সরকারি হাসপাতালে সেবার সংকট, ঝুঁকি নিয়ে ধাত্রীর দিকে ঝুঁকছেন প্রসূতিরা

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরিবর্তে ধাত্রীদের মাধ্যমে প্রসূতিদের চিকিৎসা ও প্রসব করানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচের কারণে ঝুঁকি জেনেও অনেকে ধাত্রীদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগের তীর হোসনে আরা বেগম নামের এক ধাত্রীর দিকে। স্থানীয়দের দাবি, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নিয়মিত প্রসব করানোর পাশাপাশি জটিল রোগীদের শেষ মুহূর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক রোগীকে তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় ওই বাসায় নেওয়া হলেও পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
শুধু হোসনে আরা বেগম নন, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে আরও কয়েকজন ধাত্রী নিয়মিত প্রসূতিদের সেবা ও প্রসব করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রসবসহ বিভিন্ন চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বেসরকারি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক পরিবার তুলনামূলক কম খরচের আশায় ধাত্রীদের দ্বারস্থ হচ্ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অনেকে বাসায় প্রসবের পথ বেছে নিচ্ছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রসূতি ও নবজাতকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত চিকিৎসক ছাড়া কেউ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার দায়ভার কে নেবে?
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, বৈধ অনুমোদন এবং কোন ধরনের চিকিৎসা বা প্রসবসেবা দেওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে হোসনে আরা বেগম দাবি করেন, তিনি প্রসবপূর্ব বা প্রসবপরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা (চেকআপ) ছাড়া কোনো চিকিৎসা করান না।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, ধাত্রীরা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার আওতাধীন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কক্সবাজারের জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসূতি ও নবজাতকের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি অনুমোদনহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।










