৭ বন্ধুর সফলতার গল্প: পরিশ্রম আর পরিকল্পনায় স্বপ্ন ছুঁয়েছে ‘আল বারাকাহ অ্যাগ্রো ফার্ম’

বন্ধুত্বের আড্ডা কখনো কখনো বদলে দিতে পারে জীবনের পথ। ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজভান্ডারের সাত যুবকের গল্প যেন ঠিক তেমনই। নাজিম, আলাউদ্দিন, ফখরুল, নাজমুল, হোসেন, ইমরান ও নজরুল—সাত বন্ধু মিলে শখের বশে শুরু করেছিলেন ছোট্ট একটি গরুর খামার। মাত্র ছয়টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করা সেই উদ্যোগ এখন অর্ধশতাধিক গরুর একটি সম্ভাবনাময় খামারে পরিণত হয়েছে। নাম ‘আল বারাকাহ অ্যাগ্রো ফার্ম’।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে যাত্রা শুরু হওয়া খামারটি এখন স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি নাম। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খামারজুড়ে চলছে ব্যস্ততা। গরুর পরিচর্যা, খাবার ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিক্রির প্রস্তুতিতে সময় পার করছেন উদ্যোক্তারা।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব মাইজভান্ডার আলম শাহ বাড়ির পাশে খোলামেলা পরিবেশে গড়ে উঠেছে খামারটি। সারি সারি গরু, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর ব্যস্ত কর্মীদের উপস্থিতি যেন জানান দিচ্ছিল একটি পরিকল্পিত খামারের গল্প। কোথাও গরু খাবার খাচ্ছে, কোথাও পরিচর্যা চলছে, আবার কোথাও ক্রেতারা গরু দেখছেন।

খামারে বর্তমানে দেশি ও উন্নত জাতের ৫০টির বেশি গরু রয়েছে। নেপালি, খির নেপালি, শাহিওয়াল, জার্সি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুও আছে সেখানে। উদ্যোক্তারা জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। গরুর খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘাস, খড় ও ভুসি। মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয়নি।
ক্রেতাদের সুবিধার্থে গ্রামের প্রবেশমুখে গ্রিন টাওয়ারের পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী প্রদর্শনী শেড। সেখানে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু সাজিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে পছন্দ অনুযায়ী গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
খামারের অংশীদার মো. আলাউদ্দিন ও ফরহানুল আলম ইমরান বলেন, "একদিন আড্ডার সময় গরুর খামার করার পরিকল্পনা আসে। শুরুতে বিষয়টি ছিল শুধুই শখ। কিন্তু পরে আমরা সবাই মিলে এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া শুরু করি। প্রথমে ছয়টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে খামারটি বড় হয়েছে। বর্তমানে খামারে ৫২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি গরু ইতোমধ্যে প্রায় ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।"
তারা আরও জানান, শুরু থেকেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর তাদের সহযোগিতা করে আসছে। বিশেষ করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. নাজিম উদ্দিন নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে পাশে রয়েছেন।
খামারের পরিচালক নজরুল ইসলাম তাজু বলেন, "আমরা চাই মানুষ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত গরু পাক। তাই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো লালন-পালন করছি। ভবিষ্যতে খামারটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।"
উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, "সাত যুবকের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা স্বল্প সময়ে একটি সম্ভাবনাময় খামার গড়ে তুলেছে। প্রাকৃতিক উপায়ে গরু পালন করায় খামারটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। নবাগতরা এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে এলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।"








