রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ

রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ
ছবি সংগৃহীত।

"চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে", "মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি"—এই প্রত্যয়ে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ফইজুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মিলনায়তনে রামু থানার উদ্যোগে ও গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থাপনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন কচ্ছপিয়া কে.জি. স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন খালেদ এম.এড, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা দিদারুল আলম, উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাইমুনুল হক মামুন, বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার নুরুল আবসার, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন টুক্কু, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন শাহীন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম শাহীন, বাপ্পি, ফাহিম, দেলোয়ার হোসেন, কালু ও সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ায় জড়িতদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে সমাবেশ করে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা। এছাড়া মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদক নির্মূলে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

হাফেজ ছৈয়দ আলমের কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি র‍্যালি বের হয়ে গর্জনিয়া বাজার ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে শেষ হয়।




যুবকদের কর্মসংস্থানে বান্দরবান সেনাজোনের কারিগরি প্রশিক্ষণ

যুবকদের কর্মসংস্থানে বান্দরবান সেনাজোনের কারিগরি প্রশিক্ষণ
ছবি সংগৃহীত।

যুবসমাজকে কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বান্দরবানে শুরু হয়েছে ‘যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন–২০২৬’-এর আওতায় এসি ও ফ্রিজ মেরামত এবং সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

গত ৬ সেপ্টেম্বর বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেঘলায় শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত। এক মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের এসি ও ফ্রিজ মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিংসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোয়াংছড়ি সাবজোন কমান্ডার মেজর রাফিউর রহমান রাজীব, এসইউপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন পাটোয়ারী।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালনায় এবং বান্দরবান সেনাজোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ বলেন, “বর্তমান সময়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্বনির্ভর হওয়ার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি যুবসমাজকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষ ও কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বান্দরবান জোনের জোন কমান্ডার প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক বিষয় সম্পর্কে অবহিত হন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবান সেনাজোনের এমন উদ্যোগ জেলার যুবসমাজের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা ভবিষ্যতে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারবেন।

এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে বান্দরবান জেলার আগ্রহী যুবকদের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।




উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট

উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট
ছবি সংগৃহীত।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের দিংতে পাড়ায় স্থাপন করা হয়েছিল সৌরচালিত ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন প্লান্ট ও সরবরাহ ব্যবস্থা। প্রকল্পের আওতায় ঝিরি থেকে জিএফএস পানির লাইন, ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার সুপেয় পানির ব্যবস্থা, খাবার পানির জন্য দুটি সংগ্রহ পয়েন্ট, গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য চারটি পয়েন্ট, শক্তিশালী সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি পাকা ঘর এবং একটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়।

কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি পরিশোধন ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রায় নয় মাস ধরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩৩টি পরিবারের ২০৫ জন মানুষ আবারও সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের বারবার জানানো সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে পাড়াবাসীদের মধ্যে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (LoGIC) প্রকল্পের জলবায়ু সহনশীল স্কিমের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের নাম— “জিএফএস-ভিত্তিক সৌরচালিত ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন প্লান্ট স্থাপন ও সরবরাহ ব্যবস্থা।”

প্রকল্পের মোট বাজেট ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা। এর মধ্যে লজিক প্রকল্পের পিবিসিআরজি বরাদ্দ ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা এবং কমিউনিটি কন্ট্রিবিউশন (জনগণের অংশগ্রহণ) ৭ লাখ টাকা। পিবিসিআরজি-এর বরাদ্দকাল ছিল ২০২৩-২৪ এবং বাস্তবায়নকাল ২০২৫-২৬ অর্থবছর। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর প্রকল্পটির শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

এত বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প কেন চালুর মাত্র তিন মাসের মধ্যে অচল হয়ে গেল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সুপেয় পানির সংকট দূর করাই যেখানে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল, সেখানে এত অল্প সময়ে প্লান্টটি অচল হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণমান, যন্ত্রপাতির গুণগত মান, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন-পরবর্তী দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট কিছুটা দূর হয়েছিল। কিন্তু মাত্র তিন মাস পর প্লান্টটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আবার আগের মতো দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

দিংতে পাড়ার বাসিন্দা পারাও ম্রো বলেন, “প্রকল্প চালু হওয়ার সময় মনে হয়েছিল আমাদের পানির কষ্ট শেষ হয়েছে। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতেই প্লান্ট বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, তাঁরা মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পাড়ার আরেক বাসিন্দা লংঙান ম্রো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত টাকা খরচ করে প্রকল্প করা হলো, অথচ কয়েক মাসও টিকল না। আমরা যদি আবারও পাহাড়ি ঝিরি বা দূরের উৎস থেকেই পানি সংগ্রহ করি, তাহলে এত টাকা ব্যয়ে প্রকল্প করার প্রয়োজন কী ছিল?”

লজিক প্রকল্পের উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকেন্দু ত্রিপুরা বলেন, “প্রকল্পটি অচল থাকার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। মূলত ইনভার্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পানি ফিল্টার করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। দ্রুত প্লান্টটি সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকল্পের উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন উল্লেখ করে লজিক প্রকল্পের প্রকৌশলী করুণাময় চাকমা বলেন, “আমি এখন রাঙামাটিতে আছি, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। পানি নিয়ে সমস্যা হয়ে থাকলে তার সমাধান করা হবে।” তবে উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এমন ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণ এবং নির্মাণ ও যন্ত্রপাতির মান যথাযথ ছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—‘চেষ্টা চলছে’ বা ‘দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—এ ধরনের আশ্বাস আর কতদিন শুনবেন তাঁরা? প্রকল্পটি সত্যি মানুষের পানি সংকট নিরসনের জন্য হয়ে থাকলে দীর্ঘদিন অচল থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এত বিলম্ব কেন?

এ বিষয়ে থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। প্রকল্পটি কেন অচল হয়েছে এবং বর্তমানে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর রয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের সুপেয় পানির মতো মৌলিক চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য শুধু উদ্বোধন বা অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা কত বছর কার্যকর থাকছে এবং উপকারভোগীরা কতদিন সেবা পাচ্ছেন—তার ওপরই প্রকল্পের মূল সফলতা নির্ভর করে।

তাই ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি কেন মাত্র তিন মাসেই অচল হলো, কার গাফিলতিতে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ রয়েছে, প্লান্টের যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজের মান কেমন ছিল এবং প্রকল্পটির স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কে রয়েছে—এসব বিষয় দ্রুত তদন্ত করে দেখা জরুরি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্লান্টটি মেরামত করে সচল করার পাশাপাশি অচল হওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জলবায়ু সহনশীলতার নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও পাহাড়ি মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর হবে না, বরং তা অচল অবকাঠামো তৈরি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্তে পরিণত হবে।




পাহাড়ি মেয়েদের হকিতে এগিয়ে নিতে বান্দরবানে ‘অপরাজেয় আলো’

পাহাড়ি মেয়েদের হকিতে এগিয়ে নিতে বান্দরবানে ‘অপরাজেয় আলো’
ছবি সংগৃহীত।

পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানে নারী হকির প্রসার, নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং কিশোরীদের খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২০২৬’।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের আয়োজনে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুনর্গঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিন তুষার, চনুমং মারমা ও মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধি অনুপ মহাজন, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমসহ বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবান জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৫ জন নারী হকি খেলোয়াড়কে হকি স্টিক প্রদান করা হয়। খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন ও খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাম্যাচিং বলেন, “পাহাড়ের মেয়েদের মধ্যে প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন শুধু সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরতে পারবে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নারী খেলোয়াড়দের এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “হকির মতো সম্ভাবনাময় খেলায় পাহাড়ি মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আজ যারা স্টিক হাতে নিয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে।”

ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধি অনুপ মহাজন বলেন, “নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বান্দরবানের মেয়েদের হকি প্রতিভাকে আরও বিকশিত করতে আমরা উৎসাহ ও সহযোগিতা দিতে চাই।”

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “বান্দরবানে বিভিন্ন খেলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। হকিতেও নতুন খেলোয়াড় তৈরির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখান থেকে ভালো মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।”

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও অতিথিদের সামনে কারাতে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্পোর্টস কমপ্লেক্সে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আয়োজকেরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের নারী ও কিশোরীদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা, নারী হকির প্রসার এবং সম্ভাবনাময় নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করাই ‘অপরাজেয় আলো’ নারী হকি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২০২৬-এর মূল উদ্দেশ্য।