রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে দলের চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

রিজভী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করেন।

এ সময় দলের যুগ্ম মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।




মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীনের ছত্রছায়ায় চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালদের আধিপত্য

মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীনের ছত্রছায়ায় চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালদের আধিপত্য
ছবি সংগৃহীত।

কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ছয় বছরের রামরাজত্ব

 

দালালি, ঘুষ বাণিজ্য ও কর্মকর্তাদের কব্জির জোরে গ্রাহক সেবা ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ বিআরটিএর চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের। সংস্থাটিকে দালালমুক্ত করে গ্রাহক সেবা নিশ্চিতে সদর কার্যালয়ের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকলেও দালালদের আধিপত্য, কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্য এবং কব্জির জোরে পছন্দের সার্কেলে বদলি কোনোটাই নিয়স্ত্রণ করছে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি ।

চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র দালাল সিন্ডিকেটের আধিপত্য কোনোভাবেই দমন হচ্ছে না। এই সিন্ডিকেটের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে সংস্থাটির মোটরযান পরিদর্শক মোঃ আলাউদ্দীন। গ্রাহক সেবা প্রদানে ঘুষ বাণিজ্যের পরেও নিয়ন্ত্রিত দালালদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা পান তিনি।

সূত্র বলছে, ২০২১ সালের ৫ই ডিসেম্বর ২০১০ সংখ্যক স্মারকের অফিস আদেশ মোতাবেক আলাউদ্দীনকে বিআরটিএ’র চট্ট মেট্রা-২ সার্কেলে বদলি করে আদেশ জারি করেছিলেন সংস্থাটির সাবেক উপ পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ১৩৮ নং অফিস আদেশে কর্র্তৃপক্ষ তাকে চাঁদপুর সার্কেলে বদলি করে। কিন্তু আট মাসের মাথায় সংস্থাটির কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চাঁদপুর থেকে বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে বদলি হয়ে যায়। বদলি আদেশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে সংযুক্তির আদেশ করিয়ে নেয় এই কর্মকর্তা।
বিআরটিএ’র সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে মোটরযান পরিদর্শকের দুইটি পদ রয়েছে। সে পদগুলোতে কর্র্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর বিআরটিএর নড়াইল সার্কেল থেকে মোটরযান পরিদর্শক ফরহাদ হোসেনকে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে বদলি করে। ২০২৬ সালের ৫ জুলাই আরেক আদেশে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের শূণ্য পদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক রাসন চাকমাকে চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলে বদলি করে সংস্থাটি। 
তবে দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীনের সংযুক্তির অর্ডারটি বাতিল করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিআরটিএর প্রশাসন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে দালাল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে দায় মুক্তির চেষ্টা করলেও দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেই বিআরটিএর চেয়ারম্যানের।

বিআরটিএর তথ্য বলছে, মোঃ আলাউদ্দীন চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের ফিটনেস শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। গত ১লা জুন থেকে গত ১২ই আগস্ট পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি অফিসের কোনো দায়িত্ব পালন না করেই শুধুমাত্র সিনিয়র কর্মকর্তাদের তোষামোদি ও দালাল নিয়šত্রণ এবং ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় শুধুমাত্র ৩০ শে জুন তারিখে তিনি ৩৮টি মোটরযানের ফিটনেস সনদ ইস্যু করেছেন। বিআরটিএর সদর কার্যালয়ের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাসুদ আলম ও চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের উপ পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাহাবুব কবির কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মোটরযান পরিদর্শক পদে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ বিআরটিএতে যোগদান করেন মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীন। সে সময়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত সচিব  (গ্রেড-১) নুর মোহাম্মদ মজুমদার। আলাউদ্দীনের বাড়ি চেয়ারম্যানের নিজ জেলা ফেনিতে হওয়ায় বিশেষ সুবিধায় নিয়োগকালীন প্রথম পোস্টিং পান চট্ট মেট্রো-২ সার্কেলে। সে সময়ে চট্ট মেট্রো-২ সার্কেলের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী পরিচলক (ইঞ্জিঃ) তৌহিদুল হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের দায়িত্বে ছিলেন রায়হানা আক্তার উর্থী। এই সকল কর্মকর্তাদের বাড়িও ফেনি জেলায় হওয়ায় চট্টগ্রাম বিআরটিএতে ভয়ংকর এক দালাল সিন্ডিকেট তৈরি করে রাম রাজত্ব কায়েম করেছিলেন মোটরযান পরিদর্শক আলাউদ্দীন।

২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ফেনি-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং ফেনি জেলার সিনিয়র কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম,  দুর্নীতি, দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। বর্তমানেও একই রকমভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এই বিষয়ে সংস্থাটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাসুদ আলমকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।




চকরিয়ায় বাস-জিটু মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৫

চকরিয়ায় বাস-জিটু মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৫
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী জিটু গাড়ি ও এসি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও থেকে চকরিয়াগামী একটি নাম্বারবিহীন যাত্রীবাহী জিটু গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাল-সবুজ রঙের একটি যাত্রীবাহী এসি বাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮০৯০) জিটু গাড়িটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে জিটু গাড়িটির ছাদ আলাদা হয়ে যায় এবং গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।


দুর্ঘটনায় জিটু গাড়িতে থাকা নয়জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠান।


চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে মানাযায় খুটাখালী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুনবাগিচা এলাকার  মৃত মতিউর রহমানের পুত্র

 মো.জসিম উদ্দিন (২৫), এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যায় খুটাখালী নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের পুত্র মো. জিয়াবুল হক (২৫) । ঈদগাঁও পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের পুত্র মো. রফিক (২৮),

চকরিয়া ফুলছড়ি সিয়ালপাড়া এলাকার

মৃত মঞ্জুর আলমের পুত্র মো. শাহেদ (২৭) ।


অন্যদিকে গুরুতর আহত জিয়াবুল হক (৪০), মো. সরোয়ার (১৯), সৈয়দ আলম (৫০) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫) মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত সৈয়দ করিম (৩০) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।




মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সী, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য কিছু শক্তিও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।

তিনি বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত। এই রূপান্তরের অংশীদার হিসেবে মার্কিন ব্যবসাগুলোকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সুযোগ রয়েছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের আরও ভালো ধারণা দিয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে আমাদের পুরো সরকারকে আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’

বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছে, বিধিবিধান সহজ করছে, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি করছে, মুনাফা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ সহজ করছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাচ্ছে এবং সরকারি সেবাকে ডিজিটাল করছে।

তিনি বলেন, সরকার অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কিংবা পরামর্শক সেবা—যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের কাজে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানানো হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ব্যাপারে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা দেওয়া এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী ও উভয়ের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার সঙ্গে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াই এবং আপনাদের কোম্পানিগুলোর সমৃদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করি। আসুন, আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’


মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফল সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সহযোগিতার জন্য তার সরকার সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।