সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা চার হাজার ৩৪১ জন হাজিকে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের অনুকূলে সৌদি পর্বের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে তাদের অর্থের চেক তুলে দেন মন্ত্রী। বাকিদের অর্থ রোববারের মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে সরকারি মাধ্যমের চার হাজার ৩৪১ জন হাজি মোট চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত পাবেন। এই টাকা হাজিদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত পাঠানো হবে। ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাদের স্বাস্থ্য বিমার অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।

প্রতারণা থেকে হাজিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন উল্লেখ করেন, হাজিদের টাকা ফেরতসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সব অনুদান বা সহায়তা কেবল ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। এ টাকা পাঠাতে মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে ফোন করা কিংবা তার কাছ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব বিকাশ, নগদ বা রকেটের কোনো পিন নম্বর চাওয়া হয় না।

‘এমনটি যদি কেউ করে, তাহলে সে প্রতারক। এ ধরনের প্রতারকদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য এই পবিত্র ইবাদতকে সহজসাধ্য করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হজযাত্রীদের কল্যাণে যা বর্তমান সরকারের একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মাইলফলক।’

শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন জানান, ২০২১ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ধার্য করা হয়েছিল, তার চেয়ে কিছু কম মূল্যে এবার বাড়ি ভাড়া করতে তারা সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া আলোচনার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিটি প্যাকেজের খরচের খাতভিত্তিক হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের হজে সরকারি মাধ্যমে মোট তিনটি প্যাকেজ ছিল উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এগুলো হলো হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ ও হজ প্যাকেজ-৩।

হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) সম্পর্কে তিনি জানান, এই প্যাকেজের হাজিদের কাবা শরিফ থেকে এক নম্বর বাড়ি তথা হোটেল বুল্লরা আল দুররাতে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই হোটেলে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা ফেরত পাবেন।

এছাড়া এই হোটেলের দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা প্রত্যেকে এক লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা এবং যারা দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে হজ পালন করেছেন, তারা প্রত্যেকে এক লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা ফেরত পাবেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা প্রত্যেকে এক লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং যারা তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে হজ পালন করেছেন, তারা প্রত্যেকে এক লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা ফেরত পাবেন।

হজ প্যাকেজ-২ সম্পর্কে ধর্মমন্ত্রী জানান, এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কা হজ মিশন সংলগ্ন ২, ৩ ও ৪ নম্বর বাড়িতে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুই নম্বর বাড়ি তথা হোটেল লুলুয়াত আল তাওহিদে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে দুই হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা আট হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ৯৪ পয়সা, তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা তিন হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে আট হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা ফেরত পাবেন।

তিন নম্বর বাড়ি তথা হোটেল রাওদাত আল শুরুকে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের প্রত্যেক হাজি তিন হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা চার হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা ফেরত পাবেন বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, চার নম্বর বাড়ি তথা হোটেল মানার আল শুরুকে অবস্থানকারী হাজিরা প্রত্যেকে সাত হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাঁচ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ছয় হাজার ২৪৯ টাকা ২৪ পয়সা ফেরত পাবেন।
সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই প্যাকেজের হাজিদের ৫ নম্বর বাড়ি তথা হোটেল নাম্বার ওয়ানে রাখা হয়েছিল। এই বাড়িতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে তিন হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা ফেরত পাবেন। এই প্যাকেজে শর্ট কিংবা আপগ্রেডেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
 




সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর বিভিন্ন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সব সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনা মর্মান্তিক। সারাদেশবাসী এতে মর্মাহত। তার (নিহত অপ্রতীম) বয়স সম্ভবত ১৩ বছর। সে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা যে অপরাধী, সেটাও স্বীকার করেছে। এটার আইনানুগ কার্যক্রম চলমান।

তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তাদের বয়স নিহত কিশোরের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বেশি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে দাফন করা হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আমরা পুলিশের প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ফরেনসিক অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। পোস্টমর্টেম করে তার দাফন হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো কুমিল্লার এই হত্যাকাণ্ডের বিচারও দ্রুত শেষ হবে। বিচার বিভাগ মামলাটিকে রামিসা হত্যা মামলার মতো গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার পেছনে তাকালে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়। এ সমস্যা সমাধানে মোটিভেশনাল কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে, যাতে তারা সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর বিভিন্ন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সব সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হলে সেটার বিচার হচ্ছে কি না, এটাও দেখতে হবে। আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিটি জঘন্য অপরাধের দ্রুততম সময়ে উদঘাটন করতে পেরেছি। আর যেগুলো সময়সাপেক্ষ, সেগুলোর কার্যক্রম চলছে।




২৪ সেপ্টেম্বর জা‌তিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ সেপ্টেম্বর জা‌তিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়ো‌জিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রস‌চিব আসাদ আলম সিয়াম।

পররাষ্ট্রস‌চিব জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। নিউইয়র্কে পৌঁছে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন।

আসাদ আলম সিয়াম জানান, ওই‌দিন সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন।

তি‌নি জানান, এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাই‌মেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্যা জাস্ট ট্রান্স‌টিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্রস‌চিব জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এসব সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস্ট অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।  

তি‌নি জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তার বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।  

তি‌নি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বরে তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।

পররাষ্ট্রস‌চিব জানান, ২৪ সেপ্টেম্বরে তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ সময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করবেন।  

আসাদ আলম সিয়াম ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।  

তি‌নি ব‌লেন, সামগ্রিকভাবে এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই।

নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।




সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি
ছবি সংগৃহীত।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোয় নির্ধারিত বাড়তি মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

নতুন বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া বেতনও পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়ানো হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আজ (শনিবার) প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিই নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে।