শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা

শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা
ছবি সংগৃহীত।

শ্রম অসন্তোষের জেরে আজ মঙ্গলবারও দেশের ৪৬৯টি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা বন্ধ রয়েছে। চলমান অস্থিরতায় সময়মতো পণ্য রপ্তানি এবং ক্রয়াদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কারখানার মালিকরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সূত্র জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে কয়েকদিন ধরে পোশাক শ্রমিকরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করলেও আন্দোলন থামেনি।

বরং কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিকদের একটি অংশ। এসময় বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর এবং কারখানার গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠাতে না পারলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে এ ধরনের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মজুরি নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিরোধের দ্রুত সমাধান এবং কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এখন শিল্প-সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ড তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে সুপারিশ করবে। তাই মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকার যখন একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা মালিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি ও আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একবার ক্রেতাদের আস্থায় সংকট তৈরি হলে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু কারখানার মালিকদের ওপর নয়, পুরো শিল্পের ওপর পড়বে।

শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভাঙচুর ও সহিংসতার পথ পরিহার করে শ্রমিকদের কাজে ফেরা উচিত। কোনোভাবেই শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করা সমীচীন নয়। কারণ, শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব শ্রমিকদের ওপরও পড়বে। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে কর্মসংস্থান, আয় ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে মজুরি বোর্ডের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করা এবং শিল্পের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।




রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের

রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের
ছবি সংগৃহীত।

ঢাকাসহ সারা দেশের মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা জারির জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) সংগঠনের সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকার মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিংমলে বর্তমানে ক্রেতাসংকট ও বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যবসায়ীদের বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, এর প্রভাব পড়ছে বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর জীবন-জীবিকার ওপরও। দেশের প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী মালিক এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মচারীর জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ নভেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি ফিরবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি কমবে এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ অবস্থায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং লাখ লাখ ব্যবসায়ী ও কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।




অক্টোবরে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ

অক্টোবরে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দেশের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের ভালো পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৩ কোটি মার্কিন ডলারে, যা গত বছরের অক্টোবরে ছিল ৩৮২ কোটি ডলার।

রোববার (১ নভেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৮ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬১৩ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সে হিসাবে চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

পোশাক খাতে ৫.৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।

শুধু অক্টোবর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরে এ খাতে রপ্তানি আয় ছিল ৩০১ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা চলতি বছরের অক্টোবরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারে।

তৈরি পোশাকের দুই প্রধান উপখাত নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৭৭২ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭২৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ খাতে আয় ছিল ৫৭৫ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

অক্টোবর মাসের হিসাবেও নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

রপ্তানির শীর্ষ বাজার যুক্তরাষ্ট্র

দেশভিত্তিক রপ্তানি আয়ের তালিকায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩০০ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সে হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্য। চার মাসে দেশটিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৬ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে, ১৫১ কোটি ৫৪ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রপ্তানি আয় নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

উদীয়মান বাজারে বাড়ছে রপ্তানি
প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি উদীয়মান বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে তুরস্কে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার থেকে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। রপ্তানি গন্তব্যের তালিকায় দেশটির অবস্থান সপ্তম। অন্যদিকে, জাপান রয়েছে নবম অবস্থানে। এ দুটি বাজারেই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা এবং রপ্তানিকারক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এ ধারা ধরে রাখতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। দীর্ঘমেয়াদে দেশের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




জাপানি বিনিয়োগে ৫ বছরে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

জাপানি বিনিয়োগে ৫ বছরে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
ছবি সংগৃহীত।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ করতে পারে জাপান। এর মাধ্যমে দেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ ‘বিগ-বি’কে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সফর উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

লিখিত বক্তব্যে তিনি সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং জাপানের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ উদ্যোগ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ বিগ-বিকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন, বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা
বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, এমআরটি লাইনের কাজ দ্রুত অগ্রসর করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় জাপানের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে জাপানের পাঁচ হাজার কোটি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ুবিষয়ক লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান দুই প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারকের আওতায় সরকারি-বেসরকারি সংলাপের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা
বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পায়। আগামী পাঁচ বছরে জাপান থেকে বাংলাদেশে এক লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগ এবং এর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানান দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বিনিময় জোরদারে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্সিং-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং স্বচ্ছতা উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নবিষয়ক সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরকেও দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান।

এ ছাড়া জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে।

ছয়টি সহযোগিতা ও সমঝোতা স্মারক সই
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ইএসডিপি), উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে মোট ছয়টি সহযোগিতা বা সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উন্নয়নসংক্রান্ত দুটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জাপানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক
২৬ অক্টোবর জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপানের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির সভাপতি এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠকে জাইকা ও জাপানের সহায়তায় চলমান বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। এ সময় বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকা উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

জ্বালানি, লজিস্টিকস ও শিল্প খাতে সহযোগিতা
২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন।

২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার অনুরোধ জানানো হয়।

জাপানের পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিংয়ের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

এ ছাড়া মিতসুবিশি করপোরেশন, টয়োটা তুশো করপোরেশন, মারুবেনি করপোরেশন, আজিনোমোতো, এনআইসিসিএ কেমিক্যাল, টোকিউ কনস্ট্রাকশন, পেন্টা-ওশান কনস্ট্রাকশন, নাগাসি অ্যান্ড কোম্পানি, ইউগ্লেনা, জেটিআই, ইচিনেন হোল্ডিংস, মাতসুওকা করপোরেশন ও জাপান লজিস্টিকস সিস্টেমসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের আগ্রহ
২৮ অক্টোবর জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, ব্যবসায়িক উদ্যোগ সহজীকরণ এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

বেসরকারি পর্যায়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। ওই দিন তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

২৯ অক্টোবর নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন এবং গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্র উৎপাদনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা তাদের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা ও সংঘাতমুখী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং পণ্যের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের টেকসই নগরায়ণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।

লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ভিত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফরের মাধ্যমে জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। একই সঙ্গে এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও নিবিড় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।