রাঙামাটি বন বিভাগে ওমর ফারুক স্বাধীনের রাম রাজত্ব বিভাগীয় বনকর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের চাঁদাবাজি

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, বদলি-বাণিজ্যর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় বনকর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের প্রশ্রয়ে ওমর ফারুক স্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগে রাম রাজত্ব কায়েম করেছে।
ওমর ফারুক স্বাধীন রাঙামাটি বন বিভাগে যোগদানের পর থেকেই সাবেক বরকল স্টেশন কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. মামুন মিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুনীতি করে চলছে । কাপ্তাই রেঞ্জের মাদার ট্রি-সেগুন গাছ পাচার, কাপ্তাই ও কর্ণফুলী রেঞ্জের পাহাড়ে অনিয়ন্ত্রিত জুম চাষ, সেগুন গাছ পাচার, বনের অভ্যন্তরে রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং নতুন নতুন পাহাড়ি পাড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । জানা গেছে মামুন মিয়া রাঙামাটি জুড়ে বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নামে চাঁদা আদায় করে থাকে। তিনি রাঙামাটিতে কাঠপাচারকারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।
এছাড়ও, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নাম ভাঙ্গি মোটা অংকের টাকা আদয়া করেন ওমর ফারুক স্বাধীন। কয়েকজন ডেপুটি রেঞ্জার, ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ড নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি স্বিকার করেছেন।
এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে নতুন যোগদানকারী ডেপুটি রেঞ্জার জাহিদ প্রামাণিককে রাইখিয়ংমুখ চেক স্টেশন ও কাপ্তাই রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়ার গুরতর উঠেছে। তাকে পদায়নের জন্য ওমর ফারুক স্বাধীন বিভাগীয় কর্মকর্তার নামে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা। কাপ্তাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে নেওয়া দুটি রাস্তার প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রকল্প দুটি বন্ধ করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়নি; ভবিষ্যতে যাতে ওই সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে আর কোনো রাস্তা নির্মাণ করা না হয়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অকেজো থাকা সোলার ফেন্সিং তাঁর উদ্যোগে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের সাক্ষী হিসেবে জীবতলী আর্মির সদস্যদের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘আমি কাপ্তাইয়ে থাকা অবস্থায় কোনো গাছ কাটা যায়নি। বরং সংরক্ষিত বন রক্ষায় যেসব প্রকল্প পরিবেশ ও বনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেগুলো বন্ধ করেছি। দুটি রাস্তার প্রকল্প বন্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর রাস্তা নির্মাণ না হয়, সে ব্যবস্থাও করেছি। দীর্ঘদিন অকেজো থাকা সোলার ফেন্সিং চালু করেছি।’









