শিবির নেতার মামলায় জামায়াতের আমিরসহ ১০ জন আসামি
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

শিবির নেতার মামলায় জামায়াতের আমিরসহ ১০ জন আসামি

শিবির নেতার মামলায় জামায়াতের আমিরসহ ১০ জন আসামি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতের আমির, সাবেক আমির ও সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেন ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা ও পৌরসভা পেশাজীবি পরিষদের সদস্য।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর দায়ের করা একটি মামলার সমালোচনা করায় গত ২০ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে বাদীর ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন ২১ জুলাই রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ফেসবুক পোস্ট না দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— ফটিকছড়ি পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতা রেজাউল করিম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন শিকদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আবু জাফর, পৌর জামায়াতের নেতা কাজী মোহাম্মদ লোকমান, মোহাম্মদ রায়হান ও মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফটিকছড়ি সদর বিবিরহাটের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে বাদী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমুর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন। পরে চোখ বেঁধে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে হত্যা ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়। তবে, এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমার মামলা ও সংবাদ সম্মেলন দলের বিরুদ্ধে নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু বলেন, বাদী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কাউকে অপহরণ, আটকে রাখা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মামলার অন্য আসামিরাও অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, বাদী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমিরের ফটিকছড়ি সফর ও একটি সামাজিক বৈঠক নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর মন্তব্য করায় ২০ জুলাই তাকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মামলা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।