সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’-এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ দুই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী বলেন, হজ প্যাকেজ-১ এ হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্যাকেজ হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

বেসরকারি তথা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একরুমে সর্বোচ্চ ৬ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ’সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর ও সাবলীল হজ ব্যবস্থাপনা জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একটি দ্বিপক্ষীয় সভায় বাংলাদেশের এবছরের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও হজযাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সৌদি সরকার প্রায় প্রতিবছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোন না কোন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। ২০২৭ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হাজিদের সেবা, আবাসন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে।

মন্ত্রী বলেন, তারা মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু ও সার্ভিস প্যাকেজকে একটি সমন্বিত প্যাকেজের মধ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় এ, বি, সি ও ডি মোট চারটি সার্ভিস প্যাকেজ ছিলো; কিন্তু ২০২৭ সালের হজে সার্ভিস প্যাকেজ হবে ৩টি; 'ডি' সার্ভিস প্যাকেজটি থাকছে না। এছাড়া ২০২৭ সালের হজে হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে হজযাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের হজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমানভাড়া কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবছর প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বিমান ভাড়া গত বছরের চেয়ে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালে বিমান ভাড়া ছিলো প্রায় দুই লাখ টাকা। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বিমান ভাড়া এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা করা হয়। ২০২৭ সালের হজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমান ভাড়া কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হজ ফ্লাইটে বিমান ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচন করে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন এবং প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে। হজে যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে।




গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি

গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি
ছবি সংগৃহীত।



জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জে ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, আজ বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।


গোপালগঞ্জ তো দেশেরই অংশ, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দায় সরকারের ওপর বর্তাবে
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অস্থিরতা ও সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালীন সময়ে জনসাধারণের চলাচল সীমিত থাকবে এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে


প্রসঙ্গত, জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ছিল দলটির। গতকাল মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই কর্মসূচিকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নাম দেওয়া হয়।

এই কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জ সদরে আজ সকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কাছাকাছি সময়ে হামলা করা হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও। এ দুই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে জানায় গোপালগঞ্জ পুলিশ।

দুপুর ১টা ৩৫ মনিটের দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান।

এ ঘটনার আধা ঘণ্টা পরে ওই সমাবেশ স্থলেই পুলিশি নিরপত্তায় সমাবেশ করে এনসিপি। সেখানে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম ও আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষ হওয়ার পর এনসিপির নেতারা যখন গাড়ি বহর নিয়ে মাদারীপুর রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন আবার ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও পিছু হটে। এনসিপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা এনসিপির সমাবেশ মঞ্চ এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বাড়তি জনবল নিয়োজিত করা হয়। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। এরপর সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ একযোগে হামলাকারীদের সরাতে অভিযান শুরু করে।