আজ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩০

সরকারি অফিস সময়সূচী মানছেন না সীতাকুণ্ডের এসিল্যান্ড!

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশের সময় : বুধবার ১২ অক্টোবর ২০২২ ০২:০৩:০০ পূর্বাহ্ন | জাতীয়

 

সারাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সরকার নির্দেশিত সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৩ টার অফিস সিডিউলকে রীতিমত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল আলম। এমনকি নতুন অফিস সিডিউলতো নয়ই পূর্বের অফিস সময়ও মানছেন না তিনি। ইচ্ছে মতো অফিসে আসেন, ইচ্ছে মতো যান। তার বক্তব্য শুধু সহকারী কমিশনার (ভূমি) নন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও তিনি। 

সময় মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকাল আটটা। সীতাকুণ্ড উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান ফটক দিয়ে  একে একে প্রবেশ করতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ সেবাগ্রহীতাদের। কেউ এসেছেন নামজারির শুনানীতে অংশ নিতে। কেউ এসেছেন মিছ মামলার শুনানীতে হাজিরা দিতে। আবার কেউ এসেছেন ভূমি সংক্রান্ত টুকিটাকি সেবা গ্রহণে। কিন্তুু এসব সেবা প্রদান করবেন যিনি সেই এসিল্যান্ড এসে পৌছাননি তখনও। সকলের অধীর আগ্রহে অপেক্ষা। ইতিমধ্যে ঘড়িতে নয়টা বাজল। অফিসের অন্যান্য কক্ষে তখনও দুয়েকজন কর্মচারী এসে পৌছায়নি। 

এদিকে সেবা গ্রহীতাদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হয়না। তীব্র গরমে ক্লান্ত-শ্রান্ত সেবা গ্রহীতারা এদিক-সেদিক পায়চারি করছে। ঘড়ির কাঁটা তখন দশটা ছুঁইছুঁই। অফিসের অন্যান্য কক্ষে ততক্ষণে সব কর্মচারীরা উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তুু সেবা গ্রহীতাদের প্রধান লক্ষ্য যিনি সেই কাঙ্খিত এসিল্যান্ড তখনও তার দপ্তরে পৌঁছাননি। এবার সেবাপ্রার্থীদের বিরক্তির যেন বহিঃপ্রকাশ ঘটছিল। একজন অন্যজনকে বিড়বিড় করে এসিল্যান্ডের বিলম্বে আসার বিষয়টি জানান দিচ্ছিলেন। 

কেউ অফিসের গলিতে, কেউ ছাউনির নিচে, কেউবা আঙ্গিনায়। আবার কেউবা ফটকের সামনের সড়কে ছোটাছুটি করছিল। কখন আসবেন এসিল্যান্ড? ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল গড়িয়ে বেলা এগারোটা। অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না তবুও। আগত প্রার্থীদের চেহারায় যেন ক্ষোভ ছিটকে পড়ছে তখন। ঘড়ির কাঁটায় এবার বেলা সাড়ে এগারোটা। 

ভূমি অফিসের পকেট গেইট অভিমুখে পা পড়ল এসিল্যান্ড মোঃ আশরাফুল আলমের। এরপর তিনি অফিস আঙিনা পেরিয়ে প্রবেশ করলেন নিজ দপ্তরে। এসময় দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘন্টা অপেক্ষারত সেবা গ্রহীদের এসিল্যান্ডকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। 

এসময় এ প্রতিবেদকের ক্যামেরার সামনে এক সেবা গ্রহীতা বলেন, আমি সেই সকাল ৮টায় এসেছি। ৩ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। এখনও এসিল্যান্ডের দেখা নেই। আটটা থেকে সেবা না পেলেও ঠিকই বিকাল তিনটায় সেবা গ্রহীতাদের জন্য ফটক তালাবদ্ধ হয়ে যায়। 

 

আরেক সেবা গ্রহীতা বলেন, ওনার বিলম্বে আসার কারণে আমাদের নামজারি খতিয়ান সৃজন করতে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সবগুলো টেবিল পেরিয়ে এলেও ওনার টেবিলে এসে আটকে পড়ে ফাইল। তখন অফিস সহকারীরা বলেন, স্যার সময় পাননি। তাই খতিয়ানে দস্তখত করতে পারেননি। এভাবেই চলে দিনের পর দিন। 

আলহাজ্ব শাহ আলম নামে এক সেবা গ্রহীতা বলেন, ১-২ মাস অপেক্ষার পর আমার একটি মিছ মামলার শুনানীর তারিখ নির্ধারিত হয়। সেই দিনটি এসিল্যান্ড ঘোষিত গণশুনানির দিন হলেও ওইদিন তিনি গণশুনানি করেননি। ফলে পরবর্তী তারিখের জন্য আমাদের আরও ১-২ মাস অপেক্ষা করতে হয়। 

শাহ আলমের এ বক্তব্যের রেশ ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকমাস আগে হঠাৎ করে গ্রাহক হয়রানি লাঘবে প্রতি সপ্তাহের বুধবারে গণশুনানির ঘোষণা দেয় এসিল্যান্ড মোঃ আশরাফুল আলম। এসিল্যান্ডের মোবাইল নম্বর সম্বলিত এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণার পোস্টার সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিস, ভূমি অফিস, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সম্মুখে ও সীতাকুণ্ড বাজারের অলিতে-গলিতে চোখে পড়ে। কিন্তুু পোস্টারিংয়ের পর কয়েকটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলেও হঠাৎ ঘোষণার মতো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় গণশুনানী। 

 

 

অন্যদিকে নিয়ম করে বেলা এগারোটার পর সীতাকুণ্ডের এসিল্যান্ডের দপ্তরে আসার বিষয়টি দৈনিক সাঙ্গুর কাছে বারংবার জানিয়ে আসছিলেন অনেক ভুক্তভোগী। সেই সূত্র ধরে আজ মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকেই এসিল্যান্ডের আসার পথ চেয়ে বসে থাকে এ প্রতিবেদক। উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত এসিল্যান্ডের বাসভবন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ভূমি অফিসে পৌঁছাতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন মিনিট। সেইমতে আজ দেখা যায় এসিল্যান্ড মোঃ আশরাফুল আলম বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে তার বাসভবন থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন। আর এসে পৌঁছান ১১ টা ৩০ মিনিটে। 

 

 

নিয়মিত বিলম্বে দপ্তরে আসার বিষয়টি জানতে চাইলে সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল আলম দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন, তিনি শুধু সহকারী কমিশনারই (ভূমি) নন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও। ভূমির বাইরেও তার অনেক কাজের দায়িত্ব রয়েছে। ৮টা-৩টা নয় ২৪ ঘন্টাই সেবা দিতে প্রস্তুুত তিনি। তবে দৈনিক সাঙ্গুর দীর্ঘ অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা। এসিল্যান্ড আশরাফুল আলম প্রায়শই বাসা থেকে বেরিয়ে অন্য কোন স্থান নয় উপজেলা অভ্যন্তর দিয়ে তার দপ্তরেই প্রবেশ করেন।