মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা
ছবি সংগৃহীত।

মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন, কারখানা, রেস্তোরাঁ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে আটক হচ্ছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। এমতাবস্থায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান ঘিরে আতঙ্ক বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে।

বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া কিংবা কাজের অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন অনেক কর্মী। পরিবারের ভরণপোষণ, ঋণের বোঝা আর দেশে স্বজনদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু সামলে যারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের অনেকের জীবনেই এখন অনিশ্চয়তার ছায়া।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজার ১১০টি অভিযানে ৬৫ হাজার ৬৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এ সময়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৩ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে। আর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫৯৭ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ পরিসংখ্যান মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের ব্যাপকতা তুলে ধরলেও বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কতজন আটক ও প্রত্যাবাসিত হয়েছেন, সামগ্রিক হিসাবে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই।

অভিযানের তীব্রতা বোঝা যায় অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের পরিসংখ্যানে। ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনে ২৫২টি অভিযান পরিচালনা করে ৪ হাজার ৯০৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় ২ হাজার ১৫৬ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫১ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বলছে, বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতি না থাকা, ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করা এবং অনুমোদিত শর্তের বাইরে কাজ করা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অন্যতম কারণ। সামাজিক ভ্রমণ ভিসায় প্রবেশ করে বৈধ কর্মানুমতি ছাড়া কাজ করাও অপরাধের আওতায় পড়ে।

ফলে শুধু অবৈধভাবে প্রবেশ করলেই নয়, বৈধভাবে প্রবেশের পর ভিসা বা কর্মানুমতির শর্ত ভঙ্গ করলেও আটক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

অভিযানের জালে বাংলাদেশিরাও
মালয়েশিয়ায় এর আগের অভিযানগুলোতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৬৪ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

এ ছাড়া ৮ অক্টোবর সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান ও বান্দার বারু ক্লাং এলাকায় অভিযানে ৩০৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করে ১৭৪ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন। ওই অভিযানে ছয়জন স্থানীয় নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়।

এসব ঘটনা দেখাচ্ছে, অভিবাসনবিরোধী অভিযান এখন নির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা খাতে সীমাবদ্ধ নেই। নির্মাণশিল্প, উৎপাদন, কৃষি, সেবাখাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই নজরদারি বাড়ছে।

নিয়োগকর্তাদেরও ছাড় নেই
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে শুধু বিদেশি কর্মীদের আটক নয়, তাদের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করার তথ্য তারই ইঙ্গিত দেয়।

অভিবাসন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫০ রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশি অভিবাসীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৭১ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ রিঙ্গিত।

এদিকে মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দিতে পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’ এর আওতায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ১২ হাজার ১৪৬ জন নিবন্ধন করেছেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৪০ রিঙ্গিত।

তবে কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সংখ্যা মানেই সবাই দেশে ফিরে গেছেন এমন নয়। নিবন্ধন, জরিমানা পরিশোধ এবং প্রকৃত প্রত্যাবাসনের হিসাব আলাদা। তাই কর্মসূচির আওতায় কতজন বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন এবং কতজন দেশে ফিরেছেন, তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অবৈধতার দায় কার?
মালয়েশিয়ায় অভিবাসনসংক্রান্ত সংকটের পেছনে শুধু কর্মীদের আইন না মানার বিষয়টি দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব, দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া এবং কর্মানুমতির জটিলতাও অনেককে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়।

কিছু কর্মী মধ্যস্থতাকারীদের আশ্বাসে বিদেশে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ, বেতন কিংবা বৈধ কাগজপত্র পান না। কারও নিয়োগকর্তা কর্মানুমতি নবায়নে গড়িমসি করেন, আবার কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরার খরচ জোগাড় করতে না পেরে অনিশ্চিত অবস্থায় থেকে যান। তবে এসব কারণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পৃথক যাচাই প্রয়োজন; সব কর্মীর পরিস্থিতি এক নয়।

একইভাবে আটক হওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে একই অর্থে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করাও ঠিক নয়। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হতে পারে, কারও নথিপত্রে ত্রুটি থাকতে পারে, আবার কারও বিরুদ্ধে অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকতে পারে। অভিযোগের ধরন ও ব্যক্তির নথি যাচাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।


কর্মী নিয়োগের আগে বৈধ কর্মানুমতি যাচাই, অনুমোদিত শর্ত মেনে কাজ করানো এবং আইনগত দায়িত্ব পালন করা নিয়োগকর্তারও কর্তব্য। অবৈধ নিয়োগে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রতারণাকারী মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন।

বৈধতা যাচাইয়ে অবহেলা নয়
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের নিজেদের পাসপোর্ট, ভিসা ও কর্মানুমতির মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করতে হবে। নিয়োগকর্তা বা মধ্যস্থতাকারীর আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি। কাগজপত্রের সমস্যা দেখা দিলে দালালের কাছে নতুন করে অর্থ না দিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তাদেরও সব নথির মেয়াদ ও অনুমোদিত কাজের শর্ত পরীক্ষা করতে হবে। আর যারা অনিয়মিত অবস্থায় পড়ে গেছেন, তাদের জন্য প্রযোজ্য প্রত্যাবাসন কর্মসূচির শর্ত, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেউ হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী কমিউনিটি নেতা বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল থাকে দেশের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা। অথচ বিদেশে এসে কেউ যদি প্রতারণা, অনিয়মিত নিয়োগ কিংবা কাগজপত্রের জটিলতায় পড়েন, তার দায় শুধু ওই কর্মীর ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালেই থেকে যায়।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ নিয়োগপত্র, ভিসা ও কর্মানুমতি যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা, প্রতারণাকারী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংকটে পড়া কর্মীদের জন্য দ্রুত আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় প্রতারণার শিকার কর্মী, বৈধ কাগজপত্রধারী শ্রমিক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এখন প্রয়োজন শুধু অভিযান নয়, বরং অবৈধতার উৎস বন্ধ করা এবং বৈধ অভিবাসনের পথ আরও নিরাপদ করা।




আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী মা-ছেলের মৃত্যু, হাসপাতালে বাবা

আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী মা-ছেলের মৃত্যু, হাসপাতালে বাবা
ছবি সংগৃহীত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত নারীর স্বামী। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি জব্দ করে চালককে আটক করেছে আবুধাবি পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন অসীমা চৌধুরী (৪৮) ও তাঁর একমাত্র ছেলে অরিত্র বিশ্বাস (১৫)। আহত হয়েছেন অসীমার স্বামী সৌরভ বিশ্বাস। তাঁদের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব কধুরখীল গ্রামে।

সোমবার রাতে আবুধাবির উপকণ্ঠের আল ওয়াথবা এলাকায় আবুধাবি-আল আইন রোডের এক্সিট-৪৭ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বন্ধু ও আবুধাবি প্রবাসী সংগঠক সজল চৌধুরী জানান, সৌরভ বিশ্বাস টয়োটা ইয়ারিস গাড়ি চালিয়ে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি নিশান সাফারি গাড়ি তাঁদের গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনায় গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই অসীমা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে অরিত্রের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আবুধাবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মাফরাক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সৌরভ বিশ্বাসকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আবুধাবি প্রবাসী সাংবাদিক সঞ্জিত শীল জানান, প্রকৌশলী সৌরভ বিশ্বাস প্রায় ২৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে আবুধাবিতে বসবাস করছেন। সেখানে তাঁর নির্মাণব্যবসা রয়েছে। অসীমা চৌধুরী আবুধাবির একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সংগীতচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দম্পতির একটি একমাত্র মেয়েও রয়েছে। তিনি দুবাইয়ের নলেজ ভিলেজের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

বর্তমানে নিহত মা ও ছেলের মরদেহ আবুধাবির বানিয়াস সেন্ট্রাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




আবুধাবিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা, কৃতীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান

আবুধাবিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা, কৃতীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান
ছবি সংগৃহীত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও শিক্ষাগত সাফল্যকে উৎসাহিত করতে বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিল্পচর্চা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুলের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আমিরাতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আই লাভ বাংলাদেশ, আই লাভ ইউএই’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আর্থিক পুরস্কার এবং চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক বৃত্তি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ।

তিনি বলেন, “আমিরাতের মাটিতে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশুরা শিকড়ে বাংলাদেশি হয়ে স্বগর্বে লাল-সবুজের ঐতিহ্য ধারণ করবে এবং আমিরাতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিয়ে বড় হবে—এটাই প্রত্যাশা।”

বিজয়ী শিশুশিল্পী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের মূল শক্তি হলো মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য। এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও শিক্ষাগত অর্জনের যথাযথ স্বীকৃতি তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগায়। শিশু-কিশোরদের শিল্পচর্চা ও মেধার বিকাশ একটি সচেতন, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি স্বাগতিক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও গভীর করবে।

প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও আন্তসাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন বক্তারা।




শারজায় ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু, বাবাহারা দুই কন্যাশিশু

শারজায় ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু, বাবাহারা দুই কন্যাশিশু
ছবি সংগৃহীত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ আবু জাহেদ (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা। বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর ১০ ও ৩ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশু। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের রাউজানে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত আবু জাহেদ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিংগলা গ্রামের মফজল ডাক্তার বাড়ির মৃত মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। তাঁর দুই মেয়ে জেরিন আকতার (১০) ও আফরিন আকতার (৩)।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, রাউজান কলেজে পড়াশোনা শেষ করে আবু জাহেদ রাউজান উপজেলা সদরের ফকিরহাট বাজারে টেলিকম ব্যবসা শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে ২০০৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে দুবাই ও শারজাহ এলাকায় বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। সর্বশেষ শারজাহর একটি গ্রোসারিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০২৫ সালে ছুটিতে দেশে ফেরেন আবু জাহেদ। কয়েক মাস পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আবারও আরব আমিরাতে ফিরে যান। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার এক মাসের মাথায় তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।

স্বজনদের দাবি, শনিবার রাতে শারজাহর যে বাসায় আবু জাহেদ ঘুমিয়ে ছিলেন, তার পাশের কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়ায় ঘুমের মধ্যেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। প্রিয়জনের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। বিশেষ করে অল্প বয়সী দুই মেয়েকে রেখে বাবার চিরবিদায়ের ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাবার হাত ধরে বেড়ে ওঠার কথা ছিল দুই শিশুর, সেই বাবার আর কখনো ফিরে না আসার বাস্তবতা মেনে নেওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

এদিকে আবু জাহেদের মৃত্যুর সংবাদে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্ধু মো. আবছার, আলমগীর হোসেন ও আবু হানিফ জানান, স্কুল-কলেজজীবন থেকেই জাহেদ বন্ধুমহলে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিলেন। দেশে ছুটিতে এলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও আড্ডায় মেতে উঠতেন তিনি। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।

মৃত্যুকালে আবু জাহেদ স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।