২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬–৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার : ববি হাজ্জাজ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬–৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার : ববি হাজ্জাজ

২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬–৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার : ববি হাজ্জাজ
ছবি সংগৃহীত।

দেশে ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার মৌলিক সক্ষমতা নয়। এটি মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে কেবল পড়া, লেখা ও গণনার সক্ষমতা হিসেবে না দেখে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় একজন স্বাক্ষর মানুষ শুধু তথ্য পড়তে বা লিখতে সক্ষম হন না। তিনি তথ্য অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করতে পারেন, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হন এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হলেও এখনও একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কার্যকর সাক্ষরতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার বাইরে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রতি জেলায় ৮০ জন করে মোট ৫ হাজার ১২০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৪৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০ ঘণ্টা কার্যকর সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্রশিক্ষণটি বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর (বিএনকিউএফ) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষা থেকে কর্মে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি করা। ইতোমধ্যে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন সক্ষম হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন, অর্থাৎ ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ সক্ষম শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ধরনের কর্মসংস্থানের সংযোগ পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, ৮৭৯ জন শোভন কাজে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, ১ হাজার ৩০৪ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মে যুক্ত হয়েছেন এবং ৪৮৯ জন উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্যে পরামর্শকের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়া ৪৫৮ জন বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম স্তরে এবং ১০৪ জন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি (ভোকেশনাল) কার্যক্রমে ভর্তি হয়েছেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, সাক্ষরতার সঙ্গে যখন দক্ষতা যুক্ত হয়, তখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ রয়েছে। বিকল্প শিক্ষা সুযোগ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১৯ হাজার ২০০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা কার্যক্রম দেশের আরও ১৬টি জেলায় সম্প্রসারণ করে তিন বছরে ১ লাখ কিশোর-কিশোরীকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চলমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেই বিশেষ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৫০টি জেলায় আরও ৪ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘প্রত্যেকে একজনকে শেখাবে’ মডেলের আলোকে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা ও কার্যকর সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে ৪০টি জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়া হবে। পাইলট বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে মূল কর্মসূচির আওতায় ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী ও পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।




এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একইসঙ্গে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও শিক্ষার্থীর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আবেদনকারীর দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর আজ ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। এ কারণে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ, মোট আবেদন জমা পড়ে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।

আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হতো। নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

এদিকে, বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এছাড়া, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে কম পাসের হার। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর আজ সেই ফল প্রকাশ করা হলো।
 




চট্টগ্রামে কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি-বাণিজ্য: দিশেহারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রামে কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি-বাণিজ্য: দিশেহারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা
ছবি সংগৃহীত।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ের জোর তৎপরতা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নগরীর চকবাজার, অলংকার, হালিশহর, বহদ্দারহাট, আন্দরকিল্লা, জামালখান ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলো মেতে উঠেছে গলাকাটা ভর্তি-বাণিজ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় 'ক' ইউনিট, 'খ' ইউনিট কিংবা মেডিকেল-প্রকৌশল প্রস্তুতি কোর্সের নামে কোর্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার থেকে শুরু করে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয় এককালীন। কম-বেশির কোনো অভিযোগ চলে না তাদের কাছে। এর বাইরে লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও বিশেষ ক্লাসের বাহানায় নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। অনেক কোচিং সেন্টার আগাম ভর্তিতে ছাড়ের লোভনীয় প্রস্তাব দিলেও কার্যত মূল টাকার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ পকেটে পুরছে।

চট্টগ্রামে একাডেমিক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু কোচিং সেন্টার রয়েছে—উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণ, রেটিনা ও মেডিকো, ফোকাস ও আইকন প্লাস, প্যারাগন ও অমেকা। একাডেমিক ও স্কুল/কলেজ কোচিংয়ের মধ্যে রয়েছে সায়েন্স ফিলিপস, মডুলাস, মুনাস একাডেমি। এছাড়া বেস্ট কেয়ার ক্যাডেট কোচিং, সৌদিয়া ক্যাডেট কোচিং এবং ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য রয়েছে সাইফুর'স, মেন্টরস, স্পিকার্স কাউন্সিল ও ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ নাম না জানা আরও শতাধিক কোচিং সেন্টার। তবে এই প্রতিযোগিতায় উদ্ভাস-উন্মেষ প্রথম স্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর অভিভাবকেরা বাধ্য হয়েই জমি বা গবাদিপশু বিক্রি কিংবা ঋণ করে কোচিং সেন্টারের দাবি মেটাচ্ছেন। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পড়াশোনা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার পর কোচিং না করালে সন্তান পিছিয়ে পড়বে—এই ভীতি তৈরি করে আমাদের থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় কোচিং ব্যবসার মালিকেরা ইচ্ছামতো ফি হাঁকাচ্ছেন। এছাড়া অনেক কোচিং সেন্টারে চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামিদামি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্লাস নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে মানহীন পাঠদান।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবক ফোরাম দ্রুত চট্টগ্রামের এসব অনিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি, নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ এবং জিম্মিদশা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব

শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব
ছবি সংগৃহীত।

দেশের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত শিক্ষণফল অর্জন করছে কি না, তা শুধু দেশীয় মূল্যায়নের মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও যাচাই করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়নের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার।

তিনি বলেন, শুধু পড়তে ও লিখতে পারলেই একজন মানুষকে শিক্ষিত বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ, অন্যের কথা বোঝা এবং নিজের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারার সক্ষমতাই শিক্ষার প্রকৃত মানদণ্ড।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আলোচনা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষা মানে শুধু একটি শব্দ লিখতে পারা নয়। একজন মানুষ যদি ছোট ছোট বাক্য তৈরি করতে পারেন, নিজের কথা অন্যকে বোঝাতে পারেন এবং অন্যের কথা বুঝতে পারেন, তাহলেই বলা যায় তিনি প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন করেছেন। একজন শ্রমিক, উদ্যোক্তা কিংবা কারিগরি পেশায় থাকা ব্যক্তিকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পড়তে ও বুঝতে পারতে হবে। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বুঝে কাজ করতে পারার সক্ষমতাও শিক্ষার অংশ।

তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন চলছে। তবে এমন একটি পর্যায়ে যেতে হবে, যখন দেশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে ঘোষণা করতে হবে না যে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষিত হয়েছে; আন্তর্জাতিক মূল্যায়নই বলে দেবে সে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করেছে কি না।

সচিব বলেন, একটি শ্রেণির শিশুর যে শিক্ষণফল অর্জন করার কথা, সে যদি তা নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে, পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে পারে এবং প্রয়োজনীয় বিষয় বুঝতে পারে, তখনই শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়েছে বলে ধরা যায়। সেই লক্ষ্যেই কারিকুলাম তৈরি, গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড লিটারেসি’কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়নের দিকেও যেতে চায় সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার মান যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতাও মূল্যায়িত হবে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে প্রতিবন্ধীবান্ধব ও সহনশীল করতে হবে। একটি শিশু যেন হুইলচেয়ারে করে স্কুলে পৌঁছাতে পারে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা পেতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যারা হাঁটতে পারে না বা অন্য কোনো কারণে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাইসাইকেল, হুইলচেয়ারসহ সহায়ক ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঝরে পড়া’ শব্দটি রাখতে চাই না। যে শিশু স্কুলে আসতে পারছে না, তাকেও শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যদি ক্ষুধার কারণে স্কুলে আসতে না পারে, তাহলে তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের চালু করা মিল কার্যক্রম প্রায় সর্বত্র হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালু হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ ও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা। এমন একটি পর্যায়ে যেতে হবে, যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জন করে সারা বিশ্বে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোখলেছুর রহমান এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত।

এসময় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ দেওয়া হয়।