রাউজানে সেপটিক ট্যাংকিতে পড়ে শালা- দুলা ভাইয়ের মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাউজানে একটি ঘরের সেপটিক ট্যাংকে নেমে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা সম্পর্কে শালা -দুলা ভাই। ২৬ জুন শুক্রবার আনুমানিক ১টায় উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটি পাড়ার কার্তিক দাশের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন প্রদীপ দাশ (৩৮) ও সমীরণ দাশ (২৭)। প্রদীপের বাড়ি একই ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামে। সমীরণ বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে সেটি প্রদীপের শ্বশুরবাড়ি।
নিহত প্রদীপের শাশুড়ি মিনতি দাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেপটিক ট্যাংকটি বন্ধ ছিল। আমরা এখানে থাকিনা। চান্দগাও রাস্তার মাথায় ভাড়া বাসায় থাকি, ২৬ জুন শুক্রবার সকালে সেপটিক ট্যাংকিতে পরিষ্কার করার জন্য খুললে প্রথমে একজন নির্মাণ শ্রমিক ভেতরে নেমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধারের জন্য আমার মেয়ের জামাই প্রদীপ ট্যাংকে নামেন। এ সময় ওই নির্মাণ শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনি ভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে প্রদীপ ট্যাংকের ভেতরে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করতে আমার ভাগিনা সমীরণও নিচে নামে। একপর্যায়ে তারাও দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে নোয়াপাড়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, নির্মাণাধীন ওই ঘরের সেপটিক ট্যাংকে শাটারিংয়ের কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় এক শ্রমিক ট্যাংকের ভেতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামেন প্রদীপ দাশ। ওই শ্রমিককে উদ্ধার করলেও পরে প্রদীপ নিজেই সেপটিক ট্যাংকে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধারে ছুটে আসেন সমীরণ। প্রদীপকে ওপরে তুলে সমীরণও ট্যাংকে ঢলে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সমীরণকে উদ্ধার করেন।
ফায়ার সার্ভিসের রাউজান স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার পর দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে লাশ দুটি উদ্ধার করে নোয়াপাড়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত্যু ঘোষণা করেন । পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় দুজনের লাশ বিনা ময়নাতদন্তে সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।








