শারজায় ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু, বাবাহারা দুই কন্যাশিশু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ আবু জাহেদ (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা। বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর ১০ ও ৩ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশু। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের রাউজানে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আবু জাহেদ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিংগলা গ্রামের মফজল ডাক্তার বাড়ির মৃত মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। তাঁর দুই মেয়ে জেরিন আকতার (১০) ও আফরিন আকতার (৩)।
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, রাউজান কলেজে পড়াশোনা শেষ করে আবু জাহেদ রাউজান উপজেলা সদরের ফকিরহাট বাজারে টেলিকম ব্যবসা শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে ২০০৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে দুবাই ও শারজাহ এলাকায় বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। সর্বশেষ শারজাহর একটি গ্রোসারিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০২৫ সালে ছুটিতে দেশে ফেরেন আবু জাহেদ। কয়েক মাস পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আবারও আরব আমিরাতে ফিরে যান। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার এক মাসের মাথায় তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
স্বজনদের দাবি, শনিবার রাতে শারজাহর যে বাসায় আবু জাহেদ ঘুমিয়ে ছিলেন, তার পাশের কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়ায় ঘুমের মধ্যেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। প্রিয়জনের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। বিশেষ করে অল্প বয়সী দুই মেয়েকে রেখে বাবার চিরবিদায়ের ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাবার হাত ধরে বেড়ে ওঠার কথা ছিল দুই শিশুর, সেই বাবার আর কখনো ফিরে না আসার বাস্তবতা মেনে নেওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
এদিকে আবু জাহেদের মৃত্যুর সংবাদে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্ধু মো. আবছার, আলমগীর হোসেন ও আবু হানিফ জানান, স্কুল-কলেজজীবন থেকেই জাহেদ বন্ধুমহলে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিলেন। দেশে ছুটিতে এলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও আড্ডায় মেতে উঠতেন তিনি। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।
মৃত্যুকালে আবু জাহেদ স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।






