মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন : চ্যালেঞ্জ করে রিট
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন : চ্যালেঞ্জ করে রিট

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন : চ্যালেঞ্জ করে রিট
ছবি সংগৃহীত।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) ব্যারিস্টার নাজিবুর মোমেন এমপিসহ জামায়াতের বিভিন্ন আসনের ১১ এমপি এ রিট দায়ের করেন।

বিস্তারিত আসছে...




শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর
ছবি সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে আর সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তিনি যেকোনো কারণেই হোক দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না। আপিলও করেননি। আমাদের আইনে ২১-এর ৩-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। যদি এর মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারো ক্ষেত্রেই হোক। পলাতক বা কারাগারে থাকলেও ৩০ দিনের মধ্যে আপিল ফাইল করতে হবে। অর্থাৎ সেটা হোক শেখ হাসিনার কিংবা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমি এসব আইন দেখিয়েছি। এছাড়া মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিলটি এখনও গ্রহণই করেননি আপিল বিভাগ। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে এখন কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই। আমার মনে হয় আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কেউ যদি আপিল না করেন, তাহলে অন্য কোনো ফোরামেও আর আইনগত প্রতিকার চাওয়ার উপায় থাকবে না। অতএব ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পরিপ্রক্ষিতে যদি ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার। এটি সরকারের একটা ইনহেরেন্ট পাওয়ার তথা অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা। তারা যে কারো ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতে পারে আবার কারো ক্ষেত্রে নাও করতে পারে। এটা সরকারের ইচ্ছা। 




ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় আগামী সপ্তাহে হতে পারে: চিফ প্রসিকিউটর

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় আগামী সপ্তাহে হতে পারে: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি সংগৃহীত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির রায় আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ১৭ আগস্ট এ মামলার শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে
রায় অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


এ মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও আইনজীবী ইসরাত জাহান।

প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।

একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।




শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
ছবি সংগৃহীত।

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কু্দ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের দিন পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়।

গত ২৪ আগস্ট আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।