ষষ্ঠ দিনের অবরোধে সাজেক, পর্যটন ব্যবসায় বাড়ছে ক্ষতি
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

ষষ্ঠ দিনের অবরোধে সাজেক, পর্যটন ব্যবসায় বাড়ছে ক্ষতি

ষষ্ঠ দিনের অবরোধে সাজেক, পর্যটন ব্যবসায় বাড়ছে ক্ষতি
ছবি সংগৃহীত।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ষষ্ঠ দিন আজ। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী দুই সংগঠন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। এতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার। এ দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

বৈঠকেও মেলেনি সমাধান

সোমবার বিকালে সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাজেক থেকে সন্তু লারমা সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি পূরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

এর আগে সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যরা। ২৫ অক্টোবর রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুই জেলার হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও এখন পর্যন্ত সংকট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

বন্ধ যান চলাচল, পর্যটকশূন্য সাজেক

অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।

গত ১১ অক্টোবরও একই ধরনের অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর অবরোধ শিথিল থাকলেও ২২ অক্টোবর থেকে নতুন করে অবরোধ শুরু হয়। ফলে স্বল্প সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রম চালু হওয়ার পর আবারও অচলাবস্থায় পড়েছে সাজেক।

পর্যটন ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব

সাজেকের পর্যটন অর্থনীতির বড় অংশ নির্ভর করে রিসোর্ট-কটেজ, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় দোকানপাট ও পর্যটকসেবা খাতের ওপর। অবরোধের কারণে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় এসব ব্যবসায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটক না থাকায় রিসোর্ট ও কটেজের বুকিং, চাঁদের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া, খাবারের দোকান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অবরোধের আগে দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট-কটেজে অগ্রিম বুকিং ছিল বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু অবরোধ ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকদের ভ্রমণ বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে কর্মচারীদের বেতন, পরিবহন ব্যয়, রিসোর্ট পরিচালনা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েও চাপ বাড়তে পারে।

এর আগে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাজেকের রিসোর্ট-কটেজ ও পরিবহন খাতে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। চলমান অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে বর্তমান অবরোধে মোট ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

সাজেকের রুইলুই রিসোর্টের পরিচালক মিশু দে বলেন, সাজেক সড়কে অবরোধ ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এমন অচলাবস্থা চলায় ব্যবসায়ী, কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সমাধানের অপেক্ষায় স্থানীয়রা

সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণের নিশ্চয়তা চাইছেন, অন্যদিকে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গতকালের বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পর্যটন খাতের ক্ষতি কমাতে এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর আলোচনা ও গ্রহণযোগ্য সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, আমাদের ১৩০টির মতো রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছ যা এখন পর্যটকশূন্য। এছাড়াও এখানকার রেস্টুরেন্ট, টি স্টল, মুদি দোকান, ফুডকোর্ট ও ভাসমান হকার মিলিয়ে কয়েকশ মানুষ বেকার। পাশাপাশি স্থানীয়দের উৎপাদিত নানা ফলফলাদি ও ফসল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত সাজেক এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান চাই আমরা।

এদিকে আন্দোলনকারী দুই সংগঠন অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ফলে পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম কবে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

এ বিষয়ে জানতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।




খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও সব জাতিসত্তার সমান মর্যাদা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. নিজাম উদ্দিন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহীন আলম এবং রামগড় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সব সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং শান্তি ও সম্প্রীতিকামী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় সব সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমতা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির অঙ্গীকারকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতিসত্তার মধ্যে সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।




৫টি দাবি অবরোধকারীদের, ৪ দাবিতে সমঝোতা: সাজেকের অবরোধ প্রত্যাহার হবে শিগগিরই—ওয়াদুদ ভূইয়া

৫টি দাবি অবরোধকারীদের, ৪ দাবিতে সমঝোতা: সাজেকের অবরোধ প্রত্যাহার হবে শিগগিরই—ওয়াদুদ ভূইয়া
ছবি সংগৃহীত।

সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। অবরোধকারীদের ৫ দফা দাবির মধ্যে ৪টি দাবির বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে। শিগগিরই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ২৬ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওয়াদুদ ভূইয়া।

ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, “অবরোধকারীদের ৫ দফা দাবির মধ্যে ৪টি দাবির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও আলোচনা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাজেকের অচলাবস্থা নিরসনে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অবরোধকারীদের চার সদস্য অংশ নেন।

অবরোধকারীদের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির বাবুধন চাকমা, জিকু চাকমা, কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন জয় চাকমা ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের ঊষাতন চাকমা। এ সময় তাঁরা সরকারি প্রতিনিধিদলের কাছে লিখিতভাবে তাঁদের ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।




লামায় বজ্রপাতে শিশুসহ স্কুলদপ্তরী নিহত

লামায় বজ্রপাতে শিশুসহ স্কুলদপ্তরী নিহত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বজ্রপাতের পৃথক দুটি ঘটনায় এক স্কুল কর্মচারী(দপ্তরি)  ও এক শিশু নিহত হয়েছেন।সোমবার (২৬ অক্টোবর)বিকেলে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।  

​নিহতরা হলেন,লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হেডম্যান পাড়ার মৃত খিয়াং চি মারমার ছেলে মং প্রু মারমা (৪০) এবং একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ছনখোলা পূর্ব পাড়ার মোহাম্মদ সাদেকের ছেলে মোহাম্মদ সজিব (১১)।

নিহত মং প্রু মারমা নাইক্ষ্যংমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং শিশু সজিব স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যবর্তী সময়ে মং প্রু মারমা হেডম্যান পাড়াতে যাওয়ার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

​অপরদিকে, একই সময়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ছনখোলা এলাকায় বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করার সময় বজ্রপাতে শিশু মোহাম্মদ সজিব গুরুতর আহত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ মর্মান্তিক দুটি আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়ে সকলকে আরও অধিক সতর্ক ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান,ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়েছে ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।পুলিশ তদন্ত শেষে লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।