রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ

রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ
ছবি সংগৃহীত।

"চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে", "মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি"—এই প্রত্যয়ে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ফইজুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মিলনায়তনে রামু থানার উদ্যোগে ও গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থাপনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন কচ্ছপিয়া কে.জি. স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন খালেদ এম.এড, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা দিদারুল আলম, উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাইমুনুল হক মামুন, বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার নুরুল আবসার, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন টুক্কু, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন শাহীন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম শাহীন, বাপ্পি, ফাহিম, দেলোয়ার হোসেন, কালু ও সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ায় জড়িতদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে সমাবেশ করে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা। এছাড়া মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদক নির্মূলে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

হাফেজ ছৈয়দ আলমের কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি র‍্যালি বের হয়ে গর্জনিয়া বাজার ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে শেষ হয়।




ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণসমাবেশ ও মানববন্ধন

ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণসমাবেশ ও মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে সদরের ভারুয়াখালীকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ব্যাপক গণসমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী ও ভারুয়াখালীর কৃতি সন্তান মোহাম্মদ নেজামুল হক।

তিনি বলেন, ভারুয়াখালীকে প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তি আমাদের ন্যায্য দাবি। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদেরকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে সিটি কর্পোরেশনের জুরিডিকশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত, উদ্বেলিত ছিলাম। কিন্তু ভারুয়াখালীকে বাদ দেওয়ার সংবাদে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, রামু উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকাকে সিটি কর্পোরেশনভুক্ত করা হলেও নানা সম্ভাবনাময়ী ভারুয়াখালী কেন আবহেলার শিকার? অথচ কক্সবাজার শহরসহ পুরো জেলার বিভিন্ন স্তরে এই এলাকাবাসীর অবদান রয়েছে।

এড. মোহাম্মদ নেজামুল হক বলেন, সিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মাননীয় এমপি লুৎফুর রহমান কাজল আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি। আশা করি ভারুয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে তিনি আন্তরিক ভূমিকা পালন করবেন।

মাওলানা মোঃ সায়েমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর নাজিমউদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল আলম, মাওলানা আব্দুল হাকিম সিদ্দিকী, এডভোকেট শওকত ওসমান, জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হোসাইন, দলিল লেখক মাহমুদুর রহমান, আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান সিকদার, মো. ফজলুল হক মেম্বার, মাস্টার শেফা উদ্দিন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা সৈয়দ নূর, বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল, এডভোকেট রেবেকা সুলতানা, এডভোকেট আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক জহিরুল হক, ব্যাংকের মোহাম্মদ নূর, এনজিওকর্মী মোঃ আব্দুল্লাহ, এডভোকেট শাফায়েত, ইঞ্জিনিয়ার রমিজুর রহমান, হাফেজ আব্দুস শুকুর, শাহীন চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার সদরের সমৃদ্ধ জনপদের মধ্যে অন্যতম এলাকা ভারুয়াখালী। লবণ, মৎস্যশিল্পসহ নয়নাভিরাম একটি গ্রামীণ জনপদ। প্রায় অর্ধ লক্ষ জনগণের বসতিপূর্ণ এই এলাকাকে সরকারের মহাপরিকল্পনার স্রোতে মেলাতে পারলে পাল্টে যাবে উন্নয়নের চিত্র।

সোমবার দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণ মিছিল শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সমৃদ্ধ ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করে এলাকার স্বতঃস্ফূর্ত জনতা।

তারা জানায়, প্রাকৃতিক সম্পদের ভরপুর প্রাচীন গ্রামীণ জনপদ ভারুয়াখালী প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হলে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে সরকার।

ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তরের দাবিটি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে সরকারি সিদ্ধান্তেই সমৃদ্ধির সোপানে পৌঁছবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপদ প্রতিনিধিদের ভূমিকায় স্বপ্ন পূরণ হবে এলাকাবাসীর।
 




লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি

লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মিরপুর থেকে ছয় সদস্যের একটি পর্যটক দল থানচি উপজেলার বাঘের লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে যায়। ভ্রমণের একপর্যায়ে দলের সদস্য নাফিস মাশরুর ইসলাম (নজরুল ইসলাম), ঠিকানা পূর্ব সেনপাড়া পর্বতা দক্ষিণ, মিরপুর, ঢাকা—হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপ্রায় এলাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির সহায়তা চাওয়া হয়।

পরিবারের অনুরোধের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিকের নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্প থেকে একটি বিশেষ টহল দল দুটি নৌকাযোগে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় পৌঁছে অসুস্থ পর্যটকসহ তার সঙ্গীদের উদ্ধার করে। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলেই অসুস্থ পর্যটককে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা দেন।

পরবর্তীতে অসুস্থ পর্যটকসহ দলের অন্য সদস্যদের নৌকাযোগে নিরাপদে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপদগ্রস্ত পর্যটকের জীবন রক্ষায় দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় বিজিবির মানবিক ও জনসেবামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জরুরি প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে তারা। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ ব্যবসায়ীকে পার্বত্য জেলা পরিষদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান

বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ ব্যবসায়ীকে পার্বত্য জেলা পরিষদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বলিবাজার ভেজিটেবল শেড প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মাউসেটুন তঞ্চঙ্গ্যা, চনুমং মারমা, মো. জসিম উদ্দিন তুষার, লুসাইমং মারমা প্রমুখ।

এ সময় অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জন এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৪ জনসহ মোট ১৪ জন ব্যবসায়ীর মাঝে এই ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সহযোগিতা করা জরুরি। এ ধরনের সহায়তা ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বলিপাড়া বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হলো।