লামায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন

লামায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

লামায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক এক অবহিতকরণ ​অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার  (১২ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

​অবহিতকরণ সভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত পরিবারকে কীভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে এবং তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিকট সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে এবং স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি কোয়িন্টাইলে—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত বিভক্ত করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ বা তার কম স্কোরপ্রাপ্ত নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন; তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়িন্টাইলভুক্ত যোগ্য নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাবেন।

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করবেন। এ কার্যক্রমের জন্য মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মীব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সকল নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকা পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

লামা উপজেলার ফ্যামিলি কার্ডের লামা পৌরসভার মোট সম্ভাব্য খানা ২৫,২১৯ টি। লামা উপজেলার মোট সম্ভাব্য খানার সংখ্যা - ২৮,২৮৫ টি।ইউনিয়ন সমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ খানা ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নে, খানার সংখ্যা-৮৫৫১টি। পৌরসভার ওয়ার্ড  সমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ খানা ৭নং ওয়ার্ড, খানার সংখ্যা   ৮৩৮টি।  ফাসিয়াখালিতে বর্তমানে ১১শ জন ভাতা পাচ্ছেন।  লামা উপজেলায় মোট তথ্য সংগ্রহকারী ৪৩জন এবং সুপার ভাইজার ৪জন।লামা পৌরসভায় মোট তথ্য সংগ্রহকারী ১২জন এবং সুপার ভাইজার ১জন।১ম পর্যায়ে জরিপ চলবে ৩টি ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডে: সদর ইউনিয়নের ১নং ১, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে।সরই ইউনিয়নের ১নং ১, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে।রূপসী পাড়া ইউনিয়নের ১নং ১, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে এবং  পৌরসভার ১নং, ৬ নং ও ৭নং ওয়ার্ডে জরিপ চলবে। 
 




ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়াচ্ছেন মুফতি সাদেকী

ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়াচ্ছেন মুফতি সাদেকী
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইসলামের সঠিক দাওয়াত, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ আলেম মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী।  প্রথাগত ধর্মীয় পাঠদানের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সুপথে পরিচালিত করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তিনি ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।  

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ইং লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটি ও বিচারকদের তত্ত্বাবধানে  নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজিত হয়। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ এই পরীক্ষায় সকল প্রার্থীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী। পরবর্তীতে ০১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লামা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের শীর্ষস্থানীয় কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এই মেধাবী আলেম।দাওরায়ে হাদিসে চট্টগ্রামের বিখ্যাত জামিয়া জিরি থেকে কৃতিত্বের সাথে (স্টার মার্ক) পাস করেন। রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ থেকে উচ্চতর হাদিস গবেষণায় (স্টার মার্ক) বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করেন। একই গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) থেকে ফতোয়া ও ইসলামী আইনে (স্টার মার্ক) বিশেষায়িত ডিগ্রি লাভ করেন। জামিয়া জিরি পটিয়া থেকে ক্বিরাআতে মুজাওওয়াদ কোর্সে (স্টার মার্ক) উত্তীর্ণ হন। এছাড়া ইসলামিক অর্থনীতিতেও বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেছেন।

লামায় যোগদানের আগে তিনি দেশের বিভিন্ন নামকরা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।​শিক্ষা সচিব, মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সাভার, ঢাকা।​শিক্ষা সচিব, মুফতি ও মুহাদ্দিস আল আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা, লক্ষ্মীপুর সদর।​পরিচালক (মুহতামিম) জামিয়া দারুস সুন্নাহ, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।

​ইসলামী শিক্ষাঙ্গনে তাঁর রচিত ও গবেষণামূলক একাধিক বই ও থিসিস ইতোমধ্যে সুধী মহলে সমাদৃত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:​আহকামুল ফরায়েজ (ইসলামী উত্তরাধিকার আইন ও বণ্টন সংক্রান্ত) ​শিরকায়ে বাতেলা (ব্যবসায়িক অবৈধ চুক্তি ও সমকালীন অর্থনীতি বিষয়ক) সালাতুল হানাফিয়া (হানাফি মাযহাবের আলোকে সালাতের দলিল ভিত্তিক বিশ্লেষণ)।

​লামা উপজেলা মডেল মসজিদে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তরুণরা যাতে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিয়মিত খুতবা ও সামাজিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে আসছেন।তার তথ্যবহুল তাফসীর আলোচনা , শ্রুতি মধুর উপস্থাপনা, স্বললিত কন্ঠে নামাজে কুরআনের তেলাওয়াত যে কাউকে বশীভূত করে তোলে। নিয়মিত তার আহ্বান ও তিলাওয়াত শুনে অনেকে নিয়মিত মুসল্লিতে পরিণত হয়। সবার সাথে হাস্যজ্জ্বল সালাম কালাম ও আলাপ-আলোচনার কারণে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছে। নিয়মিত মুসল্লিরা বলেন, হুজুরের পেছনে নামাজ পড়লে অন্তর অনেক প্রশান্তি লাভ করে।

মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী বলেন, ইসলামের শান্তির বাণী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা,মাদকমুক্ত সমাজ গড়া এবং মানবকল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যাশায়ী হোক আমার পথ চলার মূল প্রেরণা। মুফতি ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ সাদেকীর ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের এই প্রচেষ্টা লামা অঞ্চলে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, নৈতিক উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার অন্তর্গত ৩ নং কৈয়ার বিল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড দঃ খিলছাদক গ্রামে মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী জন্ম গ্রহণ করেন। জনাব আব্বাস আহমদ এর ৪ ছেলে ৫ মেয়ের মধ্যে তিনি ৭ম।সকলেই ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত।




লামায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে ইউএনও মঈন উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

লামায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে ইউএনও মঈন উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিনের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) লামা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বদলি হয়েছেন।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (প্রশাসক) মো. মঈন উদ্দিনের ১ বছর ৮ মাসের সফল কর্মকাল শেষে তাঁকে এক আবেগঘন পরিবেশে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। লামায় কর্মরত সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন লামা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ফোরাম এবং মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সর্বদা গঠনমূলক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বক্তারা তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। লামা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লামা তথ্য অফিসার রাসেদুল হক রাশেদ, লামা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, যুগ্ম সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. তৈয়ুব আলী, সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নুর মোহাম্মদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হাশেম ও মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। লামা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তানফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন হাফেজ মো. মিজানুর রহমান, মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে লামা উপজেলায় কর্মরত মূলধারার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, “ইউএনও মো. মঈন উদ্দিনের বিদায় আমাদের জন্য কষ্টদায়ক হলেও তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা লামাবাসী দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে।”

বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাঁর বক্তব্যে লামার সর্বস্তরের জনগণ এবং বিশেষ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “লামায় আমার ১ বছর ৮ মাসের কর্মজীবন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও স্মরণীয়। স্থানীয় সাংবাদিকেরা যেভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়া ও উপজেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। লামাবাসীর ভালোবাসা আমি আজীবন হৃদয়ে ধারণ করব।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে লামা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ফোরাম ও মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সর্বোচ্চ তৎপরতা

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সর্বোচ্চ তৎপরতা
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য পণ্য পাচার ঠেকাতেও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।

এদিকে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা হুমকি রুখতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি আগের চেয়ে বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পড়ার পর থেকেই বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি আরাকান আর্মির গতিবিধি এবং তাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা স্পিডবোট এবং আধুনিক 'থার্মাল ইমেজার' প্রযুক্তির সাহায্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

সূত্রমতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি কোনো আপস করবে না। আরাকান আর্মি বা মিয়ানমারের যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের সব চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশি নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৩৫ নম্বর পিলার থেকে ৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকার ১০টি পয়েন্টে মাদক ও গবাদিপশু চোরাকারবারিরা সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে নতুন আঙ্গিকে পাচার শুরু করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। একদিকে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে চোরাকারবারিরাও তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে বাইশফাঁড়ি, ঘুমধুম-তুমব্রু, জামছড়ি, ফুলতলী, লেবুছড়ি ও পাইনছড়ি পয়েন্টের চোরাকারবারিরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে ৩৪ ও ১১ বিজিবি অধিনায়কদের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।