মেধা, মনন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণের উদ্যোগে ও কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’।
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পরীক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। পুরো পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডি.এম. আসহাব উদ্দিন এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন জিল্লুর রহমান।
এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কাঞ্চনা নূর আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ রাকিবুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কেন্দ্র উপসচিব তারেকুল ইসলামের পরিচালনায় উক্ত কেন্দ্রের পরীক্ষা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় সাতকানিয়া উপজেলার ৩,৪২৭ জন, লোহাগাড়ার ২,৪২৩ জন এবং চন্দনাইশ উপজেলার ৪৫৫ জনসহ মোট সাড়ে ছয় হাজারেরও অধিক ছাত্র-ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিভাবক দুলন কান্তি দাশ বলেন, “বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থীবান্ধব ছিল। এ ধরনের পরীক্ষা আমাদের সন্তানদের ভেতর লুকিয়ে থাকা মেধা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব জাগিয়ে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।”
আরেক অভিভাবক সেলিনা আকতার বলেন, “শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নয়, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কিশোরকণ্ঠের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। পরীক্ষাকেন্দ্রের সুন্দর পরিবেশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক আচরণ আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতেও এমন মননশীল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
লোহাগাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান বলেন, “কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভেতরে মেধা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে অসাধারণ ভূমিকা রাখছে। লোহাগাড়ার সুদূর গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এমন আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”
চন্দনাইশ উপজেলার অভিভাবক প্রকৌশলী তৌহিদুল আলম জানান, “কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন প্রশংসনীয়। পাঠ্যবইয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কক্ষ পরিদর্শক, শৃঙ্খলা বিভাগ, মিডিয়া বিভাগসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতায় পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা সফল করায় সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং অভিভাবকবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।
চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাং আবদুল আজিজ দৈনিক সাঙ্গু-কে জানান, “শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি মেধা, সুপ্ত প্রতিভা ও সৎ চরিত্র গঠনে এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক মেধা পরীক্ষা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে ইতিবাচক চর্চা ও মেধা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সরকার ঘোষিত মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে এ জাতীয় ইতিবাচক প্রয়াসগুলোকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
মেধা ও নৈতিকতার মেলবন্ধনে একটি আলোকিত ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে কিশোরকণ্ঠের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।