সদর দফতর ইস্যুতে ফটিকছড়ি উত্তরে হরতাল, ভূজপুরে পাল্টা কর্মসূচি
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

সদর দফতর ইস্যুতে ফটিকছড়ি উত্তরে হরতাল, ভূজপুরে পাল্টা কর্মসূচি

সদর দফতর ইস্যুতে ফটিকছড়ি উত্তরে হরতাল, ভূজপুরে পাল্টা কর্মসূচি
ছবি সংগৃহীত।

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতর ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। একই সময়ে সরকারের গেজেটে নির্ধারিত পশ্চিম ভূজপুর মৌজাতেই উপজেলা সদর বাস্তবায়নের দাবিতে ভূজপুরে পাল্টা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে ভোর থেকেই নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নের হেয়াঁকো, শান্তিরহাট, চিকনছড়া, বালুটিলা, নারায়ণহাট বাজার, বাগানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থকেরা অবস্থান নেন। অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল।

হরতালের সময় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও ব্যারিকেডের মাধ্যমে ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ফটিকছড়ি-হেয়াঁকো সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সন্ধ্যায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, নবগঠিত উপজেলার সদর দফতর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যেখান থেকে উত্তরাঞ্চলের সব ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। তাদের অভিযোগ, সরকার ঘোষিত পশ্চিম ভূজপুর মৌজা উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের জন্য ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক নয়। ফটিকছড়ির ভৌগোলিক বাস্তবতা ও প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রশাসনিক সেবার সুবিধা বিবেচনায় সদর দফতরের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক রাকিবুল আলম চৌধুরী ও নুরুল আমিন আজাদ বলেন, উত্তর উপজেলার সদর দফতর ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলেই স্থাপন করতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবির অংশ হিসেবেই হরতাল পালন করা হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এছাড়া, আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার বিকালে হেয়াঁকো বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন। এতে, উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সরকার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের গেজেট প্রকাশ করে এবং পশ্চিম ভূজপুর মৌজাকে উপজেলা সদর হিসেবে উল্লেখ করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে পশ্চিম ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার হলেও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এর দূরত্ব ২৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূজপুর ইউনিয়নে সরকারের সিদ্ধান্তের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই গেজেটে নির্ধারিত স্থানেই সদর দফতর স্থাপন করা উচিত বলে তারা দাবি করেন।

ভূজপুরের বাসিন্দা আবিদুর রহমান ও হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। গেজেটে যেখানে সদর দফতর নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানেই তা বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। হরতালের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতালকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল। আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।