মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিরহাট গজারিয়া খালের সেতুটি ধসে পড়ার শঙ্কা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ, পুনর্নি...
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিরহাট গজারিয়া খালের সেতুটি ধসে পড়ার শঙ্কা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ, পুনর্নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের

মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিরহাট গজারিয়া খালের সেতুটি ধসে পড়ার শঙ্কা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ, পুনর্নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ির ভূজপুর থানার ২ নম্বর দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজার, বেতুয়া, তারাখোঁ সড়কের গজারিয়া খালের ওপর নির্মিত ঐতিহ্যবাহী সেতুটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই সেতুটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে দাঁতমারা ইউনিয়নের মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজু মিয়ার প্রচেষ্টায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সে সময় এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়া ছিল কষ্টসাধ্য। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।

তৎকালীন এলাকার জনপ্রতিনিধি ফজু মিয়া মেম্বার ছিলেন সেতুটির অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুক্তিবাহিনীর সদস্য হওয়ায় পাক-হানাদার বাহিনী তাকে ধরে এনে নির্মাণাধীন তার স্বপ্নের এই সেতুর ওপর ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। স্বাধীনতার পর সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা ও ভাঙনের কারণে এটি আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির পূর্ব পাশের অংশ মাঝখানে ফেটে অনেকটা নিচের দিকে দেবে গেছে। এ ছাড়া খালের পূর্ব পাশের বাঁধ ভেঙে মাটি সরে যাওয়ায় সেতুর গাইড ওয়াল ভেঙে দুই দিকে সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। নিচে মূল পিলারগুলোতেও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে কংক্রিট খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। খালের দুই পাড়ে ভয়াবহ ভাঙনের কারণে সেতুটির স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এটি দাঁতমারা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগ। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প সড়কের দূরত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিদিন কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি, চাঁদের গাড়ি ও মিনিট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শান্তিরহাট উচ্চবিদ্যালয়, শান্তিরহাট মিশকাতুন্নবী দাখিল মাদ্রাসা, শান্তিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসা, ছোট বেতুয়া মাদ্রাসা, রহমানিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসাসহ অন্তত ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পারাপার হচ্ছে।

সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হলে বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া, তারাখোঁ, চুড়ামণি, গড়াভাঙ্গা ও হাতিমারা এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, বনাঞ্চল ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবাখাতে ব্যাপক সুবিধা সৃষ্টি হবে। সেতুটির পাশেই রয়েছে তারাখোঁ বন বিট, ফলে বন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনাতেও সহজ হবে।

এ বিষয়ে দাঁতমারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, “সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “দাঁতমারা ইউনিয়নের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। সামনের বর্ষায় পানির স্রোত বৃদ্ধি পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

এলাকাবাসীর দাবি, ইতিহাস, জনদুর্ভোগ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে গজারিয়া খালের ওপর একটি নতুন আধুনিক সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।