লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদরোগীদের জন্য চালু হলো ইকো-কার্ডিওগ্রাম সেবা
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদরোগীদের জন্য চালু হলো ইকো-কার্ডিওগ্রাম সেবা

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদরোগীদের জন্য চালু হলো ইকো-কার্ডিওগ্রাম সেবা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার হৃদরোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও সুলভ করতে এক নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হয়েছে। লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত ইকো-কার্ডিওগ্রাফি (Echocardiogram) সেবা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এ সেবার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ড. গোলাম মোস্তফা নাদিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন এবং লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ড. মো. সোলাইমান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, সেবাটি চালু করতে সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায় থেকেই অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ, সাবেক ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. গোলাম মোস্তফা নাদিমের ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ প্রযুক্তিগত সুবিধাটি যুক্ত হলো।

এতদিন লামা, বমুবিলছড়ি ও পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার হৃদরোগীদের সামান্য ইকো-কার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা করানোর জন্যও বান্দরবান জেলা সদরে অথবা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো বড় শহরে যেতে হতো। এতে রোগীদের যেমন সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি পোহাতে হতো, তেমনি গুনতে হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে স্থানীয় রোগীরা এখন নিজ এলাকাতেই অত্যন্ত কম খরচে দ্রুত হৃদরোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. নাদিম জানান, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন অ্যাম্বুলেন্সসহ ভবিষ্যতে এলাকার প্রান্তিক জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে লেবুভর্তি বস্তা থেকে ৩ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে লেবুভর্তি বস্তা থেকে ৩ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে লেবুভর্তি পরিত্যক্ত দুটি বস্তা তল্লাশি করে মালিকবিহীন ৯৯ হাজার ৬৪০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার সিজার মূল্য ২ কোটি ৯৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা, যা প্রায় ৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল আদর্শগ্রাম চেকপোস্টের কাছে স্টিলের ব্রিজের নিচে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

849534544_1086885090803882_2085882364528913557_n
 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিজিবির বিশেষ টহল দল আদর্শগ্রাম চেকপোস্টের নিকটবর্তী স্টিলের ব্রিজের নিচে তল্লাশি চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা লেবুভর্তি দুটি বস্তা থেকে ১০টি কাটে রাখা মোট ৯৯ হাজার ৬৪০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে এসব ইয়াবার কোনো মালিক পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।




ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে খাগড়াছড়ির রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ছোটফরিংগা সীমান্ত এলাকা থেকে এসব শাড়ি জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রামগড় ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল মীরসরাই উপজেলার ছোটফরিংগা বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০৩/২-আরবি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াটিলা মাজারসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়।

এ সময় পাহাড়ি এলাকার উঁচু-নিচু স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক সিজার মূল্য ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। দেশের অর্থনীতি রক্ষা ও সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।




লামায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী, খোঁজ মেলেনি ৩ দিনেও

লামায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী, খোঁজ মেলেনি ৩ দিনেও
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছার মুখ এলাকা থেকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছে তিন পরিবারের সদস্যদের। অন্যদিকে, নিখোঁজের কারণ ও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো— লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তানিয়া সুলতানা ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি আক্তার একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১১ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।

পরিবারের দাবি, রেশমি আক্তার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই তাঁর বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা কাগজপত্র নিতে যায়নি। ফলে কী কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং পরে কোথায় গেছে, তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজ তিন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করে। কিশোরীদের চকরিয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তারা সেখানে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। সন্তানদের কোনো বিপদ হয়েছে কি না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাদের সন্ধান বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, গত মাসের শেষ দিক থেকে ওই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদ্‌ঘাটন ও উদ্ধার অভিযানে পুলিশ কাজ করছে।