হাজারীখিলে বন্য প্রাণী শিকার ও মাংস পাচারের ভয়ংকর জাল!
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

হাজারীখিলে বন্য প্রাণী শিকার ও মাংস পাচারের ভয়ংকর জাল!

হাজারীখিলে বন্য প্রাণী শিকার ও মাংস পাচারের ভয়ংকর জাল!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাহাড়ঘেরা হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের সুজানগর চা-বাগান এলাকায় দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক উদ্ধার ও এক শিকারি আটক হওয়ার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে হাজারীখিল বনাঞ্চলে সক্রিয় বন্য প্রাণী শিকার ও মাংস পাচার চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সংঘবদ্ধ এসব চক্র সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হরিণ, বন্য শূকরসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে গোপনে মাংস বিক্রি করছে। একসময় পাখির ডাক ও বন্য প্রাণীর বিচরণে মুখর থাকা হাজারীখিল বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এখন রাতের অন্ধকারে শিকারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সন্ধ্যার পর পাহাড়ি বনাঞ্চলে অপরিচিত লোকজনের চলাচল, গুলির শব্দ এবং গোপনে মাংস সরবরাহের ঘটনা প্রায় নিয়মিত বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিকার এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; এটি সংঘবদ্ধ চক্রের নিয়ন্ত্রিত একটি অবৈধ নেটওয়ার্কে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, বৈদ্যুতিক ফাঁদ ও বিশেষ জাল ব্যবহার করে বনের গভীরে অভিযান চালানো হয়। পরে শিকার করা প্রাণীর মাংস বিভিন্ন এলাকায় গোপনে সরবরাহ করা হয়।

বিশেষ করে বন্য শূকরের মাংস পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চক্রটির সঙ্গে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির নীরব যোগাযোগ থাকায় প্রকাশ্যে অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না।

শনিবার (১৬ মে) রাতে সুজানগর চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন ওরাওঁ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অংশ নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য করিম মঈনু ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। পরে রোববার সকালে তাঁকে ভূজপুর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হারুয়ালছড়ি ইউপি সদস্য করিম মঈনু বলেন, প্রবাস গোয়ালা নামে এক ব্যক্তি বন্য প্রাণী শিকারে বাধা দিলে সুমন ওরাওঁ বন্দুক নিয়ে তাঁকে মারতে যান। পরে বিষয়টি পঞ্চায়েত নেতাদের মাধ্যমে জানতে পেরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অভিযান চালাই। এরপর বন্দুক উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বন্য প্রাণী শিকারের উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।"

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এত কাছাকাছি এলাকায় কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরি, বন্য প্রাণী শিকার ও মাংস পাচারের মতো কর্মকাণ্ড চলতে পারে—বন বিভাগের নজরদারি ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা কতটা কার্যকর, সেটিও এখন আলোচনায় এসেছে।

localদের অভিযোগ, রাতের বেলায় পাহাড়ি এলাকায় টহল কার্যত থাকে না বললেই চলে। ফলে শিকারিরা সহজেই বনাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় বনকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও গভীর রাতে অভিযান খুব কম পরিচালিত হয়।

হারুয়ালছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা শিকদার আতিকুর রহমান বলেন, বন বিভাগের দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পাহারা দেওয়া হয়। তবে পাশের চা-বাগান এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চা-বাগানের ভেতরে বন বিভাগের সরাসরি পাহারা দেওয়ার সুযোগ সীমিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, "হাজারীখিল বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী, পাখি ও উদ্ভিদের আবাস রয়েছে। এ ধরনের এলাকায় বন্দুক উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি বন্য প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকির বার্তা বহন করে।" তিনি আরও বলেন, লাইসেন্সধারী কারও অস্ত্র বন্য প্রাণী নিধনে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু বন্ধ রাখা এবং অবৈধ সব অস্ত্র উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।