মেরিন খাতকে সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সম্ভাবনাময় মেরিন খাতকে সরকার কোনোভাবেই বিনা পদক্ষেপে, বিনা যতে, বিনা চেষ্টায় ব্যর্থ হতে দিতে চায় না। সরকার মেরিন খাতের সমস্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ নেভিগেশন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু সমুদ্রগামী নাবিক তৈরির মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। শিপ ম্যানেজমেন্ট, বন্দর পরিচালনা, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, মেরিন ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন শোর-বেইজড মেরিটাইম সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। তাই এই খাতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সরকারকে জানালে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব মেরিটাইম দিবস ও একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম বলেন, 'নীতি থেকে বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনা থেকে উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।'
জানা যায়, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি গত ৬৪ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে আসছে। একাডেমির প্রশিক্ষিত পাঁচ হাজারের বেশি মেরিনার বর্তমানে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিশ্বের বিভিন্ন মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ও ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক আয় ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে নারী ক্যাডেটদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ১২৫ জনের বেশি নারী মেরিনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার দিবসটি উপলক্ষে গার্ড অব অনার প্রদান, প্যারেড পরিদর্শন, র্যালি, বেলুন ওড়ানো, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।










