হাটহাজারীতে স্বাস্থ্য সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ স্যানিটারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

হাটহাজারীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি কর্মকর্তা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত বিভিন্ন খাদ্য কারখানাকে স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওমর ফারুক পূর্বে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে হাটহাজারীতে বদলি করা হয়। তবে বদলির পরও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে সে স্বপদে বহাল রয়েছে। ফলে, আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি বি এস টি আই অনুমোদনহীন একটি চানাচুর ও শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানাকে তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই স্বাস্থ্য সনদ দিয়েছেন।
যে প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়াও বিএসটিআই অনুমোদনের জন্য ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সিভিল সার্জনের নাম ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যমান যাচাই বা প্রয়োজনীয় পরিদর্শন ছাড়াই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সনদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমন কি তিনি সবসময় ফিল্ডে জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্ট।
তার এসবের অনিয়মের বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তাপস কান্তি মজুমদারকে জিজ্ঞেস করা হলেও তিনি অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা জাহাঙ্গীর আলম জানান, মূলত তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কাগজপত্র পাঠালে আমরা তা সই করি। যদি অনিয়ম পাই ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাদ্যপণ্য বাজারজাত হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি বহাল তবিয়তে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।








