সাতকানিয়া ইউএনওর বাসায় ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী, দুই মাসেও মামলা হয়নি
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

সাতকানিয়া ইউএনওর বাসায় ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী, দুই মাসেও মামলা হয়নি

সাতকানিয়া ইউএনওর বাসায় ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী, দুই মাসেও মামলা হয়নি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসায় কর্মরত এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা প্রায় দুই মাস পর প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই ভবনের এক পুরুষ কর্মচারী। তবে ঘটনার এত দিন পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।

গত রবিবার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুক্তভোগী ওই নারীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে। ভিডিওটিতে ওই নারীর মুখমণ্ডল স্পষ্ট এবং তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিচ্ছেন।

একাধিক সূত্রের দাবি, সাতকানিয়া থেকে সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান নিজে তাঁর মুঠোফোনে এই ভিডিও ধারণ করেছিলেন। তবে এই স্পর্শকাতর ভিডিওটি কীভাবে ও কার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেল, তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও কেন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনিকভাবে অভিযুক্তকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন না করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি তাঁর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মারাত্মক লঙ্ঘন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ওই নারী পেটের তীব্র ব্যথা নিয়ে সাতকানিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর গর্ভে অপরিপক্ব সন্তানের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই নারী জানান, ইউএনওর সরকারি বাসায় কর্মরত এক পুরুষ কর্মচারী তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। এর পরপরই অভিযুক্ত মালিকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে প্রায় দুই মাস ঘটনাটি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে।

আইনানুযায়ী, যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে অভিযোগকারী নারীর প্রয়োজনীয় শারীরিক ও ফরেনসিক পরীক্ষা এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই ক্ষেত্রে কোনো আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা থানা-পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়নি।

ঘটনাটি ধামাচাপা থাকার মধ্যেই ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বদলির আদেশ হয় এবং তিনি সাতকানিয়া ত্যাগ করেন। তিনি কর্মস্থল ছাড়ার পরপরই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে গুরুতর এই অপরাধের বিষয়ে কেন কোনো থানায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।




সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা আপন ভাই-বোন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ডলু নয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ বেলালের দুই সন্তান মধ্য আমিলাইশ সাঙ্গু নদীর ঘাটঘর এলাকায় পানিতে পড়ে ডুবে যায়।

নিহতরা হলো—মেয়ে মাহিয়া আক্তার (৬) এবং ছেলে মোহাম্মদ মাহিন (৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অজান্তে দুই ভাই-বোন নদীর পানিতে পড়ে যায়। পরে তাদের খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বা পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

আমিলাইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি সদস্য) মোহাম্মদ ইউছুফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক।”




বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে দেড় শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে দেড় শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে দেড় শতাধিক গাছ কেটে ফেলে পাহাড় উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চাম্বল মিয়ার দোকান এলাকায় রবিবার রাতে মৃত শারদা চরণ দাশের ছেলে দুলাল কান্তি দাশ, গোপাল কান্তি দাশ, রাখাল কান্তি দাশ ও বিদু কান্তি দাশের মালিকানাধীন পাহাড়ি জায়গা থেকে ৪ লাখাধিক টাকা মূল্যের দেড় শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে বনদস্যু ও সন্ত্রাসীরা।

খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা দুই গাড়ি কাটা গাছ ফেলে পালিয়ে যায়।

এর আগে গাছ কাটার খবর পেয়ে জায়গার মালিক দুলাল কান্তি দাশসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অস্ত্রধারী মুখোশপড়া সন্ত্রাসী ও বনদস্যুরা তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুর রশিদ মেম্বার ও সাবেক মেম্বার নাছিরসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে গাছ কাটায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জানান, রবিবার রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা এ বৃক্ষনিধন করে পুরো পাহাড়টি উজাড় করে দেয়।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, এ ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু গাছ ফেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




বাঁশখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সুদীর্ঘ মিছিল

বাঁশখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সুদীর্ঘ মিছিল
বাঁশখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুদীর্ঘ মিছিল।

বাঁশখালীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সুদীর্ঘ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি মিয়ারবাজার থেকে শুরু হয়ে দুই কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা সদরে এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বেলা ৪টায় শুরু হওয়া মিছিলে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। এ সময় মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বাঁশখালীর জামায়াত মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি ও চাপে রাখার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “সাবধান হয়ে যান। এক হাতে তালি বাজে না।” তিনি আরও বলেন, “সরকার বিএনপির। আপনারা বিরোধী দল। তবুও আমরা আপনাদের সহযোগিতা করছি। কিন্তু আপনাদের সহযোগিতার কোনো মানসিকতা নেই।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য লায়ন জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, উপজেলা বিএনপি নেতা মাস্টার লোকমান আহমদ, আলহাজ আমিনুর রহমান চৌধুরী, চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী, সাবেক চেয়ারম্যান ইবরাহিম খলিল, চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী, দেলোয়ার আজীম, রাসেল ইকবাল মিয়া, লায়ন অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দীন, খোরশেদ আলম আইয়ুব, সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোহসীন, সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, ডাক্তার মোহাম্মদ ইউনুস, মুঈনুদ্দিন পলাশ, মোহাম্মদ ছগির, শাহাদাত হোসাইন আজগর, মোহাম্মদ মারুফ, মোহাম্মদ জাহেদ, আবদুল হক, ওলামা দলের নেতা মাওলানা ফোরকান, ছাত্রনেতা আবদুস সবুর, এস এম তৈয়বসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।