোধজনিত গুরুতর অবস্থা ছিল। তিনি জানান, কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও কয়েকজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।

আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনে বেশ কয়েকটি বাড়ি জ্বলছে। আগুনের শিখা ছড়িয়ে গিয়ে দুটি স্কুলেও পৌঁছে যায়।

বুকাভু শহরটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের লক্ষ্যে গোষ্ঠীটি তাদের অভিযান জোরদার করার পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এএফসি/এম২৩ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছিল এবং তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। তদন্ত চলাকালে সবাইকে শান্ত থাকা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

কঙ্গোর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বুকাভুতে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত রোববারের (৬ সেপ্টেম্বর) একটি আগুনে ৪৫টির বেশি বাড়ি পুড়ে যায়।

সূত্র : আল জাজিরা