চট্টগ্রামে বিক্ষোভের ডাক: পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে: হেফাজত আমির
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে বিক্ষোভের ডাক: পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে: হেফাজত আমির

চট্টগ্রামে বিক্ষোভের ডাক: পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে: হেফাজত আমির
ছবি সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত সাম্প্রদায়িক হামলা এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্তকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

এই সহিংসতার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (জুমাবার) চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশাল প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।

সোমবার (১১ মে) বিকেলে হাটহাজারীতে উপজেলা হেফাজতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা ইমরান সিকদার ও মাওলানা কামরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিজেপি নেতার উসকানিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা
আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে নির্বাচন-পরবর্তী এই সহিংসতায় উগ্রপন্থি বিজেপি সমর্থকরা সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উসকানিমূলক বক্তব্য মুসলমানদের ওপর হামলার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা যখন বলেন যে মুসলমানরা ভোট দেয়নি বলে তাদের ওপর হামলা জায়েজ, তখন তা হামলাকারীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে। কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এমন বর্বরোচিত হামলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

হেফাজত আমির বাংলাদেশ সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতনের ঘটনায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানাতে হবে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমরা ভারত সরকারের কাছে দাবি জানাই, অবিলম্বে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমরা নির্বাচিত সরকারকে অনুরোধ করছি, আরেকটি রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টির আগেই যথাযথ ব্যবস্থা নিন।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী বলেন, প্রতিবেশী দেশে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনে নীরব থাকা মানেই অবিচারকে প্রশ্রয় দেওয়া। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, উপজেলা সহসভাপতি মাওলানা আবদুল্লাহ, মাওলানা মো. ঈসা, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা হাফেজ আবদুল মাবুদ, মাওলানা জমির উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদ আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আসাদুল্লাহ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হাটহাজারীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলার মানুষ আর ভারতের চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি গ্রহণ করবে না এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলিম নির্যাতনে রাজপথে সোচ্চার থাকবে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।