শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর
ছবি সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে আর সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তিনি যেকোনো কারণেই হোক দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না। আপিলও করেননি। আমাদের আইনে ২১-এর ৩-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। যদি এর মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারো ক্ষেত্রেই হোক। পলাতক বা কারাগারে থাকলেও ৩০ দিনের মধ্যে আপিল ফাইল করতে হবে। অর্থাৎ সেটা হোক শেখ হাসিনার কিংবা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমি এসব আইন দেখিয়েছি। এছাড়া মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিলটি এখনও গ্রহণই করেননি আপিল বিভাগ। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে এখন কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই। আমার মনে হয় আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কেউ যদি আপিল না করেন, তাহলে অন্য কোনো ফোরামেও আর আইনগত প্রতিকার চাওয়ার উপায় থাকবে না। অতএব ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পরিপ্রক্ষিতে যদি ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার। এটি সরকারের একটা ইনহেরেন্ট পাওয়ার তথা অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা। তারা যে কারো ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতে পারে আবার কারো ক্ষেত্রে নাও করতে পারে। এটা সরকারের ইচ্ছা। 




হাইকোর্টের রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানকে

হাইকোর্টের রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানকে
ছবি সংগৃহীত।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত এ রায় দেন।

আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় রুল দেন। আজ রুল খারিজ করলেন হাইকোর্টের নতুন এ বেঞ্চ। রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর।

পরে এনবিআরের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন,২০১৭ সালে দুটি রিট পিটিশন ফাইল করা হয়।।​বিষয়টা হচ্ছে এরকম যে, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি এগ্রিমেন্টে পৌঁছায় যে—গ্রামীণ কল্যাণকে গ্রামীণ টেলিকম কিছু আর্থিক সহায়তা দেবে। সেই আর্থিক সহায়তার প্রতিদান হিসেবে গ্রামীণ টেলিকম তার অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে, গ্রামীণ কল্যাণের শেয়ার থেকে অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে ৪২.৫০% প্রফিট গ্রামীণ কল্যাণকে প্রদান করবে। পরবর্তী সময়ে এটা যখন ইনকাম ট্যাক্স অথরিটি তাদের ফাইলটা আন্ডার সেকশন ১২০-তে রিওপেন করে এবং দেখে যে, গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণ যে প্রফিটটা আর্ন করেছে, সেটার ওপর তারা অ্যাট সোর্সে উৎসে কর কর্তন করেনি। যে কারণে এই রিওপেন। পরবর্তী সময়ে এটা রিভিশন ফাইল করে বিফোর দ্য কমিশনার অব ট্যাক্সেস। তার এগেইনস্টে হাইকোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করা হয়।

আইনজীবী আরও বলেন, ​দীর্ঘ শুনানির পর আজকে এই মামলাটি হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিচারপতি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিম মহোদয়ের বেঞ্চে রায় প্রদান করেন এবং রুলটি ডিসচার্জ করা হয়। যার ফলে এই রায়টি ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্টের পক্ষে, তথা সরকারের পক্ষে আসে। এবং এতে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা। যা এখন ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্ট এই প্রতিষ্ঠান থেকে আইন অনুযায়ী আদায় করতে পারবে এবং ডিমান্ড নোটিশ যথাযথভাবে ইস্যু করবে।




রুল খারিজ, ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয় : হাইকোর্ট

রুল খারিজ, ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয় : হাইকোর্ট
ছবি সংগৃহীত।

ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির পদক্ষেপ নিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।  

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. ইকবাল কবির  ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।  

এর ফলে ছবি দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে হবে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে কামাল হোসেন মিয়াজী বলেছেন, রুল খারিজ করে দিয়েছেন আাদালত। ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র হবে না।

আদালতে ইসলামী শরীয়ত মতে পর্দা করেন বলে জানিয়ে রিট আবেদনটি ২০২২ সালে দায়ের করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। রিট আবেদনে তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে অথরিটি দেওয়া হয়।

ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন বরাবরে একটি আবেদন করে সুমাইয়া আহমাদ মুনা। সেখানে বলা হয়, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম মহিলা এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলামের শরীয়তের হুকুম আহকাম নিয়মিতভাবে পালন করে থাকেন। সে কারণে যে কোনো প্রকার ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। যার ফলে তার পরিচয়পত্র নেই। কিন্তু পরিচয়পত্র না থাকায় নানাবিধ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চান। কিন্তু আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন।

এ রিটের শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৬ মার্চ আদালত রুল জারি করেছেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় তথা বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। যেটি বুধবার খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রুল জারির সময় রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, এ আবেদনটাই সংবিধান পরিপন্থি। হজ করতে গেলেও ছবি তুলতে হয়। অ্যাকাউন্ট করতে গেলেও ছবি লাগবে। ছবি না দিলে ওনার টাকা যদি অন্য কেউ নিয়ে যায়, এটার কি হবে। আর বায়োমেট্রিক করতে হলে চোখের আইরিশ লাগবে। তখনতো পর্দা উঠাতে হবে।   




মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট
ছবি সংগৃহীত।

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানের অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির আবেদনে সাড়া দেননি হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাসের চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। পরে তিনি বলেন, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন একটি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছিল, তারা স্লিপার বাস সড়কে চালাতে চায়। আমি আদালতে বলেছি, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮—এর ধারা হলো ৪০-এ। ৪০-এ বলে দেওয়া আছে টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন। যদি টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কেউ ভায়োলেশন করে, তাহলে সেটা ৮০-সেকশন ৮৪ দ্বারা এগুলো অফেন্স। এবং পানিশেবল অফেন্স, এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ বছর এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা। এছাড়া সেকশন ২৮, সড়ক পরিবহন আইন, সেখানে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে—রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না।

‘আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে। আর স্লিপার বাস চালানোর তো পারমিশন নাই। হাইকোর্টও পারমিশন দেয়নি,’ বলেন আইনজীবী।