সাতকানিয়ায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন হাজী ফোরকান
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন হাজী ফোরকান

সাতকানিয়ায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন হাজী ফোরকান
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০  অক্টোবর  চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির দিকনির্দেশনায় দলীয় সমর্থন ও কৌশল নির্ধারণে সাতকানিয়া উপজেলার ৮ নং ঢেমশা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যান ও সাধারণ মেম্বার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও একক প্রার্থী সমর্থনের লক্ষ্যেই মূলত এই সভার আয়োজন করা হয়।

​উক্ত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলা বিএনপি মনোনীত শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ফরম সংগ্রহ করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা হাজী মোহাম্মদ ফোরকান।

​অনুষ্ঠানস্থলে হাজী মোহাম্মদ ফোরকান তার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে সুসংগঠিতভাবে যোগদান করেন। তার আগমন এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের খবরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ ও উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।

​অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়া এবং ত্যাগীদের সম্মান জানিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।  

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে হাজী মোহাম্মদ ফোরকান জানান, ঢেমশা ইউনিয়নের জনগণের সেবা করা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতকে শক্তিশালী করাই আমার মূল লক্ষ্য। দল যদি আমাকে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়, তবে তৃণমূলের সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে ঢেমশা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করব।

​মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।




বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
বাঁশখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের এক প্রস্তুতি সভা সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি।

সভায় বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদের বাঁশখালী উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট লায়ন শেখর দত্ত, সেক্রেটারি প্রকৌশলী সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক, বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিরুল মোস্তফা, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনি, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আমিনুর রহমান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বদরুল হক, পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের, বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সিকদার, হেফাজতে ইসলাম বাঁশখালী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মহিউদ্দিন খান জসিম, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম, পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ঝুন্টু কুমার দাশ প্রমুখ।

সভায় মণ্ডপগুলো মাদকমুক্ত রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিতকরণ, আজান ও নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বক্তারা সম্প্রীতির বাংলাদেশে তথা বাঁশখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর পুকুরে ভেসে উঠল শিশুর লাশ

নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর পুকুরে ভেসে উঠল শিশুর লাশ
ছবি সংগৃহীত।

বিকেলে বাড়ির পাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল ছয় বছরের হোসাইন। ছেলেকে খেলতে দেখে রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মা। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে ফেরেনি সে। এরপর শুরু হয় স্বজনদের উদ্বেগ, খোঁজাখুঁজি আর মাইকিং। ছেলেকে না পেয়ে রাত নয়টার দিকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা। তবু রাতভর অপেক্ষার শেষটা হলো এক মর্মান্তিক খবরে। নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের পুকুরে ভেসে উঠল হোসাইনের নিথর দেহ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে হোসাইনের (৬) মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মো. হোসাইন উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার রমজান আলী হাজীর বাড়ির আব্দুর রহিমের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। নিহতের বাবা আব্দুর রহিম চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হোসাইন। ছেলেকে খেলতে দেখে মা ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে কখন যে হোসাইন নিখোঁজ হয়ে যায়, তা পরিবারের কেউ বুঝতে পারেননি। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এলাকায় মাইকিংও করা হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রোববার রাত নয়টার দিকে আনোয়ারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা আব্দুর রহিম। পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠায় কাটে রাত।

সোমবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে পানি আনতে গিয়ে কয়েকজন নারী পানিতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আনোয়ারা থানা-পুলিশ।

নিহত শিশুর চাচা মো. জাবেদ বলেন, ‘আমার ভাতিজা গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাইনি। পরে তার খোঁজে এলাকায় মাইকিং করা হয়। ভেবেছিলাম, হয়তো কোথাও আছে, খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করতে হলো। এভাবে ওকে হারাতে হবে, কখনো ভাবিনি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসহাক বলেন, ‘ বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। গতকাল রাতে আমি বিষয়টি জানতে পেরে এখানে এসে তার বাবাকে নিয়ে থানায় জিডি করি। সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে শিশুটির বাড়িতে এসেছি। পুলিশের একটি দলও এখানে রয়েছে।’ হোসাইনকে হারিয়ে তার বাবা-মা প্রায় ভেঙে পড়েছেন বলে জানান এই ইউপি সদস্য।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সাঁতার না জানার কারণে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। মরদেহ উদ্ধারের সময় শিশুটির মুখ দিয়ে পানি বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটি সাঁতার জানত না। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’




প্রেমের বিয়ের চার মাস পর গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে

প্রেমের বিয়ের চার মাস পর গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে
ছবি: আটক স্বামী মোহাম্মদ হাসানকে (২৫)

আনোয়ারায় ফারিয়া সুলতানা ইমতি (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের পূর্ব বৈরাগ এলাকার আমিরের বাড়ি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী মোহাম্মদ হাসানকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত ইমতি উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া এলাকার আবদুল ছত্তারের মেয়ে। চার মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কে হাসানকে বিয়ে করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ঘরের দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। পরে তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে ঘরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ইমতিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, পরিবারের অমতে চার মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেকার। গত শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে অভিমান করে ইমতি ঘরের লোহার অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।