আজ সোমবার ২৭ জুন ২০২২, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৯

আনোয়ারায় যৌতুকের জন্য স্বামীর লাথিতে স্ত্রীর গর্ভের বাচ্চা নষ্ট!

নিজস্ব প্রতিবেদক,আনোয়ারা : | প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ ০৫:৩৫:০০ অপরাহ্ন | চট্টমেট্টো

আনোয়ারায় দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্বামীর লাথিতে অন্তসত্ত্¦া স্ত্রীর তিন মাসের গর্ভের বাচ্চা নষ্টের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বারশত ইউনিয়নের চালিতাতলী গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় বুধবার(২২ জুন) স্বামী মোহাম্মদ ফোরকান(২২)সহ তার পরিবারের ৫ জনকে আসামী করে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস(২০)। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য আনোয়ারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী  জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকরে জন্য আমাকে শারীরিক নির্যাতন করত। বিষয় গুলো সামাজিক ভাবে একাধিকবার সমাধান হলেও স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মাদকাসক্ত হওয়ায় তারা আমাকে মারধর করে আমার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে পেলেছে। এখন আমাকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও প্রান নাশের হুমকি দিতে থাকেন। এ ঘটনার আমি বিচার চাই।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, বারশত ইউনিয়নের চালিতাতলী গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে মো. ফোরকানের সাথে একই ইউনিয়নের বোয়ালীয়া গ্রামের আবদু রাজ্জাকের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের গত বছরের ২৬ নভেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মাদকাসক্ত স্বামী ফোরকান ও তার পরিবার জান্নাতুল ফেরদৌসকে বাপের বাড়ী থেকে ব্যবসার জন্য দুই লাখ টাকা যৌতুক দিতে বলে।  এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সামাজিক সালিসি বৈঠকও হয়। গত ১০ জুন মধ্যরাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে ফোরকান  স্ত্রীর পেটে লাথি মারে। এতে জান্নাতুল ফেরদৌস অসুস্থ হয়ে পড়লে পরের দিন তার পিতা আবদু রাজ্জাক মেয়েকে তার বাড়ীতে নিয়ে আসে। গত ১৪ জুন জান্নাতুল ফেরদৌসের রক্তক্ষরণ শুরু হলে তার বাবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখান থেকে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে  প্রেরণ করে। হাসপাতালের আলট্রাসানোগ্রাফিতে জান্নাতুল ফেরদৌসের  গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়েছে বলে রিপোর্ট আসে।

এ ঘটনায় গত বুধবার স্বামী মোহাম্মদ ফোরকান(২২)কে প্রধান আসামী করে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী  জান্নাতুল ফেরদৌস(২০)। মামলার অন্যান্য আসামীরা হল,ফোরকানের পিতা আবদুল গফুর(৫৫), ভাই মো. ওসমান(২৯), মা ফরিদা (৪৫) ও বোন শাহিদা(২০)।

জান্নাতুল ফেরদৌসের মা সেলিনা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি।মেয়ের সুখ আর দেখা হলোনা। 

তবে এ বিষয়ে স্বামী মো. ফোরকানকে একাধিকবার মুঠো ফোনে কল করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উজ্জল কুমার দত্ত বলেন, উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

 

 



সবচেয়ে জনপ্রিয়