যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তরের দাবিতে উত্তাল উত্তর ফটিকছড়ি, নারায়ণহাট–দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে উপজেলা সদর চেয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

নতুন প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর নারায়ণহাট–দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার(৩০ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার হেয়াকোঁ বাজার চৌরাস্তা, নারায়ণহাট ও বালুটিলা বাজার এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘উত্তর ফটিকছড়ির সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা ঢাকা–খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সর্বশেষ গণশুনানির প্রস্তাবনা অনুযায়ী নতুন প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর নারায়ণহাট–দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। পরে সরেজমিন পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার বিষয় বিবেচনায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে জুজখোলা মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়।
তাদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা দক্ষিণের সুয়াবিল ইউনিয়নকে যুক্ত করে উপজেলা সদর ভূজপুরে স্থাপনের জন্য নতুন প্রস্তাব পাঠান। এতে উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি রিট আবেদনের পর আদালত ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তবে সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
যুবদল নেতা নুরুল আমিন আযাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের মানুষ প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবায় বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। একটি উপজেলার মূল উদ্দেশ্য জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই জনমত, ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনসংখ্যার বিষয় বিবেচনায় নারায়ণহাট–দাঁতমারার মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করা উচিত। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ব্যাংকার হাসান শামসুদ্দিন বলেন, ‘নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে উপজেলা সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যেখানে উত্তরাঞ্চলের সব ইউনিয়নের মানুষ সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। আমরা আশা করি, সরকার সর্বশেষ গণশুনানির সুপারিশ এবং সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেবে।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া ইলিয়াছ, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা একরামুল হক বাবুল, বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন শিকদার, মাস্টার আবু তাহের চৌধুরী, এড. ইউচুপ আলম মাসুদ, যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম, শাহাদাৎ হোসাইন, শফিউল আলম, মোজাহের, বেলাল, সাজ্জাতুল হাসনাত, রবিউল হোসেন তানজিম, আবুল খায়ের, মুফতি হাবিব উল্যাহ আজিজী, জসিম মেম্বার, আলমগীর হোসেন, নুরুল আলম প্রমুখ।








