সাতকানিয়া ইউএনওর বাসায় ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী, দুই মাসেও মামলা হয়নি
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

সাতকানিয়া ইউএনওর বাসায় ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী, দুই মাসেও মামলা হয়নি

সাতকানিয়া ইউএনওর বাসায় ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী, দুই মাসেও মামলা হয়নি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসায় কর্মরত এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা প্রায় দুই মাস পর প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই ভবনের এক পুরুষ কর্মচারী। তবে ঘটনার এত দিন পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।

গত রবিবার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুক্তভোগী ওই নারীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে। ভিডিওটিতে ওই নারীর মুখমণ্ডল স্পষ্ট এবং তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিচ্ছেন।

একাধিক সূত্রের দাবি, সাতকানিয়া থেকে সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান নিজে তাঁর মুঠোফোনে এই ভিডিও ধারণ করেছিলেন। তবে এই স্পর্শকাতর ভিডিওটি কীভাবে ও কার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেল, তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও কেন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনিকভাবে অভিযুক্তকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন না করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি তাঁর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মারাত্মক লঙ্ঘন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ওই নারী পেটের তীব্র ব্যথা নিয়ে সাতকানিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর গর্ভে অপরিপক্ব সন্তানের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই নারী জানান, ইউএনওর সরকারি বাসায় কর্মরত এক পুরুষ কর্মচারী তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। এর পরপরই অভিযুক্ত মালিকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে প্রায় দুই মাস ঘটনাটি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে।

আইনানুযায়ী, যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে অভিযোগকারী নারীর প্রয়োজনীয় শারীরিক ও ফরেনসিক পরীক্ষা এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই ক্ষেত্রে কোনো আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা থানা-পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়নি।

ঘটনাটি ধামাচাপা থাকার মধ্যেই ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বদলির আদেশ হয় এবং তিনি সাতকানিয়া ত্যাগ করেন। তিনি কর্মস্থল ছাড়ার পরপরই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে গুরুতর এই অপরাধের বিষয়ে কেন কোনো থানায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।




আনোয়ারায় ইটবাহী ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে আহত ৪

আনোয়ারায় ইটবাহী ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে আহত ৪
দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি অটোরিকশা

আনোয়ারায় ইটবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের কালাবিবির দিঘির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক গুরুতর আহত ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

আহত ব্যক্তিরা হলেন— কার্তিক ধর (৩০), ইকন ধর (১৯), ইটান ধর (১০) এবং সিএনজি চালক টুন্টু জলদাশ (৩০)। তাঁদের মধ্যে ইকন ধর ও টুন্টু জলদাশকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা সবাই বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর এলাকার বাসিন্দা এবং একই পরিবারের সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে দ্রুতগতিতে সিএনজি অটোরিকশাটি বাঁশখালীর দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে কালাবিবির দিঘির মোড়ের উত্তর পাশে ইটবাহী ডাম্পার মিনি ট্রাকটি ইউটার্ন নিতে গেলে সিএনজিটিকে ধাক্কা দিয়ে ১০০ হাত দূরে নিয়ে যায়। এতে সিএনজি অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. পায়েল জানান, দুর্ঘটনায় আহত ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অপর ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুনায়েত চৌধুরী বলেন, "দুর্ঘটনাকবলিত ডাম্পার ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ডাম্পার চালক পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"




লোহাগাড়ায় মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর করল প্রাইম ইন্স্যুরেন্স

লোহাগাড়ায় মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর করল প্রাইম ইন্স্যুরেন্স
ছবি সংগৃহীত।

প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চট্টগ্রাম কর্পোরেট জোন-৬-এর উদ্যোগে এক গ্রাহকের মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) লোহাগাড়া উপজেলার বটতলী মোটর স্টেশনের মোস্তফা সিটি সেন্টারে কোম্পানির লোহাগাড়া জোনাল অফিসের হলরুমে এ চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কোম্পানির ইভিপি-১ ও চট্টগ্রাম কর্পোরেট জোন-৬-এর লোহাগাড়ার ইনচার্জ মো. তারেক বিন কবিরের সভাপতিত্বে ও লোহাগাড়া এফপিআর সেন্টারের জিএম মোহাম্মদ ফারুখের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ বিন-আখন্দ। বিশেষ অথিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ইভিপি-২ ও ইনচার্জ চট্টগ্রাম জোন-১৭ এ.বি.এম আনোয়ারুল হক, ইভিপি-২ ও ইনচার্জ চট্টগ্রাম-১৮ এস.এম ইব্রাহিম শামীম। 

এছাড়া বক্তব্য রাখেন- লোহাগাড়া জোনাল অফিসরে এ.এম জাইতনু নীহা, জাহেদা বেগম, মর্তুজা বেলাল, লোহাগাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী মো. নুরুচ্ছফাও মো. জসিম উদ্দিন প্রমূখ।
এ ছাড়া কোম্পানির লোহাগাড়া জোনাল অফিসের ভিআইপি গ্রাহক মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা ও জসিম উদ্দীনসহ কর্পোরেট জোনের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, গ্রাহক ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, বীমা মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোনো পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হলে পরিবারটি হঠাৎ করে আর্থিক সংকটে পড়ে। এ ধরনের সময়ে বীমার অর্থ পরিবারকে কিছুটা হলেও সহায়তা দিতে পারে। তাই গ্রাহকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বীমা মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের অনিশ্চিত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করে। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে বীমা দাবির যথাযথ যাচাই শেষে দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং গ্রাহকদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, কোনো গ্রাহকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের কাছে বীমার অর্থ শুধু একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই গ্রাহকদের প্রতিশ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

পরে কোম্পানির লোহাগাড়া জোনাল অফিসের সুবিধাভোগী মরহুমা হাছিনা আক্তারের মৃত্যুদাবির ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকার চেক তার স্বামী জসিম উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চেক গ্রহণকালে জসিম উদ্দীন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 




পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সঙ্গে কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষ, ৩ বগি লাইনচ্যুত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সঙ্গে কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষ, ৩ বগি লাইনচ্যুত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সঙ্গে একটি মিনি কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে ট্রেনটির পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কমল মুন্সির হাট বাজারসংলগ্ন চক্রশালা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস চক্রশালা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার সময় রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থান করা একটি মিনি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ডভ্যানটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের অংশে আটকে যায়। পরে ট্রেনটি ভ্যানটিকে টেনেহিঁচড়ে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন মোল্লাপাড়া এলাকা পর্যন্ত নিয়ে যায়। সংঘর্ষের ধাক্কায় ট্রেনের পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবদুস সালাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ঘটনাস্থলে আটকা পড়ে আছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রাম থেকে রিলিফ ট্রেনকে খবর দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।